জমে ওঠেছে ঈদের কেনা-কাটা

প্রকাশ:| রবিবার, ৩ জুলাই , ২০১৬ সময় ১০:৩৯ অপরাহ্ণ

কেনাকাটাঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে কুমিল্লায় ঈদের বাজার জমে ওঠেছে। ক্রেতার ভিড়ে নগরীর বিপনী বিতানসহ বিভিন্ন দোকানগুলোতে তিল ধারণের জায়গা নেই। ক্রেতার কাতারে রয়েছে নানা বয়সী নারী-পুরুষ ও শিশুরা। ফুটপাতের দোকান হতে অভিজাত বিপণী বিতানগুলোতে ক্রেতারা কেনা-কাটার দীর্ঘ বহরে শামিল হচ্ছেন।

ঈদের বাজারে ক্রেতাদের স্রোত নগরীর যানজট আরও তীব্র করে তুলেছে। এ যানজটকে পাশ কাটিয়ে এক মার্কেট থেকে অন্য মার্কেটে ঘুরে ঘুরে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পছন্দের পণ্যটি কিনছেন ক্রেতারা।

ঈদ উপলক্ষে কুমিল্লা নগরীর সাত্তার খান কমপ্লেক্স, খন্দকার হক ম্যানসন, ময়নামতি গোল্ডেন টাওয়ার, ইস্টার্ণ ইয়াকুব প্লাজা, কুমিল্লার টাওয়ার শপিং কমপ্লেক্স, চৌরঙ্গী শপিং সেন্টার, টাউন হল সুপার মার্কেট, পুলিশ সুপার মার্কেট, এসবি প্লাজা, সমবায় মার্কেট, সুফিয়া ম্যানসন, হাজী প্লাজা, নূর ম্যানসন, গণি ভ্ইূয়া ম্যানসনের বিভিন্ন দোকানে চোখ জুড়ানো উন্নত মানের ঈদ সামগ্রী বেচা-কেনা হচ্ছে। রং বেরংয়ের দেশি-বিদেশি নানা বাহারী নামের বৈচিত্রময় পোশাকে ভরপুর এসব মার্কেটের দোকানগুলো। এছাড়াও রয়েছে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী খাঁদি পণ্য, প্রসাধনী, জুয়েলারী ও জুতোসহ অন্যান্য পণ্যের দোকান। এগুলোতে ঢু মারছে ক্রেতা কিনছে পছন্দের ঈদ পণ্য।

ঈদ বাজারে সকল বয়সী নারী ও শিশুদের পোষাকই বিক্রির শীর্ষে রয়েছে এবং নারীদের উপস্থিতি বেশি বলে দোকানীরা জানান। গজ কাপড় মহিলা পছন্দের তালিকায় থাকায় দর্জি দোকানগুলোতে দিন-রাত সেলাই কাজ চলছে। রোজার প্রথম দিকে চাহিদা পুরো হওয়ায় নতুন অর্ডার নেয়া বন্ধ করে দিয়েছে দর্জি দোকানগুলো। সূতার দাম বেশি হওয়ায় এবার সূতোর শাড়ি, থ্রিপিস, পাঞ্জাবীসহ সূতার বিভিন্ন কাপড়ের দাম বেড়েছে বলে দোকানীরা জানিয়েছেন। তবে ঈদের আনন্দের কাছে দাম বাড়ার ব্যাপারটি প্রাধান্য পাচ্ছে না ক্রেতার কাছে।

দেশীয় শাড়ী, থ্রি পিসের চাহিদা থাকলেও ভারতীয় শাড়ি, থ্রী পিসের চাহিদাও কম নয় ক্রেতাদের কাছে। কুমিল্লার মার্কেটগুলোতে রকমারি শাড়ির যোগান রয়েছে। রয়েছে বাহারী রংয়ের তাঁতের শাড়ি, ইন্ডিয়ান সিল্ক, বিশাল, টাঙ্গাইল সিল্ক, জয়পুরী জর্জেট, রাজশাহী সিল্ক, সাউথ সিল্ক ও ঢাকার জামদানী। পুরুষদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন ডিজাইনের ও গঠন শৈলীতে নতুনত্ব আনা পাঞ্জাবী। হাতের কাজ করা পাঞ্জাবীর চাহিদা বেশি। এ ছাড়াও আছে নানা নামের শর্ট ও লং পাঞ্জাবী। এর মধ্যে ফতুলি, পানতোয়া, ক্যাসাবিয়ান, শেরওয়ানী, ইন্ডিয়ান সূতি এবং পাকিস্তানি শর্ট ও লং পাঞ্জাবীর কদর বেশি রয়েছে।

নগরীর কান্দিরপাড়ের নিউমার্কেটের বেইসমেন্টে বসেছে হকার্স মার্কেট। স্বল্প আয়ের মানুষ সাশ্রয়ী দামে কিনছে তাদের পছন্দের কাপড়-চোপড়। খাদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে রুচিশীল ডিজাইনের পাঞ্জাবী, থ্রিপিস, বাটিকের শাড়ি। মানুষের কাছে খাঁদির কদর ক্রমেই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন দোকানি ও খদ্দেররা।

নগরীর মার্কেটগুলোর কসমেটিক দোকানেও ভিড় কম নয়। যে যার পছন্দ মতো কিনছেন দেশি-বিদেশি কসমেটিক। বিভিন্ন ইমিটেশন অলঙ্কার। যাদের সাধ্য আছে তারা ঈদ উপলক্ষে জুয়েলারিতে যাচ্ছেন পছন্দের গহনা কিনতে।