জনগণের চাপে সরকার বাধ্য হয়েছে : ফখরুল

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৮:৫১ অপরাহ্ণ

সরকার জনগণের চাপে পড়ে বিতর্কিত সাংসদ আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে কারাগারে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

এর আগে সকালে লতিফ সিদ্দিকী আদৌ দেশে ফিরেছেন কি না, সে প্রশ্ন তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের কাছে এর সুষ্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছিলেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন,‘জনগণের চাপে সরকার বাধ্য হয়েছে।’

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে প্রয়াত অধ্যাপক ড. পিয়াস করিমের স্মরণে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস আয়োজিত এক স্মরণ সভায় তিনি এ কথা বলেন।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে হজ ও তাবলীগ জামাত নিয়ে লতিফ সিদ্দকীর বিতর্কিত বক্তব্যের পরে সারাদেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। তাকে গ্রেফতারের দাবি তোলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন। এরই মধ্যে রোববার দেশে ফেরেন তিনি।

মঙ্গলবার আত্মসমর্পণের পর আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে ধর্মীয় উসকানির এক মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। ঢাকার মহানগর হাকিম আতিকুর রহমান এ দিন দুপুরে এই আদেশ দেন।

বিএনপিপন্থি আইনজীবী এ এন এম আবেদ রাজার দায়ের করা রমনা থানার মামলার শুনানিতে হাকিম বলেন, ‘যেহেতু আসামি জামিন আবেদন করেননি, সেহেতু তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হলো।’

‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ বাধাগ্রস্ত করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ‘মিথ্যা মামলায়’ জড়ানো হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন পরিবারের মায়া ত্যাগ করে সেই ৮২ সাল থেকে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। সেজন্য ষড়যন্ত্রকারীরা ভাবছে, তাকে দাবিয়ে রাখতে পারলেই চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হবে। এর অংশ হিসেবেই বিএনপি চেয়ারপারসনের ওপর মামলা আঘাত দেওয়া হচ্ছে।

উচ্চ আদালতে কাছে ন্যায় বিচারের প্রত্যাশা থাকলেও তা হচ্ছে না মন্তব্য করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘আদালত আমাদের দুটি আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। অথচ সব প্রামান্য-উপাত্ত আমাদের ছিলো। আদালতের সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ হয়েছি।’

সোমবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা নিয়ে খালেদার দুটি আপিলের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেয়।

ওই মামলায় অভিযোগ আমলে নেওয়ার আদেশ চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে করা খালেদার আবেদন ২০১১ সালের ১৪ ডিসেম্বর খারিজ হয়ে যায়। এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তার আবেদনও গত ২৩ এপ্রিল হাই কোর্ট খারিজ করে দেয়।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের দুর্নীতির অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে যে মামলা হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

তিনি বলেন, ওই দুই প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট থেকে কোনো টাকা উত্তোলন করা হয়নি। কোনো কাগজে বিএনপি চেয়ারপারসনের কোনো স্বাক্ষরও নেই। শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাকে হেয় করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই মামলা সাজানো হচ্ছে। সরকার রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানের মতো বিচার বিভাগকেও দলীয়করণ করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘শেখ হাসিনার নামে ১৫টি মামলা ছিলো। যার মধ্যে ৯টিই দুর্নীতির মামলা। এর মধ্যে ১০টি মামলা উচ্চ আদালত প্রত্যাহার করে নিয়েছে।’

‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশ চরম বিপদে রয়েছে’ এমন মন্তব্য করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘এই অবস্থা থেকে উত্তরণে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। আন্দোলন, আন্দোলন, আন্দোলনের মাধ্যমেই সব দলের অংশগ্রহনে একটি প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচন দিতে এই সরকারকে বাধ্য করতে হবে।’

আন্দোলনের পক্ষে প্রতিবাদী গানের মাধ্যমে জনগণকে উজ্জীবিত করতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জাসাস নেতৃবৃন্দের ছড়িয়ে পড়ার আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

প্রয়াত ড. পিয়াস করিমের মৃত্যুতে বিএনপি বিপদগ্রস্থ হয়েছে, মন্তব্য করে বিএনরি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ‘তার মতো লোক সচরাচর পাওয়া যায় না। তিনি ছিলেন প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। পিয়াস প্রবাসে উন্নত জীবনযাপন করতে পারতেন। কিন্তু দেশের জন্য কিছু করার প্রত্যয় থেকে তিনি ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু তার মৃত্যুর পর প্রগতিশীলতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে মুখোশপড়া কিছু মানুষ তাকে নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ করে অন্যায় আচরণ করেছে। জনগণ এসব ভূলবে না। এর সমুচিত জবাব দেবে।’

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি এম এ মালেকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শওকত মাহমুদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) কবি আবদুল হাই শিকদার, জাসাসের সাধারণ সম্পাদ মনির খান প্রমুখ।


আরোও সংবাদ