জনতার ঢলে ষড়যন্ত্রের জবাব দেবে আ.লীগ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১১:১৩ অপরাহ্ণ

জাতিসংঘের ৭০তম সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে ১০ দিনের সরকারি সফর শেষে আগামীকাল শনিবার দুপুরে দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ এবং আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার লাভ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দর থেকে তার সরকারি বাসভবন গণভবন পর্যন্ত অভিনন্দন এবং ফুলেল শুভেচ্ছা জানানোর প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তার দল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে ফেরার পথে শুক্রবার লন্ডনে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি শেষে স্থানীয় সময় প্রায় রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশের উদ্দেশ্যে লন্ডন ত্যাগ করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রা বিরতির পর শনিবার দুপুর দেড়টায় রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে বলে কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বিবৃতি পাঠ করেন। ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির (ইউনেপ) নির্বাহী পরিচালক আচিম স্টেইনারের কাছ থেকে গ্রহন করেন মর্যাদাপূর্ণ ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ অ্যাওয়ার্ড’। এর আগের দিন ২৬ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব হুলিন ঝাওয়ের কাছ থেকে ‘আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার’ গ্রহণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ২৮ সেপ্টেম্বর অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেদিন তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এবং রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে আয়োজিত ভোজসভায়ও যোগ দেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে যোগদান ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী বেশকিছু অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুট, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদার মোদি, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এবং নেদারল্যান্ডসের রাণী ম্যাক্সিমাসহ বেশ কয়েকটি দেশের সরকারপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭০তম অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউইয়র্কে পৌঁছান তিনি।

শেখ হাসিনা চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ পুরস্কার লাভ করায় তাকে সংবর্ধনা দেয়ার যে আয়োজন আওয়ামী লীগ করে রেখেছে সেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে গণসংবর্ধনায় রূপ ‍দিতে চায় দলটি। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে গত কয়েকদিনে একাধিক বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, গণসংবর্ধনা উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সফল করতে দলটির পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি সভা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সংবর্ধনায় জনতার ঢল নামিয়ে বিএনপি জামায়াত ও তাদের আন্তর্জাতিক প্রভুদের ষড়যন্ত্রের দাঁত ভাঙা জবাব দিতে চাই আমরা। প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা দিতে এবং অভিবাদন জানাতে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত এলাকাটি আটটি রুটে ভাগ করেছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ। রাজধানীর স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভাতৃপ্রতীম সংগঠনের নেতা-কর্মীরা এসব রুটে দাঁড়িয়ে সংবর্ধনায় যোগ দেবেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে শুক্রবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত ১৪ দলের সঙ্গে বিভিন্ন পেশাজীবিদের বৈঠক শেষে ১৪ দলের মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, সব রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে দেশের সব শ্রেণী পেশার মানুষকে জাতীয় পতাকা হাতে শনিবার দুপুর ১২টায় বিমান বন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

ওই বৈঠকে ১৪ দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদ, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদ, ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক নেতৃবৃন্দ, ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব, সংস্কৃতি কর্মী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, নারী সংগঠন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবর্ধনা যারা যোগ দিতে আগ্রহী তাদের জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে আসতে বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। তবে সেখানে কারো ব্যক্তিগত ছবি প্রদর্শনে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ব্যানার, ফেস্টুন আর প্ল্যাকার্ড আনতে বলা হয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে ফুলের পাপড়ি ছিটানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।


আরোও সংবাদ