জলিল টেক্সটাইল মিলস অধিগ্রহণ করেছে সরকার

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ১১:২৪ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটের জলিল টেক্সটাইল মিলস অধিগ্রহণ করেছে সরকার। শুক্রবার (০৬ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও পুলিশের উপস্থিতিতে মিলটির দখল বুঝে নিয়ে সরকারের পক্ষে বিটিএমসিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

মিলটি অধিগ্রহণের সময় উপস্থিত ছিলেন জলিল টেক্সটাইল মিলস্ ওয়ার্কস ইউনিয়নের সভাপতি মো. মছিউদদৌলা, সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি মো. সিদ্দিকসহ সিবিএ নেতারা।

উপস্থিত ছিলেন সীতাকুণ্ড উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সাবেরী, টিউসি চট্টগ্রাম জেলার কার্যকরী সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক দিলীপ নাথ, শ্রমিক নেতা রবিউল হোসেন প্রমুখ।

শ্রমিক নেতারা সরকারের এ পদক্ষেপকে শ্রমিক শ্রেণির আন্দোলনের বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম, স্থানীয় সাংসদ দিদারুল আলমের প্রতি ধন্যবাদ জানান। একই সাথে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ১ হাজার ৭৪ জন শ্রমিক কর্মচারীর নিরীক্ষিত হিসাব অনুযায়ী বকেয়া পাওনা প্রদান এবং অবিলম্বে মিল চালুর কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।

মো. মছিউদদৌলা জানান, ১৯৬২ সালে জলিল টেক্সটাইল মিলস্ প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্যক্তি মালিকানায় তখন মিলটির বিশেষ উন্নয়ন না হলেও ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করার পর উইভিং এবং ডাইং বিভাগ স্থাপনের মাধ্যমে মানসম্মত উৎপাদনের জন্য ৩ বার স্বর্ণপদক লাভ করে। লাভজনকভাবে পরিচালিত মিলটি বিরাষ্ট্রীয়করণ নীতিমালার আওতায় ১৯৮২ সালের ১৫ ডিসেম্বর মিলের সাবেক শেয়ার হোল্ডারদের নিকট হস্তান্তর করা হয়। মালিক পক্ষের মধ্যে অর্ন্তকলহের কারণে ১৯৯৭ সালে মিলটি বন্ধ হয়ে যায়। শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনের একপর্যায়ে তৎকালীন সরকার দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯৯৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর মিলটি অধিগ্রহণ করে। ওই দিন সরকার মিলের সাবেক ৪০ শতাংশ শেয়ার হোল্ডার সেলিম চৌধুরী গংদের সাথে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে মিলটি হস্তান্তর করে।

সেলিম চৌধুরী গং মাত্র ১২ লাখ ২২ হাজার টাকা প্রদান করে মিলটি অধিগ্রহণের পর হস্তান্তর চুক্তির ৩ নম্বর শর্তানুযায়ী সরকারি পাওনা ৪ নম্বর শর্তানুযায়ী ৬০ শতাংশ শেয়ার হোল্ডারদের ক্ষতিপূরণ ৫ ও ৬ নম্বর শর্তানুযায়ী শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ, ৮ নম্বর শর্তানুযায়ী ২০০০ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে মিল চালু, ১০ নম্বর শর্তানুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়, বস্ত্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রতিনিধি নিয়ে পরিচালনা পর্যষদ না করে চুক্তির সব শর্তই লঙ্ঘন করে। সুচতুরভাবে মালিকপক্ষ ২০০০ সালের শেষের দিকে নামমাত্র ১টি ইউনিট চালু করে পরবর্তীতে শ্রম আইন বহির্ভূতভাবে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউনিটটিও বন্ধ করে দেয়।

এ অবস্থায় ২০০৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় মালিকপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছয় মাসের মধ্যে মালিকপক্ষ মিল চালু না করলে হস্তান্তর চুক্তির ১৬ নম্বর শর্তানুযায়ী সরকার মিলটি অধিগ্রহণ করার ঘোষণা প্রদান করে। মালিকপক্ষ উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে ২০০৫ সালের ২০ নভেম্বর সরকারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মিলটি বন্ধ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখে। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী শ্রমিক-কর্মচারীরা বকেয়া পাওনা ও মিল চালুর দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছিল।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন শ্রমিক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা না পেয়ে এ পর্যন্ত ২৪০ জন শ্রমিক অনাহারে ও চিকিৎসার অভাবে মারা যায়। ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, যে সব শিল্প বেসরকারিকরণ করা হয়েছিল শর্ত লঙ্ঘিত হলে তা সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

এ সিদ্ধান্তের পর মিলের সিবিএ ইউনিয়নের দাবির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-পাহাড়তলী) এলাকার সাংসদ দিদারুল আলম বিশেষ উদ্যোগ নেন। মালিক পক্ষের দায়েরকৃত রিট মামলা সিবিএ ইউনিয়ন সরকারের সাথে পক্ষভুক্ত হয়ে পরিচালনা করে। ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট মালিক পক্ষের দায়েরকৃত রিট মামলা খারিজ করে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করে।


আরোও সংবাদ