জল নামলেই বরবটি, শশা, শীতের লাউ, মিষ্টি কুমড়ো

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২৭ জুন , ২০১৪ সময় ০৬:৫০ অপরাহ্ণ

শেখ সিরাজ>>
বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যা হয়েছে। আমন ধানের ক্ষতি হয়েছে। সবজি ফসলেরও হয়েছে ব্যাপক ক্ষতি। এবছর ঘন ঘন বর্ষা এবং বারবার নিম্নচাপের কারণে বরবটি, শশা, শীতের লাউ, মিষ্টি কুমড়োঅতিবৃষ্টির ফলে কৃষকরা ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বর্ষার মাচার সবজি শশা, ঝিঙা, বরবটি, উচ্ছে, করলা, পটল প্রভৃতি নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া বেগুন, লঙ্কা, ঢ্যাঁড়স, পুঁই, নটে প্রভৃতি শাকসবজিরও ভীষণভাবে ক্ষতি হয়েছে। ফলে সবজির দারুণ ঘাটতি। সবজি ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হওয়ায় কৃষকরা বিপন্ন। আর এ সময় বাজারদরও আকাশছোঁয়া। কৃষকদের জন্য ক্ষতির ধাক্কা সামলাতে কৃষিদপ্তর আরও বেশি বেশি করে সবজির জলদি চাষের পরামর্শ দিয়েছে। যে সমস্ত উঁচু জমির জল নেমে (সরে) গেছে সেখানে বরবটি, শশা, শীতের লাউ, মিষ্টি কুমড়ো প্রভৃতি চাষ করে বাজারজাত করতে পারলে কৃষকরা আর্থিক দিক থেকে একটু রেহাই পেতে পারেন। বাজারে সবজির ঘাটতি পূরণ হবে তাতে। অপেক্ষাকৃত উঁচু বেলে-দোঁয়াশ জমিতে ভাটি তৈরি করে শরৎ ও হেমন্তে বেগুন, টম্যাটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পালং, মূলা, ওলকপি প্রভৃতির জলদি চাষ করে বাজারে তুলতে পারলে ভাল দাম পাওয়া যাবে। প্রয়োজনে প্লাস্টিকের প্যাকেট চারা তৈরি করে মূল জমিতে চারা লাগানো যেতে পারে। এতে দুইদিক থেকে সুবিধা হবে। জমি আরও শুকনো ও সবজি চাষের উপযোগী হবে। অন্যদিকে চারাগুলির বয়স বাড়বে এবং সেগুলি তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠবে। জমিতে লাগানোর অল্পদিনের মধ্যেই লাউ, করলা, মিষ্টি কুমড়োগাছ মাচায় উঠে ফল দেবে। কপি, বীট, গাজর, টম্যাটো প্রভৃতির চারাও বাড়ির ছাদে কিংবা ঘেরা উঁচু জায়গায় পলিব্যাগে কিংবা কাঠের বাক্সে চারা তৈরি করলে চাষের সুবিধা হয়। যে সমস্ত এলাকা জলা নয় এমন জমির ধান নষ্ট হয়েছে সেইসব জমিতে আগেভাগে ডাল শস্যের চাষ করা যায়। বিভিন্ন উন্নত প্রজাতির মুগ, মুসুর, ছোলা, অড়হর, মটরশুঁটি প্রভৃতি ডালশস্যের জলদি চাষ করে ধানের বিকল্প ডাল চাষ করলে ভালো হয়। জলাজমির ধান যেখানে পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে সেই জমিতে পুনরায় অল্পদিনের বিকল্প ধান যেমন কলিঙ্গ-২, কলিঙ্গ-৩, কল্যাণী-২, হীরা, সোনা প্রভৃতি ধানের চাষ করা যে‍‌তে পারে। বিকল্প চাষের ব্যাপারে কৃষকরা কৃষি বিজ্ঞানীদের পরামর্শমতো বিভিন্ন সবজি ও ধানের বীজ নির্বাচন করে কৃষি আধিকারিকদের সহায়তা নিয়ে চাষ করলে যেমন তাড়াতাড়ি ফসল তুলতে পারবেন অন্যদিকে বন্যা ও অতি বৃষ্টিজনিত ক্ষতির কিছুটা লাঘব করতে পারবেন। সাধারণ মানুষের কিছুটা সুবিধে হবে বলে মনে হয়।


আরোও সংবাদ