জাইকার শত কোটি টাকা পোশাক কারখানার উন্নয়নে

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১২ জুলাই , ২০১৩ সময় ১১:১১ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)। jicaবাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় জাইকার ৪১৫ কোটি টাকার তহবিল থেকে এই টাকা ব্যবহার করা হবে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আয়েজিত এক সভায় এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান। সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাপানের রাষ্ট্রদূত শিরো স্যাদোশিমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত সচিব ড. খন্দকার সাখাওয়াত হোসেন ও জাইকা বাংলাদেশের প্রধান প্রতিনিধি ড. তাকাও তোদা। ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ আজিম ও বিকেএমইএ-র পরিচালক মোস্তফা জামান পাশা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর মোঃ আবুল কাসেম। সঞ্চালনা করেন এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ চৌধুরী।

এসময় ড. আতিউর রহমান বলেন, তৈরি পোশাক একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এটি আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এ খাত কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা আয়, দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই এ খাতের গুরুত্ব অনেক। কাজেই এ খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

শিরো স্যাদোশিমা বলেন, বাংলাদেশের পোশাক কারখানাগুলোর ভবনের মানউন্নয়ন হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে জাপান সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে। তবে অন্য উন্নয়ন সহযোগীদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তাকাও তোদা বলেন, ভবনগুলোর মান্নোনয়নের পাশাপাশি এগুলো মনিটরিংয়ের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এ ঋণের অর্থ বিতরণ করা হবে। দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেটে (৫ শতাংশ সুদ) এই তহবিল পাবে এবং ভুক্তভোগী কারখানার মালিকদের কাছে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদ নিতে পারবে।

এ ঋণের জন্য কেবল ঝুঁকিপূর্ণ কারখানার মালিকরাই আবেদন করতে পারবে। যেসব পোশাক কল সত্যিকার অর্থে ঝুঁকিপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে সেসব পোশাক কারখানার মালিকরাই কেবল এ ঋণ সুবিধা নিতে পারবেন। এক্ষেত্রে একজন কারখানার মালিক সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা পাবেন। আগে আবেদন করলে আগে পাবেন এই পদ্ধতিতে তহবিলের অর্থ ছাড় করা হবে। তবে ঋণ বিতরণের আগে জাইকা নিজ উদ্যোগে বিশেষজ্ঞ দিয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানাটি পর্যবেক্ষণ করে দেখবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই ঋণ দেয়া হবে। গত মে’তে তৈরি পোশাক খাতের ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোর উন্নয়ন কাজে জাইকা বাংলাদেশকে এ তহবিল দেয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এরপর বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মতামত নেয়া হয়। মতামত নেয়া হয় বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর। ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ মোট ১৫ বছরে ঋণের টাকা পরিশোধের সময় পাবেন কারখানার মালিকরা।