জসিম মেম্বারের প্রতারনার জালে শত শত মানুষর

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৪ জুন , ২০১৬ সময় ১১:১৪ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম রাউজানঃরাউজানের পশ্চিম গুজরায় জসিম উদ্দিন নামে এক ইউপি সদস্যের প্রতারনার শিকারে এখন সর্বশান্ত অনেকে। স্থানীয় জনসাধারণ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংবাদিক, সুশিল সমাজের লোকজনও বহুমুখি প্রতারনার শিকার হয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
জানা যায়, উপজেলার পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন (৫৫) বিগত সময়ে দাপট দেখিয়ে ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়। এতে বিভিন্ন জন থেকে নানাভাবে প্রতারনা ও টাকা হাতিয়ে নিয়ে নেয়। এই সময় প্রতারিত ব্যক্তিরা তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু করতে চাইলেও ভয়ে সাহস পেত না। কেউ করতে চাইলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিসহ নানাভাবে হয়রানি করত। এমনকি সম্প্রতি থানা পুলিশ হাতে নাতে মদসহ আটক করলেও তিনদিনের মাথায় তিনি জেল থেকে রেরিয়ে আসেন। তবে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়। তবে এই ইউপি সদস্যের সবচেয়ে বড় কৌশল হচ্ছে রাজনৈতিক ভোল পাল্টানো। সে কখনো নিজেকে জামাতের নেতা, কখনো বিএনপি নেতা বা কখনো আওয়ামীলীগের হয়ে পরিচয় দিয়ে থাকে। এতে সাধারণ মানুষ ভয়বিটস্থ হয়ে পড়ে। তবে আওয়ামীলীগের দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি বহুবার আওয়ামীলীগে আসতে চাইলেও তাকে নেওয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি তার চাচা থেকে পাওয়ার অব এটর্নি নামে একটি ভিটি বাড়ি নিয়ে গোপনে বিক্রি করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। যেটি বিক্রির নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বায়না নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে এইসব বিষয় জানাজানি হলে ঘটনাটি নিয়ে সম্প্রতি ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবুদ্দিন আরিফ, বদুমুন্সিপাড়া সমাজ কল্যাণ সমিতির সভাপতি এমএস আজম খানসহ গন্যমান্য ব্যক্তি নিয়ে একটি সালিশী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিষয়টি তিনি প্রথমে আড়াল করে রাখলেও পরে দলিলের মাধ্যমে সেই প্রতারনার ফাদের বিষয়টি প্রকাশ পায়। পরবর্তিতে তিনি ক্ষমা চেয়ে একাধিক ব্যক্তির থেকে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার অঙ্গিকার করলেও এখন তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এতে একাধিক পাওনাদার ব্যক্তির মাঝে নেমে এসেছে চরম হতাশা। এসব প্রতারনা থেকে রেহাই পেতে তার ভিটি পর্যন্ত বায়না করে রেখে মো.খালেদ নামে এক ব্যক্তির কাছে। অন্যদিকে এলাকার ইউপি সদস্য নাছির উদ্দিন সোহেল বলেন, সে সকলকে ইউনিয়নের কালসারাল পার্কস্থ একটি জায়গা বিক্রি করে টাকা দেওয়ার কথা বলওে সে কখনো এই সম্পত্ত্বি পাবে না। যেটি হাস্যত্বক ছাড়া আর কিছু নয়। এলাকার লোকজন জানান, এলাকার মানুষের সাথে প্রতারনা করেন নি এমন কোন কাজ নেই। যার দরুন এই সবনিয়ে এখন তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
এ বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন জায়গার দেওয়ার নামে বিভিন্ন মানুষের কাছে বিক্রির কথা স্বীকার করে বলেন, মানুষের পাওনা টাকা আমার একটি মামলাধিন সম্পত্ত্বি বিক্রি করে দিয়ে দিব। এতে কয়েক ব্যক্তিকে এই অঙ্গীকারে চেকও প্রদান করেছি।
বিষয়টি নিয়ে পশ্চিম গুজরা ইউপি চেয়ারম্যান লায়ন সাহাবুদ্দিন আরিফ বলেন, সে এলাকায় একজন প্রতারক হিসেবে পরিচিত। সে বিগত সময়ে মেম্বার নির্বাচিত হলেও তাকে ইউপি’র কোন কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সূযোগ দেওয়া হয়নি। তার প্রতারনার বিষয় গুলো এখন জনগণের মুখে মুখে হওয়ায় এবারের নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় ভেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণেরও সাহস পায়নি। তবে জায়গা নিয়ে যেসব মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তা তিনি দিবে বলে সালিশী বৈঠক চেকের মাধ্যমে অঙ্গীকার করেছে। এতে তিনি যনি কোন ব্যবস্থা না নিয়ে পালিয়ে বেড়ালেও তাকে খুজে এনে এ বিষয়ে শীঘ্রই একটি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।