জাতিবৈচিত্র্যকে অস্বীকার করা যাবে না

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৯ জুলাই , ২০১৩ সময় ০৩:৩০ অপরাহ্ণ

আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহবায়ক রাশেদ খান মেনন এমপি বলেছেন, ‘আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক-ভাষাগত seminar-bg20130709032033সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিচয় রয়েছে। তাদের এ জাতিবৈচিত্র্যকে অস্বীকার করা যাবে না। আদিবাসীদের বাদ দিয়ে জাতীয় অগ্রগতি কোনো ভাবে সম্ভব নয়।’

‘বাংলাদেশ আদিবাসী অধিকার আইন’ নিয়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক মতবিনিময় সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাস মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মঈনউদ্দীন খান বাদলের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক আবুল মোমেন।

সভায় ‘বাংলাদেশ আদিবাসী অধিকার আইন,২০১২’ এর খসড়া উপস্থাপন করেন পার্বত্য জেলা আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য গৌতম কুমার চাকমা।

গবেষণা ও উন্নয়ন কালেকটিভের সাধারণ সম্পাদক জান্নাত-এ-ফেরদৌসীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য কে এস মং ও জনসংহতি সমিতির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মঙ্গল কুমার চাকমা।

প্রধান আলোচকের বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, ‘সাংবিধানিক স্বীকৃতির মধ্যে দিয়ে আদিবাসীদের অধিকার প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োগের দিক থেকে তাদের আইনের সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। তাই তাদের সুরক্ষার জন্য এ আইন প্রস্তাব করা হয়েছে। এ আইন বাস্তবায়নে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

ক্ষমতাসীন মহাজোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মতবিনিময় সভায় আরও বলেন, ‘পার্বত্য অঞ্চলের মত সমতলেও আদিবাসীদেরকে তাদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এতে তাদের সাংস্কৃতিক-ভাষাগত সাংস্কৃতিক পরিচয় বিলীন হচ্ছে। দেশের অগ্রগতির প্রশ্নে সম্মিলিতভাবে এ বিষয়টি সমাধান করতে হবে।’

বিশিষ্ট বাম রাজনীতিবিদ রাশেদ খান মেনন অভিযোগ করেছেন, বিএনপি এর তরফ থেকে শান্তিচুক্তি বাতিলের দাবি ছিল। এছাড়া শান্তিচুক্তির বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নের সময় পার্বত্য অঞ্চলে হরতাল-অবরোধের মত আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হচ্ছে।

মতবিনিময় সভাপতির বক্তব্যে জাসদের কার্যকরী কমিটির সভাপতি মঈনউদ্দিন খান বাদল এমপি বলেন, ‘অত্যন্ত কমসংখ্যক আদিবাসীর গণতান্ত্রিক অধিকার, ভূমি অধিকার, সাংস্কৃতিক অধিকার এবং মানুষের মত বেঁচে থাকার ঐতিহ্যগত অধিকার যদি নিশ্চিত করা না যায়, তবে গণতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ হবে।’

পৃথিবীকে আকর্ষণের জন্য বিজ্ঞাপনে আদিবাসীদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রচার করা হলেও তার মূলে থাকা মানুষদের অধিকার বাস্তবায়নে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া দ্বিচারিতার সামিল। এ দ্বিচারিতা কোনো সরকারের জন্য কল্যাণজনক নয় বলে মন্তব্য করেন বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ। তিনি বলেন, ‘অপমানিত মানুষ যখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে যায়, তখন সে দেবতা হয়ে যায়।’

পার্বত্য অঞ্চলের আদিবাসিদের অধিকার বাস্তবায়নে পুরনো ভুল আবার না করার আহবান জানান মঈনউদ্দিন খান বাদল এমপি।

কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, ‘১৯৪৭ এর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সহায়-সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে এ বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তবে সংখ্যাগুরুরা সংখ্যলঘুদের এ বেদনা উপলব্ধি করে না।’

চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষদের নিয়ে এসে সেখানে ‘সাংস্কৃতিক সংকট’ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এ বুদ্ধিজীবী। তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা লোকজন পার্বত্য অঞ্চলের ভূমি দখল করে বনভূমির উপর হস্তক্ষেপ করেছেন। আদিবাসীদের সঙ্গে সংখ্যাগুরুর সংঘাতের বড় জায়গা হচ্ছে ‘ভূমি’। তাই এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে।’’

আদিবাসী অধিকার আইন প্রসঙ্গে সভার দু’আলোচক বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ ধরণের মহতী উদ্যোগ আলোর মুখ দেখবে।’ এজন্য পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন সংসদ সদস্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কামনা করেন তারা।

আদিবাসী সংক্রান্ত কোনো উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করার আগে তাদের সম্মতি নেওয়ার বিষয়ে জোর দেন আলোচকরা। এছাড়া তারা চট্টগ্রাম নগরীতে এ ধরনের মতবিনিময় সভার আয়োজন না করে পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সভা করার পরামর্শ দেন।

মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন,চট্টগ্রামের সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, এডভোকেট বাচিং থোয়াই ও প্রকৃতি রঞ্জন চাকমা প্রমুখ।