জলের নগরী চট্টগ্রাম

প্রকাশ:| বুধবার, ৩১ মে , ২০১৭ সময় ০৮:০৯ অপরাহ্ণ

কেয়া চৌধুরী,  নিউজচিটাগাং:: ঘূর্ণিঝড় মোরার প্রভাবে মঙ্গলবার ও বুধবার অবিরাম বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চল। নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। রমজানে কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে অসম্ভব দূর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের ৪১ ওয়ার্ডের কোনো এলাকা বাকী নেই যে পানিতে ডুবেনি। সব ওয়ার্ডের পাহাড়ি ও উঁচু এলাকা শুধুমাত্র পানিমুক্ত। নিচু এলাকার এমন কোনো ভবন নেই পানিতে ডুবেনি। ডুবে গেছে বিভিন্ন অভিজাত বিপনি বিতানও।

বিশেষ করে চট্টগ্রামের সবচেয়ে নিচু এলাকা, বন্দর, পতেঙ্গা, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ, চান্দগাঁও, চকবাজার, মোহরা, ফরিদেও পাড়া, সমশেরপাড়া, বহদ্দারহাট, নাসিরাবাদ, কাট্টলী, নিউমার্কেট, মুরাদপুরসহ সব এলাকা পানিতে ডুবে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, ঘূর্ণিঝড় মোরা মঙ্গলবার ভোরে উপকুল অতিক্রম করার সময় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ছিল। ছিল দমকা হাওয়া। তাতে কিছু কাঁচাঘরবাড়ি ও গাছপালার ডালপালা ভাঙা ছাড়া তেমন আর ক্ষতি হয়নি। তবে রাতে অঝোর বর্ষণে নগরীর পুরো এলাকা ডুবে যাওয়ায় মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে মালামালের। ব্যবসা-বাণিজ্যেও আঘাত এসেছে।

চকবাজারের কাউন্সিলর সাইয়েদ গোলাম হায়দার বলেন, এটি কোনো জলাবদ্ধতা নয়। ভারী বর্ষণ আর সাগরের প্রবল জোয়ারের প্লাবন এটি। আল্লাহর রহমত যে, বুধবার ভোর ৫টা থেকে বৃষ্টি থেমেছে। পানিও কমতে শুরু করেছে। বৃষ্টি না হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি কমে যাবে।

এদিকে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহীন ইসলাম জানান, মোরা উপকুল অতিক্রম করার পরও বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল। তাই ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বরে আনা হয়েছিল।

তিনি জানান, মঙ্গলবার রাত সোয়া ১টা থেকে বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত ১৮৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। বুধবার আরো বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিকেলে সাগরে আবারো প্রবল জোয়ার সৃষ্টি হওয়ায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে চট্টগ্রাম নগরীর ২ থেকে ৩ ফুট পানির নীচে তলিয়ে গেছে।