জনগণ ১৯-দলীয় জোটের পক্ষে রায় দিয়ে সরকারের গণবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে-কাজী জাফর

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৯:৫৪ অপরাহ্ণ

কাজী জাফর বলেন, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে খালেদা জিয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে নীতি, নৈতিকতার অপমৃত্যু হতো। তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচনে ভয়ভীতি উপেক্ষা করে জনগণ ১৯-দলীয় জোটের পক্ষে রায় দিয়ে যেমন এই সরকারের গণবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তেমনি জাতীয় পার্টির (জাফর) নেতা-কর্মীরা ক্ষমতা বা অর্থের প্রলোভনকে উপেক্ষা করে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনে শরিক হয়েছেন।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “এরশাদ একজন খলনায়ক ও ডিগবাজি বিশারদ। তার বয়স এখন ৯০ বছরের কাছাকাছি।

“আমি তাকে বলব, এরশাদ সাহেব যথেষ্ট হয়েছে। আপনার কাছ থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি, এবার আপনার কাছ থেকে জাতি রাহু মুক্ত হতে চায়। নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে আপনি এবার রাজনীতি থেকে অবসর নিন।”

সাবেক সামরিক শাসক এরশাদ সরে গেলে দেশের রাজনীতি স্বচ্ছ ও সাবলীল হবে বলেও মনে করেন জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব।

জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কাজী জাফর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মহানগর কমিটির আয়োজনে ‘বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে একুশের ভূমিকা’ শিরোনামে এই আলোচনা সভা হয়।

আশির দশকের শেষদিক থেকে প্রায় আড়াই দশক এরশাদের নেতৃত্বে অবিচল থাকা কাজী জাফর বলেন, “গতকালের পত্রিকায় এসেছে, খলনায়ক ও ডিগবাজি বিশারদ এরশাদ বলেছেন, তিনি নাকি সার্থক সেনানায়ক ছিলেন। তথাকথিত সেনানায়ক কোন রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছেন তা আমার জানা নেই।”

“এরশাদের কাজ হচ্ছে- পানি ঘোলা করে মাছ শিকার করা। নির্বাচনের পর তিনি আবার পানি ঘোলা করতে নানা রকম কথা-বার্তা বলতে শুরু করেছেন। তাকে বলব, যথেষ্ট হয়েছে, এবার দয়া করে রাজনীতি থেকে অবসর নিন,” বলেন সাবেক এরশাদ সরকারে প্রধানমন্ত্রী জাফর।

প্রথম ধাপের নির্বাচনে বেশিরভাগ উপজেলায় বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থীদের জয় সম্পর্কে কাজী জাফর আহমদ বলেন, “সংসদ, সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন সবই শাসক দলের হাতে। বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র দখল করে সিল মারা হয়েছে। এরপরও জনগণ নিরব ভোটের মাধ্যমে সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে।”

“আমি মনে করি, উপজেলা নির্বাচনের এই ফলাফল খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে ঘুরে দাঁড়ানোর টার্নিং পয়েন্ট। ইনশাল্লাহ ১৯ দলীয় জোটের এই আন্দোলনে বিজয় আসবেই।”

উপজেলা নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “তা না হলে শাসক দলের সমর্থিত প্রার্থীরা ১৪ শতাংশের বেশি উপজেলায় জয়ী হতে পারতো না।”

তবে ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ না নেয়াটা সঠিক ছিল বলেও দাবি করেন কাজী জাফর।

তিনি বলেন, “উপজেলা নির্বাচনের ফল দেখে অনেকে বলতে শুরু করেছেন, বিএনপি ও ১৯ দলীয় জোট জাতীয় নির্বাচনে গেলে বিজয়ী হতেও পারতো। আমি তাদের বলব, এটা ঠিক নয়। তাহলে নীতি আদর্শ কোথায় থাকতো। নির্বাচনে গেলে নির্দলীয় সরকারের যে আন্দোলন চলেছিল, সেই দাবির কবর রচনা হতো।”

আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমান বলেন, “একুশের চেতনা হচ্ছে- গণতান্ত্রিক একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। দেশে এখন গণতন্ত্রের সংকট চলছে। দশম সংসদে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নেই। যারা আছেন, তারা কারা দেশের মানুষ তা জানে না। এই সংসদ সঙদের সংসদ।”

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৯ দলীয় জোটের আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মহানগর সভাপতি খালেকুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উপদেষ্টা ইসমাইল হোসেন বেঙ্গল, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিয়াস করীম, জাপার(কাজী জাফর) সভাপতিমণ্ডলির সদস্য এ আই এম ফজলে রাব্বী, এস এম এম আলম, আহসান হাবীব লিংকন, মাওলানা রুহুল আমিন, রফিকুল হাফিজ, ছাত্র নেতা ফয়েজ চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।


আরোও সংবাদ