জলের ওপর সবজি চাষ

প্রকাশ:| বুধবার, ১৬ জুলাই , ২০১৪ সময় ১১:৫৮ অপরাহ্ণ

জলের ওপর সবজি চাষদূর থেকে মনে হয় সবুজের গালিচা। জোয়ারের পানিতে ভাসছে, আর ভাটায় জেগে উঠছে। কৃষকরা বলেন, ‘ভাসমান’ বা ‘কচুরিপানার ধাপ’ পদ্ধতি। তবে মাটি ছাড়া পানিতে চাষাবাদের কেতাবি নাম ‘হাইড্রোপনিক পদ্ধতি’। বরিশাল জেলার বানারীপাড়া, আগৈলঝাড়া ও উজিরপুর, পিরোজপুরের নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠি উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে সবজি চাষ করছেন কৃষকরা। দেড় শ বছর হয়ে গেল।

বর্ষায় এসব এলাকার শত শত একর নিচু জমি জলে বন্দি থাকে। তাই বলে হাত গুটিয়ে তো বসে থাকা যায় না। কৃষকরা দিনের পর দিন দেখে, শুনে, বুঝে ‘ভাসমান’ বা ‘কচুরিপানার ধাপ’ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। জলাবদ্ধতার অভিশাপ পরিণত হলো আশীর্বাদে। ধারণা করা হয় পদ্ধতিটি প্রথম বের করেন নাজিরপুরের বৈঠাকাটার কৃষকরা। সেখানেই শুরু হয় ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ। শুষ্ক মৌসুমে জলাশয়ের পরিবর্তে খালে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে।

যেভাবে চাষ হয়

এ অঞ্চলের ধানি জমিতে বাংলা বছরের অগ্রহায়ণ থেকে বৈশাখ মাস পর্যন্ত বোরো ধানের চাষ হয়। এরপর আষাঢ় থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত সাত থেকে আট ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত থাকে এসব জমি। তাই এ সময়টায় এখানকার মানুষ বেকার হয়ে পড়েন। যেদিকে চোখ যায় শুধু পানি আর পানি। চার উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম বছরে প্রায় সাত থেকে আট মাস জলাবদ্ধ থাকে। জলাবদ্ধ পানিতে জন্ম নেওয়া জলজ উদ্ভিদ, কচুরিপানা, শ্যাওলা, দুলালীলতা ভাসমান পদ্ধতিতে তৈরি জৈবসার এ পদ্ধতির প্রধান উপকরণ।

আষাঢ় মাসে কচুরিপানা সংগ্রহ করে স্তূপ করা হয়। জলাভূমিতে প্রথমে কচুরিপানা এবং পর্যায়ক্রমে শ্যাওলা, কচুরিপানা ও দুলালীলতা স্তরে স্তরে সাজিয়ে দুই ফুট পুরু ধাপ বা ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়। ধাপে জৈব উপকরণ দ্রুত পচাতে ব্যবহার করা হয় সামান্য পরিমাণ ইউরিয়া সার। একেকটি ভাসমান ধাপ ৫০-৬০ মিটার দীর্ঘ ও দেড় মিটার প্রশস্ত হয়। সেসব ধাপ দ্রুত পচানোর জন্যও সামান্য পরিমাণ ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়।

এ ধাপ চাষের উপযোগী করতে সাত থেকে ১০ দিন প্রক্রিয়াধীন রাখতে হয়। ‘ভাসমান’ বা ধাপ পদ্ধতিতে সরাসরি বীজ বপন সম্ভব না হওয়ায় কৃষকরা প্রতিটি বীজের জন্য এক ধরনের আধার তৈরি করেন। তাঁরা এর নাম দিয়েছেন ‘দৌল্লা’। এক মুঠো করে টেপাপানা (ছোট কচুরিপানা), দুলালীলতার মধ্যে নারিকেল ছোবড়ার গুঁড়া দিয়ে তৈরি করা হয় দৌল্লা। শুধু নারীরাই ‘দৌল্লা’ তৈরির কাজ করেন।

ভাসমান কান্দিবেড়ে সবজি উৎপাদন

এ দৌল্লার মধ্যে বিভিন্ন সবজির অঙ্কুরিত বীজ পুঁতে মাচানে বা শুকনো জায়গায় রাখা হয়। এর আগে ভেজা জায়গায় বীজ অঙ্কুরিত করা হয়। দৌল্লাগুলো এভাবে তিন থেকে সাত দিন সারি করে রাখা হয়। ধাপে স্থানান্তরের পাঁচ-ছয় দিন পর গজানো চারার পরিচর্যা শুরু হয়। পাঁচ-ছয় দিন পর পর ‘ভাসমান’ ধাপের নিচের কচুরিপানার মূল বা শ্যাওলা দৌল্লার গোড়ায় বিছিয়ে দেওয়া হয়। এভাবেই বীজ থেকে লাউ, কুমড়া, করলা, ঝিঙে, শিম, বরবটি, পেঁপে, বেগুন, বাঁধাকপি, টমেটো ও শসার চারা উৎপাদন করা হয়।

একটি অঙ্কুর বীজতলায় রোপণ করার ২০ থেকে ২২ দিনের মাথায় পূর্ণবয়স্ক চারায় রূপান্তরিত হয়। এক সপ্তাহের মধ্যে কৃষক বা চারার পাইকারি ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে যান এসব চারা। জৈব সারে উৎপাদিত এসব চারার উৎপাদন খরচ পড়ে এক থেকে দেড় টাকা। এক হাজার চারা দুই হাজার ৫০০ টাকা থেকে তিন হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

শাক-সবজি বড় হলে চাষিরা ধাপ থেকে তুলে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করেন। পুরনো ধাপ কিনে কৃষকরা এর ওপর কুমড়া, শিম, পেঁপে, করলা, টমেটো, লাউ, লালশাক, পালংশাক, ডাঁটাশাক বা সাদাশাকের চাষ করে থাকেন।

ধাপের পুনর্ব্যবহার

ধাপের মেয়াদকাল সাধারণত তিন মাস। কিন্তু অঙ্কুর থেকে চারায় পরিণত হয় মাত্র ২০ থেকে ২২ দিনে। যে কারণে ধাপগুলো পুনরায় ব্যবহার করার জন্য সামান্য পরিবর্তন করতে হয়। তখন ৫০ মিটারের একটি ধাপের জন্য দুই হাজার থেকে দুই হাজার পাঁচ শ টাকা খরচ হয়। পুনরায় ধাপ প্রস্তুত না করে প্রথমবার ব্যবহৃত ধাপ আবার অন্য কৃষকের কাছে বিক্রিও করে দেওয়া যায়, যা এখানকার কৃষকরা প্রায় সময়ই করে থাকেন। প্রথমবার ব্যবহৃত ধাপ বিক্রি হয় দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকায়।

পেয়ারার হাট

পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি, বরিশালের বানারীপাড়া এবং ঝালকাঠি সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় দেশের সবচেয়ে বেশি পেয়ারা চাষ হয়। কান্দি (নালা) কেটে উঁচু জমিতে সাধারণত পেয়ারা চাষ হয়।

সেচব্যবস্থা এবং পেয়ারা সংগ্রহের জন্য পেয়ারা বাগানের মধ্যে সারি সারি নালা তৈরি করা হয়। নালায় সব সময় পানি ধরে রাখা হয়। ওই নালায় নৌকা ভাসিয়ে চাষিরা বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করেন।

আয়-ব্যয়

প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিটারের একটি সারি, দল বা ধাপ তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় পাঁচ হাজার টাকা। এ ধরনের একটি ধাপ তৈরির জন্য একজন মানুষের ২৫০ টাকা মজুরি হিসেবে ছয় দিন আট বা দশ ঘণ্টা পরিশ্রম করতে হয়। ধাপের জন্য এক হাজার টাকার কচুরিপানা, এক হাজার টাকার দুলালীলতা, এক হাজার টাকার টেপাপোনার দরকার হয়।

এ জাতীয় চাষে একজন কৃষক শুধু একটি বেড় থেকে প্রথম ২০ থেকে ২২ দিনের মধ্যে আয় করেন দুই থেকে তিন হাজার টাকা। প্রতি ৫০ মিটার লম্বা ও এক মিটার চওড়া একটি ধাপে ছয় ইঞ্চি দূরত্ব করে একটি চারা রোপণ করলে একটি সারিতে মোট দুই হাজার ৪৫০টি চারা রোপণ করা যায়। প্রতি চারা পাইকারি তিন টাকা বিক্রি করা হয়। তাই প্রতিটি সারির চারা বিক্রিতে প্রায় দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা লাভ থাকে।

কর্মসংস্থান

নাজিরপুর ও স্বরূপকাঠি উপজেলার প্রায় তিন হাজার নারী শ্রমিক এ চারা উৎপাদনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। একজন নারী শ্রমিক প্রতিদিন গড়ে ২০০ টাকা আয় করেন। সরকারি স্বরূপকাঠি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী রুমানা বলেন, ‘কলেজের ক্লাস শেষে প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দৌল্লা তৈরি করি। এ সময় আমি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ দৌল্লা তৈরি করতে পারি। এ জন্য ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পাই, যা আমার পড়াশোনার কাজে ব্যয় করি।’ তাঁর মতো অনেক শিক্ষার্থী স্কুল বা কলেজ শেষে এ জাতীয় কাজ করেন। আরেক শিক্ষার্থী আসলাম বলেন, ‘জমিতে কাজ করে প্রতিদিন গড়ে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করি।

গ্রাম থেকে গ্রামে

নাজিরপুর উপজেলার এ গ্রাম থেকে ওই গ্রামে চাষাবাদ পদ্ধতির বিস্তার ঘটেছে। নাজিরপুরে প্রায় পাঁচ হাজার একর জমিতে ধাপ পদ্ধতিতে বিভিন্ন ধরনের সবজি চারা উৎপাদন করা হয়। তবে উপজেলার পদ্মডুবি, বিলডুমরিয়া, দেউলবাড়ি-দোবড়া, বেলুয়া, চিলতি, মনোহরপুর, মুগারঝোর, গাওখালী, কলারদোয়ানীয়া, সাচিয়া, মেদা, যুগিয়া, সোনাপুর, পুকুরিয়া, পেনাখালী, মিঠাপুকুর এলাকার জলাভূমিতে এ পদ্ধতিতে সবজি চাষ হয় সবচেয়ে বেশি। পর্যায়ক্রমে ভাসমান পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী স্বরূপকাঠি উপজেলার বলদিয়া, চামি, গগন এলাকায়। স্বরূপকাঠিতে প্রায় ১০০ একর জমিতে এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ হচ্ছে।

পিরোজপুরের নাজিরপুর আর স্বরূপকাঠি উপজেলার সীমান্তবর্তী বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি ইউনিয়নে এ পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে। পাশের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাশাইল, গোয়াইল ও ছোট বাশাইল গ্রামের নিচু ভূমিতে কচুরিপানায় ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষ হচ্ছে। এ ছাড়া আগৈলঝাড়া উপজেলার পাশের উজিরপুর উপজেলার সাতলা, বাগধা, জল্লা, পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি, ধারাবাশাইল, মাচারতারা, তালপুকুরিয়া, ডুমুরিয়া, তারাকান্দর, ছত্রকান্দা, পিঞ্জুরী, রামশীল, কলাবাড়ী, শুয়াগ্রাম, সাতুরিয়া, আলামদি, নারায়ণখানা, সাদুলনাপুর গ্রামের বাসিন্দারা ধাপের ওপর সবজি ও চারা চাষের ব্যবসা বেছে নিয়েছেন।

কৃষকদের কথা

ঝড় ও জলোচ্ছ্ব্বাস এ পদ্ধতির চাষাবাদে তেমন কোনো ক্ষতি করতে পারে না। তবে ভাসমান পদ্ধতিতে চাষাবাদে যেমনি রয়েছে সুবিধা, তেমনি রয়েছে বেশ কিছু সমস্যা। প্রধান সমস্যা সরকারি বীজের দোকান না থাকা, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব। এ ছাড়া মধ্যস্বত্বভোগীদের অধিক মুনাফা তো রয়েছেই। পাশাপাশি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা, প্রয়োজন অনুসারে বীজতলা তৈরির জন্য সার না পাওয়া এবং ঋণসুবিধা না থাকায় চাষিদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

বানারীপাড়া বিশারকান্দি ইউনিয়নের মরিচবুনিয়া, উমরেরপাড় গ্রামের রফিকুল ইসলাম, মো. রাসেল হাওলাদার, গাওখালীর বাচ্চু মৃধা, দেউলবাড়ি-দোবড়ার আজম শরীফসহ কয়েকজন চাষি জানান, এক মৌসুমে চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে একরে প্রায় ১০ হাজার টাকা লাভ থাকে। পানিবেষ্টিত এ অঞ্চলে ধাপ পদ্ধতির চাষে জড়িত চাষিদের সহজশর্তে ঋণ দিলে চাষাবাদের আরো বিস্তৃতি ঘটবে। মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। ওই সবজি চাষিরা আরো জানান, কৃষকদের অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাঁরা বেশি লাভবান হবেন।

উমরেরপাড় কৃষি উন্নয়ন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আ. ছালাম মোল্লা বলেন, পণ্য পরিবহনের জন্য উন্নত ব্যবস্থা চালুসহ এলাকায় একটি হিমাগার স্থাপনের দাবি আমাদের দীর্ঘদিনের। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) একটি বীজ বিক্রয় কেন্দ্র স্থাপন একান্ত জরুরি। পাশাপাশি কচুরিপানা সংকটের কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। তাই এ এলাকায় কচুরিপানা চাষাবাদ করার কৌশল উদ্ভাবন প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, কৃষি বিভাগ থেকে একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে সাধারণ চাষিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে তাঁরা এখন পর্যন্ত সমাধানের পথ খুঁজে দেননি।

বিশেষজ্ঞদের কথা

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মজিবুল হক মিয়া বলেন, ইতিহাস ঘেঁটে যতদূর সম্ভব জানা গেছে, নাজিরপুরের কৃষকরাই প্রথম ভাসমান পদ্ধতিতে চাষাবাদ পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছেন। তাও অন্তত দেড় শ বছর হবে। পর্যায়ক্রমে তা বানারীপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলায় এ পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়ে। ইতিমধ্যে ভাসমান পদ্ধতিতে চাষাবাদ প্রক্রিয়া বরিশাল বিভাগ থেকে সিলেট, যশোর, মানিকগঞ্জ ও সুনামগঞ্জে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলে এ পদ্ধতির চাষাবাদ আরো হওয়া প্রয়োজন। তিনি সীমাবদ্ধের কথা স্বীকার করে বলেন, বীজ আর কচুরিপানাই চাষাবাদ পদ্ধতি বিস্তারে অন্তরায়। এই দুটি বিষয় সুরাহা হলে পদ্ধতির আরো প্রসার ঘটবে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক আ ক ম মোস্তফা জামান বলেন, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে মাটির পরিবর্তে পানিতে গাছের প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান সরবরাহ করে সবজি উৎপাদনের এটি একটি কৌশল। এ পদ্ধতিতে সারা বছরই সবজি উৎপাদন করা সম্ভব। এতে রোগবালাই কম হয়। এমনকি কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। শহরে যাঁরা বাস করেন, এ পদ্ধতিতে চাষবাসে তাঁরাই বেশি সুফল পাবেন। এ পদ্ধতিতে টমেটো, বেগুন, শসা, মরিচ, শিম, গাদা ফুল, ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করা সম্ভব।


আরোও সংবাদ