জঙ্গিদের ‘সেফ হোম’ আছে কি না জানতে বিশেষ কর্মসূচি

প্রকাশ:| রবিবার, ১৯ মার্চ , ২০১৭ সময় ১১:০১ অপরাহ্ণ

 

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে জঙ্গিদের কোন ‘সেফ হোম’ আছে কি না সেটা জানতে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে পুলিশ।  এজন্য মহাসড়কের আশপাশের ভাড়াটিয়া বাসিন্দাদের তথ্য সংগ্রহে নামছে পুলিশ।  সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারদের (এসপি) তথ্য সংগ্রহে এক সপ্তাহের সময়ও বেঁধে দিয়েছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো.শফিকুল ইসলাম।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাবার পর ভাড়াটিয়াদের তথ্য সংগ্রহে জোরালোভাবে নামার এই সিদ্ধান্ত এসেছে।  পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের।

জানতে চাইলে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো.শফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কক্সবাজার থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত এলাকা আমরা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছি।  কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, ফেনী ও কুমিল্লার এসপিদের নির্দেশ দিয়েছি যাতে জরুরি ভিত্তিতে এসব এলাকার সব বাসিন্দার তথ্য নেয়া হয়।

‘এর মাধ্যমে আমরা জঙ্গিদের আর কোন আস্তানা আছে কি না সেটা জানতে পারব।   মহাসড়কের পাশে আস্তানা বানিয়ে জঙ্গিদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনাও সেক্ষেত্রে আমরা নস্যাৎ করতে পারব। ’ বলেন ডিআইজি

শনিবার চট্টগ্রামের ১১ জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে জরুরি অপরাধ সভায় বসেন ডিআইজি।  সেই সভায় এক সপ্তাহের মধ্যে তথ্য সংগ্রহের কাজ সম্পন্ন করতে ১১ জেলার এসপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

ডিআইজি জানান, এলাকায় এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে একটা করে টিম করা হবে।  প্রত্যেক টিমে পুলিশের সঙ্গে থাকবেন একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই)।  প্রতিটি থানা এলাকায় ভাড়াটিয়াদের তথ্য যাচাই বাছাই করা হবে।  যেখানে ভাড়াটিয়ার সংখ্যা বেশি সেখানে একাধিক টিম করা হবে।

‘প্রত্যেক ঘরে তল্লাশি চালানো হবে।  ভাড়াটিয়াদের নাম-পরিচয় নেওয়া হবে।  মোবাইল নম্বার নেওয়া হবে।  জাতীয় পরিচয়পত্র নেওয়া হবে।  তা সঠিক কি না তা অনলাইনে যাচাই করা হবে।  তাদের বাড়ি যেখানে সেখানে সংশ্লিষ্ট থানাকে অনুসন্ধানের জন্য বলা হবে।  যেখানে থাকে, সেখানে কি কাজ করে, তার কর্মক্ষেত্র কোথায় বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে। ’ বলেন ডিআইজি

এর আগে বুধবার (১৫ মার্চ) দুপুরে লামারবাজার আমিরাবাদের সাধন কুটির থেকে এক নারীসহ দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করে পুলিশ।  তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছায়ানীড় ভবনের জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশ।

বুধবার বিকেল তিনটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ছায়ানীড় ভবনে ‘অপারেশন অ্যাসল্ট-১৬’ চালায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।  ২০ ঘণ্টার এ অভিযানে ২০ জনকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধার করা হয়।  এছাড়া চার জঙ্গি ও এক শিশুসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযানে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।

গত ৮ মার্চ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই পৌরসভায় জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়।  ৭ মার্চ রাতে জঙ্গি আস্তানার সন্ধানে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে পটিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট।

৭ মার্চ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় পুলিশের উপর বোমা হামলা করে আটক হয় দুই জঙ্গি।  তাদের তথ্যের ভিত্তিতে মিরসরাইয়ে আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়।  একইভাবে তাদের তথ্যের ভিত্তিতেই পটিয়ায় অভিযান চালানো হয়।

এরপর ১৫ মার্চ আবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড পৌরসভায় দুটি আস্তানার সন্ধান পাওয়া যায়।