জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল নিয়ে কিছু টিপস

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ২৫ এপ্রিল , ২০১৮ সময় ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

সদ্য বিবাহিত অনেক দম্পতি শারীরিক সম্পর্ক ও জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল সম্পর্কে অজ্ঞ। নিজেরা বুঝে উঠতে পারেন যে জরুরি অবস্থায় জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে কী সমস্যা হতে পারে বা কখন জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাওয়া উচিত নয়।

নারীর গর্ভে সন্তান ধারণের আগে ও পরে অনেক সতর্ক থাকতে হয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়গুলোতে যদি নিজে ভালো না বোঝেন, তবে অবশ্যই একজন ভালো ডাক্তারের পরামর্শ নিন। কারণ ভুল বোঝার কারণে ও ভুল অভ্যাসে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে ঘটতে পারে বড় ধরনের বিপত্তি।

জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল কী?

জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণ খাবার পিল বা ইসিপি হলো এমন একধরনের পদ্ধতি যা অরক্ষিত বা অনিরাপদ সহবাসের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবহার করলে গর্ভে সন্তান আসার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না। অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ রোধে মহিলারা ইসিপি ব্যবহার করতে পারেন। জরুরি গর্ভনিরোধক খাবার পিল বা ইসিপি পরিবার পরিকল্পনার কোনো নিয়মিত পদ্ধতি নয়। এটি শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়। জরুরি গর্ভনিরোধক খাবার পিল বা ইসিপি গর্ভধারণ রোধ করে, কখনও গর্ভপাত ঘটাতে সাহায্য করে না।

আসুন জেনে নেই কখন জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খাবেন না।

ডায়াবেটিস

বহুমূত্র রোগ বা ডায়াবেটিস মেলিটাস একটি হরমোনসংশ্লিষ্ট রোগ। দেহযন্ত্র অগ্ন্যাশয় যদি যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে না পারে অথবা শরীর যদি উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে ব্যর্থ হয়, তাহলে যে রোগ হয় তা হলো ‘ডায়াবেটিস’ বা ‘বহুমূত্র রোগ’। তখন রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। ইনসুলিনের ঘাটতিই হলো এ রোগের মূল কথা। একজন নারী যদি ডায়াবেটিস আক্রান্ত হলে তার শরীরে বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়। এ সময় খুবই সাবধান থাকতে হয়।

পশ্চাদদেশে একটানা ব্যথা

এক পায়ে বা পশ্চাদদেশে একটানা ব্যথা থাকলে অথবা আগে এ ধরনের থ্রম্বোএম বোলিক রোগের ইতিহাস থাকলে।

জন্ডিস বা চুলকানির

জন্ডিসের কারণ সব সময় যকৃতের সমস্যা বা হেপাটাইটিস ভাইরাস সংক্রমণ নয়। পিত্তথলি থেকে পিত্তরস ঠিকমতো বের হতে না পারলেও জন্ডিস হতে পারে। একে বলা হয় অবস্ট্রাকটিভ জন্ডিস। এই জন্ডিসে ত্বকে হতে পারে অসহনীয় চুলকানি। আগের গর্ভকালীন জন্ডিস বা চুলকানির ইতিহাস থাকলে জরুরি জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল না খাওয়াই ভালো।

লিভারের রোগ

লিভারের রোগে ভুগলে পিল খাওয়া ঠিক হবে না। তবে আগে জন্ডিসে ভোগার পর বর্তমানে সেরাম বিলিরুবিন, এসজিপিটি, সেরাম এলকালাইন ফসফাটেজ-এর মাত্রা স্বাভাবিক থাকলে খেতে কোনো বাধা নেই। এছাড়া বহুদিন ধরে রক্তচাপজনিত রোগে ভুগলে পিল খাওয়া ঠিক নয়।

মাইগ্রেন

যাদের মাইগ্রেন নেই তারা ধারণাও করতে পারবেন না কতটা কষ্টদায়ক এই রোগ। মাইগ্রেন কথাটির অর্থ আধা মাথা ব্যথা বা আধকপালে। প্রচণ্ড মাথাব্যথার সঙ্গে বমিও হতে পারে। মাইগ্রেন ব্যথার উপসর্গের সঙ্গে বহু ধরনের উপসর্গ থাকতে পারে। এর মধ্যে প্রাধান হচ্ছে, চোখ অস্বচ্ছ দেখা, চোখের সামনে ছোট ছোট আলোর বিন্দু দেখা, বমি বমি ভাব, মাথার ভেতরে ধপ ধপ করা ইত্যাদি। যাদের মাইগ্রেন বা আধকপালে মাথা ব্যথা থাকলে, ইলিলেপসি বা মৃগী রোগ থাকলে জন্মনিয়ন্ত্রণ ওষুধ খাবেন না।

হাঁপানি

অ্যাজমা বা হাঁপানি হলো শ্বাসনালির প্রদাহজনিত দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এই প্রদাহের ফলে শ্বাসনালি ফুলে যায় এবং অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। এতে হাঁপানির বিভিন্ন উপসর্গ, যেমন—কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ লাগা এবং শোঁ শোঁ আওয়াজ হয়। হাঁপানি থাকলে, কারণ পিল খেলে হাঁপানি আরও বাড়তে পারে।

হার্পিস নামক ভাইরাস

গর্ভাবস্থায় এবং ইতিপূর্বে গর্ভকালীন হার্পিস নামক ভাইরাসজনিত রোগ দিয়ে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে। বিশেষ ধরনের সিকলসেল অ্যানিমিয়া ও চর্বির বিপাকজনিত রোগে ভুগলে।

জরায়ুর ক্যানসার

সাধারণত জরায়ুর নিচের সরু অংশ যা জরায়ুর মুখ বা সারভিক্স বেশি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়। যোনিপথের ওপরের অংশ থেকে শুরু করে জরায়ুর মাঝামাঝি পর্যন্ত এই অংশটি বিস্তৃত। জরায়ুমুখের ক্যান্সার বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের নারীদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। বাংলাদেশের ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের শতকরা ৩০ ভাগই হচ্ছেন জরায়ুমুখের ক্যান্সারের শিকার। তাই স্তন ও জরায়ুমুখের এবং জরায়ুর ক্যানসার থাকলে কিংবা শরীরে কোনো সন্দেহজনক টিউমার থাকলে পিল খাওয়া যাবে না।

এ ছাড়া কোনো অপারেশনের চার থেকে ছয় সপ্তাহ আগে থেকে পিল খাওয়া বন্ধ রাখা উচিত। এতে করে অস্ত্রোপচারের-পরবর্তী থ্রম্বোএম্বোলিক রোগের আশঙ্কা কমে যায়। সর্বোপরি গর্ভনিরোধক ওষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।