জলদস্যুরা ফের বেপরোয়া: ৩ বাহিনীর কাছে জিম্মি ঘের চাষীরা

প্রকাশ:| সোমবার, ৯ অক্টোবর , ২০১৭ সময় ০৯:৩৭ অপরাহ্ণ

সেলিম উদ্দীন,ঈদগাঁও, কক্সবাজার প্রতিনিধি: চকরিয়া উপজেলার খুটাখালীর চিংড়ি জোন খ্যাত বহলতলীতে জল দস্যূরা ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ৩টি দস্যূ গ্রুফের কাছে জিম্মি ঘের চাষীরা। দস্যূদের অত্যাচারে চিংড়ি চাষীদের জীবন চলছে আতংকের মধ্যে। এমনিতেই চাষে বিপর্যয় তার উপর দস্যূদের দৌরাতেœ্য তাদের জীবন-জীবিকা বিপন্ন হয়ে উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুটাখালীতে একাধিক অত্যাধুনিক অস্ত্রসহ সশস্ত্র দস্যূ বাহিনী রয়েছে। ইউনিয়নের বহলতলী টটইঘোনা উপকূলের মহেশখালী চ্যানেলসহ মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত রয়েছে প্রায় কয়েক শতাধিক চিংড়ি চাষী। বৃষ্টি-বাদল, ঝড়-জলোচ্ছাস উপেক্ষা করে মাছ ধরতে যায় চাষীরা। কিন্তু দস্যূদের কবলে পড়ার আশংকা থাকে প্রতি মূহুর্তেই।
চিংড়ি চাষীদের অভিযোগ, জলদস্যূ কিংবা অন্য কোন বিপদের কবলে পড়ে চাষীদের পক্ষ থেকে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কোন সহযোগীতা করেন না। যার ফলে জল দস্যূরা উপকূলীয় সীমানায় গত ১ সপ্তাহ ধরে অপ্রতিরোধ্য। সম্প্রতি একের পর এক ঘের ডাকাতির ফলে চিংড়ি চাষীদের দিন কাটে আতংকে। স্থানীয় চাষীরা জানান, বহলতলীর চিলখালী,মসজিদ ঘাট,উত্তরের ঘোনা, হারুন মৌলভীর ঘোনা,মেধের ঘোনা, বাইলা ঘোনা,মাছের ঝুরা,পেট ভরাসহ সব কটি চিংড়ি ঘেরে ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। লুট করা হয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মাছ-জালসহ আসবাব পত্র।
চাষীদের অভিযোগ, জল দস্যূদের ব্যাপারে পুলিশকে জানালেও কোন কাজ হয়না বরং এ জন্য আরো দস্যূদের নির্যাতনের শিকার হতে হয়। তারা জানান, ঘেরে নিরাপত্তার জন্য পুলিশের কোন টহল নেই। মাছ ধরার আঁড়ালে অনেক বোট-নৌকা ব্যবহত হচ্ছে ডাকাতি কর্মকান্ডে। চিংড়ি ঘেরে এসব দস্যূ বাহিনীর কর্মকান্ডে দিশাহারা হয়ে বিভিন্ন সময়ে চাষীরা মিছিল সমাবেশও করেছেন। তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে প্রায় ১০টি ঘেরের কয়েক শতাধিক চিংড়ি চাষী। ঘের সংশ্লিষদের নিরাপত্তা দিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।
সুত্র জানায়, ইউনিয়নের পিলখালী থেকে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ভোরে ১৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৩০ রাউন্ড গুলিসহ তিনজনকে গ্রেফতারের পর ডাকাতরা তাদের তান্ডবলীলা অব্যহত রেখেছে। গ্রেফতাকৃতদের থানায় সোপর্দের পর পুলিশ প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে আসল পরিচয় দেয় তারা। শেষ পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে (১৯৪৬ সনের বৈদেশিক নাগরিক সম্পর্কিত আইনের ১৪ ধারা) আরেকটি মামলা রুজু করা হয়। গ্রেপ্তার তিন রোহিঙ্গা হলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডু থানার চরপেংচাই গ্রামের আবদুস সালামের ছেলে মোঃ আইয়ুব আলী (২১), একই এলাকার মোহাম্মদ হোছনের ছেলে মোঃ আয়াছ (২২) ও ইনসং গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মোঃ আবদুল হামিদ (২৩)।
চকরিয়া থানার ওসি মো. বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান, র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধারকৃত অস্ত্র–গোলাবারুদের সঙ্গে ধৃত তিনজনই রোহিঙ্গা নাগরিক বলে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের আরো একটি মামলা নিই। এর আগে র‌্যাবের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পাওয়ার পর অস্ত্র মামলা নেওয়া হয়। সম্প্রতি ঘেরে ডাকাতির ঘটনা কেউ বলেনি জানিয়ে তিনি বলেন অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।