জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২ নভেম্বর , ২০১৭ সময় ০৮:১৩ অপরাহ্ণ

জার্মানির বন শহরে আগামী ৬ নভেম্বর শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৩), শেষ হবে ১৭ নভেম্বর। এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান, পরিকল্পনা ও সার্বিক প্রস্তুতির বিষয় তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন,  জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।
তাই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব গুরুত্বপূর্ণ। আগের মত এবারের সম্মেলনেও বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে। বাংলাদেশ আগে যা চেয়েছে, এবারও তা চাইবে। চাওয়া-পাওয়া মূখ্য বিষয় নয়, বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বটাই বড় কথা।
পরিবেশমন্ত্রী জানান, ‘কপ-২৩- তে তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের ২৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেবে। সম্মেলনের বিভিন্ন বৈঠক বা মিটিং অনুযায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্যরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আগে-পরে সেখানে যাবেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা মোকাবেলায় আমাদের নিজস্ব কিছু সক্ষমতাও আছে। গতবছর স্বাক্ষরিত প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কি পেয়েছে সেই হিসাব করার আগে আমাদের এটাও মনে রাখা দরকার যে-এই চুক্তির কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টাকা আসছে না তা-ও কিন্তু নয়, কাজেই হতাশ হবার কিছু নেই। এতগুলো দেশ একত্রে বসছে, সেখানে বাংলাদেশও প্রতিনিধিত্ব করছে-এটাও তো কম কথা নয়।
আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সবাই কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। কোথাও বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে, কোথাও খরা দেখা দিচ্ছে, কোথাও আবার অন্য সমস্যা। তিনি বলেন, এসব সম্মেলনের ফলে জ্ঞান অর্জন, সচেতনতা বৃদ্ধি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের উন্নয়নও কম অর্জন নয়। পরিবেশ ও বন; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি); বিদ্যুৎ, শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণসহ দেশের ৩৪টি মন্ত্রণালয়ই মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সম্পৃক্ত।
সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী বছরে এক বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ হবে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন দাতা সংস্থা, দেশ ও ব্যাংকগুলোকে সহানুভূতিশীল হতে হবে। ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল  ডেভেলপমেন্ট (ডিএফআইডি)-কেও সহানুভূতিশীল হওয়া দরকার। ইতোমধ্যে আমরা তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।
প্যারিস চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানো সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র কথা বলছে উন্নয়নশীল দেশের মতো। তাহলে তো আমাদের কথা বলতে হবে উন্নত দেশের মতো। এক সময় পৃথিবীতে ক্ষমতার ভারসাম্য ছিল, এখন সেটা নেই।’
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগেই বুঝতে পেরেছিলেন জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় শুধু আন্তর্জাতিক সহায়তার আশায় বসে থাকা ঠিক হবে না, এজন্য তিনি জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করেছেন, এই ফান্ডে এখন ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি রয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, বাংলাদেশের জন্য ‘কপ-২৩’ খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানও এখনও সুসংহত, সেই কারণে জলবায়ু সম্মেলনেও বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। উন্নত দেশগুলোর কারণে আমরা যে ক্ষতিগ্রস্ত সেটির ক্ষতিপূরণ পাওয়া আমাদের দাবি নয়, এটা আমাদের অধিকার। যাদের কারণে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত, তাদেরকেই এই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ৪৫ বছরের ইতিহাসে বাংলাদেশে এবার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসতিয়াক আহমদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা কারও একক বিষয় নয়, এটা বৈশ্বিক প্রচেষ্টা। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষত্রিগ্রস্ত।