জাতিগত প্রতিহিংসার শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৮ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ০৯:১৩ অপরাহ্ণ

আহলে সুন্নাত ওয়াল জমা’আত সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আল্লামা এম এ মতিন মিয়ানমারে সরকারী বাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগত নিধনের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গারা বর্তমান বিশ্বের সবচেযে নির্যাতিত ও রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা পুরুষদের হত্যা করছে, শিশুদের জবাই করছে, নারীদের ধর্ষণ করছে, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ এবং লুঠতরাজ চালাচ্ছে। ইসলাম ধর্মাবলম্বী হওয়ার অপরাধে জাতিগত প্রতিহিংসার শিকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। সভ্যতার এ যুগে রাষ্ট্রিয় মদদে নিষ্ঠুর বর্বরতা ও নারকীয় সন্ত্রাস মেনে নেওয়া যায় না। তাই বর্তমানে রোহিঙ্গাদের রক্ষায় মিয়ানমারে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ ও জাতিসংঘের সামরিক হস্তক্ষেপ জরুরি। তিনি বলেন, মুসলমানদের রক্তের উপর দাঁড়ানো মিয়ানমারের নেত্রী অংসান সূচির প্রতি ভারতের মত একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্লজ্জ সমর্থনে বিশ্ব বিবেক হতবাক হয়েছে। এর ফলে মিয়ানমার সরকারকে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করবে এবং তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনেও উৎসাহিত করবে। তিনি আরো বলেন, ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৪৩০ থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ২২ হাজার বর্গমাইল আয়তনের রোহাঙ্গা (আরাকান) স্বাধীন রাজ্য ছিল। রোহিঙ্গারা এ রাজ্যের স্থায়ী নাগরিক। মিয়ানমারের রাজা বোদাওফায়া এ রাজ্য দখল করার পর চরম বৌদ্ধ আধিপত্য শুরু হয়। পরবর্তীতে অন্যায়ভাবে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। বাংলাদেশ আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সোচ্চার হতে হবে।
মিয়ানমারে নির্বিচারে মুসলিম গণহত্যার প্রতিবাদে আজ ৮ সেপ্টেম্বর বাদে জুমা চট্টগ্রাম লালদীঘি মসজিদ চত্বরে আহলে সুন্নাত ওয়াল জমাআত কেন্দ্রিয় সমন্বয় কমিটি ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা এম এ মতিন এসব কথা বলেন। আহলে সুন্নাতের সদস্য সচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার এর সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, আল্লামা আবু সুফিয়ান আবেদী আল কাদেরী, উপাধ্যক্ষ আল্লামা জুলফিকার আলী চৌধুরী, পীরজাদা আল্লামা মাজহারুল আলম নিজামী, আল্লামা ড. সৈয়দ জালাল উদ্দীন আল-আজহারী, এড. মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আল্লামা গোলাম মোস্তফা মোহাম্মদ নুরন্নবী, অধ্যক্ষ আবু তালেব বেলাল, মাওলানা রেজাউল করিম তালুকদার, মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী, সৈয়দ মুহাম্মদ হোসাইন, মাওলানা গাজী মনজুরুল করিম রেফায়ী, আবু নাসের তৈয়ব আলী, নাসির উদ্দীন মাহমুদ, মাষ্টার আবুল হোসেন, মুহাম্মদ শফিউল আলম চৌধুরী, মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান হাবিবী, মো. ফজলুল করিম তালুকদার, মুহাম্মদ মুজিবুর রহমান, মুহাম্মদ ফোরকানুল আলম চৌধুরী, আলহাজ্ব মো. ফোরকান রেজা, জসিম উদ্দিন সিদ্দিকী, সৈয়দ মুহাম্মদ আবু আজম, মুহাম্মদ নুরুল হক চিশতি, মুহাম্মদ শফিউল আলম শফি, মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, হাবিবুল মোস্তফা ছিদ্দিকী, আবদুল করিম সেলিম, জি.এম শাহাদত হোছাইন মানিক, নুরুল্লাহ রায়হান খান, ইমরান হুসাইন তুষার, সৈয়দ মুহাম্মদ খোবাইব, মুহাম্মদ ফরিদুল ইসলাম, মুহাম্মদ রিয়াজ হোসাইন, এম. সাইফুল ইসলাম নিজামী, মুহাম্মদ মাছুমুর রশীদ কাদেরী, মুহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রমুখ। আহলে সুন্নাত সদস্য সচিব এডভোকেট মোছাহেব উদ্দীন বখতিয়ার বলেন, রোহিঙ্গাদের উপর চলমান পাশবিক নির্যাতন বন্ধ ও স্থায়ি সমাধান না হলে এ অঞ্চলে উগ্রবাদীরা সুযোগ নিতে পারে। রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে আন্তর্জাতিক কনভেনশন আহ্বান করে অবিলম্বে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে ব্যবস্থা করতে হবে। বক্তারা বলেন, ‘অহিংসা পরম ধর্ম ও জীব হত্যা মহাপাপ’ যে ধর্মের মর্মবাণী। তাদের কর্তৃক নির্বিচারে মানবহত্যা অধর্মের শামিল। রোহিঙ্গাদের মুসলমান হিসেবে না দেখে অন্তত মানুষ হিসেবে তাদের বাঁচার অধিকার দিতে হবে। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ন প্রদক্ষিণ করে।