‘জঙ্গি আস্তানা’য় বোমা বিস্ফোরণ, গোলাগুলি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৫ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ১১:০১ অপরাহ্ণ

রাজধানীর মিরপুরে দারুস সালাম এলাকায় ‘জঙ্গি আস্তানা’য় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার পর পাঁচটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ভবনটিতে আগুন লেগেছে। গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক।

জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গতকাল সোমবার রাত থেকে দারুস সালামের ওই ভবনটি ঘিরে রাখে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। আজ সন্ধ্যায় র‍্যাব সাংবাদিকদের জানায়, ‘জঙ্গি’ আবদুল্লাহসহ সাতজন রাত ৮টার মধ্যে আত্মসমর্পণ করবে। তবে ৯টা বেজে গেলেও এ ধরনের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি।

রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ওই ভবন থেকে বোমা বিস্ফোরণের বিকট শব্দ পাওয়া যায়। একে একে পাঁচটি বোমা বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যায়। এর মধ্যে তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ ছিল অনেক বেশি। পরে দেখা যায় ওই ভবনে আগুন জ্বলছে।

রাত ৯টা ৫৭ মিনিটের দিকে গুলিবর্ষণের শব্দ পাওয়া যায়। এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের পশ্চিমে বাড়িটির অবস্থান। দারুস সালাম থানার দক্ষিণের এ বাড়িটির কয়েকটি বাড়ি পরেই রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সহকারী কমিশনারের (এসি) কার্যালয়। বাড়ির উত্তর পাশে একটি খেলার মাঠ রয়েছে। এলাকাটি মোটামুটি কম ঘনবসতিপূর্ণ। ঈদের ছুটির কারণে লোকজনের আনাগোনা একটু কম।

র‍্যাব জানিয়েছে, ওই ভবনের ২৩টি ফ্ল্যাট থেকে ৬৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৪ জন নারী, ২৬ জন পুরুষ ও ১৫টি শিশু।

রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম থানার কাছেই বর্ধনবাড়ি এলাকায় দিনভর ঘিরে রাখা সেই ‘জঙ্গি আস্তানায়’ রাতে তিন থেকে চারটি ভারী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ সময় আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। ভবনটির ওপর আগুনের শিখা দেখার পর এখন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪৬ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় বিস্ফোরণে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে। ভবনটির ওপর আগুনের শিখা দেখার পর এখন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ওই ভবনটির কাছে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা গেছে।

এর আগে ‘জঙ্গি আস্তানায়’ থাকা আবদুল্লাহ আত্মসমর্পণে রাজি হয়েছেন বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান। সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটি তিনি ঘটনাস্থলের কাছে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে বাড়িটি (মাঝের) ঘিরে ফেলে র‍্যাব। ছবি: র‍্যাবের সৌজন্যেমুফতি মাহমুদ খান বলেন, ‘আমাদের অগ্রাধিকার ছিল এই ভবনের অন্য নিরপরাধ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা দেওয়া। সারা দিনে তাদের সরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। সারা দিন আমরা তার (আবদুল্লাহ) সঙ্গে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করেছি। সেই সময় সে আমাদের কাছে সময় প্রার্থনা করেছে। আমরা তাকে সময় দিয়েছি। আমরা তার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। একটু আগে সে প্রাথমিকভাবে আত্মসমর্পণের জন্য রাজি হয়েছে। সে বলেছে, প্রথমে তার স্ত্রী ও দুই সন্তান বারান্দায় আসবে। তার কথা অনুযায়ী তারা বারান্দায় এসেছিল। আমরা তাদের সঙ্গে ইশারায় যোগাযোগ করেছি। পরবর্তীতে সে বলেছে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার মধ্যে এই আত্মসমর্পণ করবে।’

মুফতি মাহমুদ বলেন, ‘সে সময় যদি সে ধ্বংসাত্মক কিছু করার চেষ্টা করে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের অভিযানকারী দল প্রস্তুত আছে।’

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে এক ব্রিফিংয়ে র‍্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ বলেছিলেন, তাঁদের ধারণা ওই ‘জঙ্গি আস্তানায়’ নারী-শিশুসহ সাতজন আছে।

র‍্যাবের মহাপরিচালক বলেন, গতকাল সোমবার রাতে টাঙ্গাইলে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে দারুস সালামের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালানো হচ্ছে। বাড়িটির পঞ্চম তলায় সন্দেহভাজন জঙ্গিরা অবস্থান করছে।

বাড়ির ভেতর থেকে র‍্যাবকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড ও পেট্রল বোমা ছোড়া হয়। ছবি: র‍্যাবের সৌজন্যেবাড়িটির ২৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৩টি থেকে পুরুষ-নারী-শিশুসহ ৬৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান বেনজীর আহমেদ। বাড়িটির গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে।

জঙ্গি আস্তানা থেকে আবদুল্লাহর বোন ইতিমধ্যে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানান বেনজীর আহমেদ। তিনি বলেন, বোনকে দিয়ে আবদুল্লাহকে আত্মসমর্পণ করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।