জনতার মঞ্চ বনাম গণতন্ত্র রক্ষা মঞ্চ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ০৯:৫২ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে বিএনপি ‘জনতার মঞ্চ’ তৈরির ঘোষণা দেয়ার পর আওয়ামী লীগ ‘গণতন্ত্র রক্ষা মঞ্চ’ স্থাপন করে লাগাতার কর্মসূচী পালনের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগ নগরীর লালদিঘীর ময়দানে গণতন্ত্র রক্ষা মঞ্চের আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘটাবে।
আওয়ামী লীগ বিএনপি
তবে এর আগেই বুধবার লালদিঘী ময়দানে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনগুলো গণতন্ত্র রক্ষা মঞ্চের আদলে কর্মসূচী পালন করবে বলেও নগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল বলেন, ‘কাল (বুধবার) গণতন্ত্র মঞ্চের অগ্রগামী বাহিনী যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগসহ সহযোগী সংগঠনগুলো কর্মসূচী পালন করবে। এরপর ২৫ অক্টোবর থেকে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র রক্ষা মঞ্চ স্থাপন করে যতদিন প্রয়োজন ততদিন বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করে যাবে।’

লালদিঘীর মাঠ ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কালকের (বুধবার) জন্য সমাবেশ ও মাইক ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। আশা করছি, ২৫ অক্টোবর থেকে গণতন্ত্র রক্ষা মঞ্চ করার অনুমতিও পুলিশ দেবে।’

এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান আন্দোলন চালাতে আউটার স্টেডিয়ামের পাশে জনতার মঞ্চ তৈরির ঘোষণা দেন।

এ ঘোষণার দু’ঘণ্টার মধ্যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণতন্ত্র রক্ষা মঞ্চ স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী সর্বস্তরের জনতাকে ওই মঞ্চে সমবেত হবার জানান।

অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল জানান, গণতন্ত্র রক্ষা মঞ্চে লাগাতার কর্মসূচীর অংশ হিসেবে প্রতিদিন জনসভা, পেশাজীবি, যুব-ছাত্র, শ্রমিক, মহিলা, সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া নগরীর কোতোয়ালী মোড়, জেলা পরিষদের সামনে এবং আন্দরকিল্লা সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন চত্বরে তিনটি আলাদা মঞ্চ প্রতিষ্ঠা করা হবে। সেগুলোতে প্রতিদিন উদ্দীপনামূলক সংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য, নাটক পরিবেশিত হবে

এর আগে ২৪ অক্টোবরের মধ্যে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না মানলে ২৫ অক্টোবর থেকে চট্টগ্রামে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান।
নোমান বলেন, ‘নিজে ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে শেখ হাসিনার সর্বদলীয় সরকারের প্রস্তাব দেশের জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশনেত্রী যে বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছেন তা দেশের রাজনৈকিত সঙ্কট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। আগামী ২ দিনের মধ্যে সরকারকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে দাবি মেনে নিতে হবে। আর যদি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার চেষ্টা করে তাহলে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে দেশের জনগণ তা প্রতিহত করবে। চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়িতে ‘গণতন্ত্র মঞ্চ’ গঠন করে সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’