জনদূর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই

প্রকাশ:| সোমবার, ৪ ডিসেম্বর , ২০১৭ সময় ০৯:৩৯ অপরাহ্ণ

নগরীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও বিভিন্ন ধরনের নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করন এবং তা থেকে পরিত্রানের লক্ষ্যে কর্মপন্থা নির্ধারনের জন্য জনদূর্ভোগ লাঘবে জনতার ঐক্য চাই নাগরিক উদ্যোগ এর নেতৃবৃন্দ ৪ঠা ডিসেম্বর সোমবার বিকাল ৩ ঘটিকায় সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব খোরশেদ আলমের সাথে তাঁর নিজ বাসভবনে মতবিনিময় করেন।সভায় সভাপতিত্ব করেন নাগরিক উদ্যোগের সভাপতি বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ ফজলুল হক।

নগরীর আইনশৃংখলা পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আলহাজ্ব খোরশেদ আলম সুজন বলেন, একটার পর একটা হত্যাকান্ড করে হত্যাকারীরা নিরাপদ জীবন যাপন করায় নাগরিক সাধারণের মধ্যে গভীর উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন আমরা মৃত্যুর উপত্যকা নয় মানবিক বসবাসের নগরী চাই। হত্যাকারী, জুলুমকারীদের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তথা কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

মতবিনিময় সভায় জনাব সুজন বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক দিকনির্দেশনায় চট্টগ্রামে একের পর এক বিভিন্ন উন্নয়ন মেগা প্রকল্পের অনুমোদন এবং অর্থের যোগান দিয়ে যাচ্ছে সরকার। কিন্তু বিভিন্ন সেবা সংস্থাসমূহের সমন্বয়হীনতা, গাফিলতি, অযোগ্যতা, অদক্ষতা এবং উদাসীনতার কারণে জনগন সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের কাংখিত সুফল পাচ্ছেনা। তাই সেবা সংস্থাসমূহকে দক্ষতার সাথে সরকারী উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে জনগনের সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তিনি আহবান জানান।

তিনি বলেন, নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা চট্টগ্রাম বন্দর পতেঙ্গা এলাকা কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় এই যে, এই এলাকার অর্ন্তগত ৩৭নং ওয়ার্ড থেকে ৪১নং ওয়ার্ড পর্যন্ত ওয়াসার সঞ্চালন লাইন নেই যার কারণে ঐ এলাকার জনগন ওয়াসার সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত। ওয়াসার সঞ্চালন লাইন না থাকায় এলাকাবাসী ডীপ টিউবওয়েল, নলকুপ এবং অন্যান্য উপায়ে পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে এলাকায় পানিবাহিত রোগবালাই বেড়েই চলছে। শিশুরা সক্রমিত হচ্ছে অধিক হারে। তার উপর এলাকায় স্থাপিত ডীপ টিউবওয়েল গুলো বন্ধ করার জন্য ওয়াসার পক্ষ থেকে নোটিশ প্রদান করা হচ্ছে যা সম্পূর্ণ অমানবিক।

তাই অতিসত্ত্বর উক্ত এলাকাগুলোতে ওয়াসার সঞ্চালন লাইন স্থাপন করার জন্য তিনি ওয়াসা কর্তৃপক্ষের নিকট আহবান জানান এবং সম্পূর্ণ সঞ্চালন লাইন স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত ডীপ টিউবওয়েলগুলো চালু রাখার অনুরোধ জানান ও ডীপ টিউবওয়েলের ফি আদায় বন্ধ রাখার দাবী জানান।

এছাড়া নগরীর ৩৮নং এবং ৩৯নং ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটের কারণে ঐ এলাকার জনগনকে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দিনের বেলা রান্না বান্নার সময় গ্যাসের চাপ থাকেনা। অথচ ভোর ৩টা ৪টার সময় গ্যাসের চাপ আসে যে কারণে গৃহিনীদের না ঘুমিয়ে ভোর রাত্রেই রান্না বান্নার কাজ শেষ করতে হয়। তিনি অতিসত্ত্বর এ সমস্যা সমাধানের জন্য ডিআরএস মেশিন স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড এর এম.ডির নিকট আহবান জানান এবং সেই সাথে নগরীর আবাসিক ভবন সমূহে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দাবী জনান।

তিনি আরো বলেন, সারা বাংলাদেশসহ চট্টগ্রামেও বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অভাবনীয় উন্নতি হওয়ায় জনগন এর সুফল পেতে শুরু করেছে কিন্তু তারপরও নগরীর বেশ কিছু এলাকায় সঞ্চালন লাইনের সমস্যা, লো-ভোল্টেজ, বিদ্যুতের গড়বিলের কারণে সাধারন জনগনকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাছাড়া প্রি-প্রেইড মিটারের কার্ড সংগ্রহে দীর্ঘসূত্রিতা, প্রি-পেইড মিটারের যান্ত্রিক ত্রুটিও জনগনের দূর্দশার অন্যতম কারণ। তিনি অতিসত্ত্বর এ সকল সমস্যাগুলো লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ সময় অন্যন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর জাবেদ নজরুল ইসলাম, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাজী মোঃ ইলিয়াছ, নাগরিক উদ্যোগের সদস্য সচিব হাজী হোসেন কোম্পানী, সচেতন নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব হাজী হাবিব শরীফ, হাজী ছালেহ আহমদ জঙ্গী, আনোয়ার আহমদ মামুন, মোঃ কামাল, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোরশেদ আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুল হোসেন, হাফেজ মোঃ ওকার উদ্দিন, মোঃ কামরুল, মোর্শেদ আলী, এ.এস.এম জাহিদ হোসেন, মোঃ সালাউদ্দিন, মোঃ সাইফুল ইসলাম, সমীর মহাজন লিটন, স্বরূপ দত্ত রাজু, আব্দুল আজিজ, মোঃ তাজউদ্দিন, মাসুদ পারভেজ, মোঃ জুয়েল প্রমূখ।