জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা রণক্ষেত্র;ডিসি হারুন অর রশিদকে প্রত্যাহারে ২৪ ঘণ্টা সময়

প্রকাশ:| রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৮:২৩ অপরাহ্ণ

লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ ও কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামানকে প্রত্যাহারে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। তাঁদের প্রত্যাহার করা না হলে কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছে শিক্ষক সমিতি।

দখলে থাকা তিব্বত হলসহ ১০টি হল উদ্ধারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটার ঘটনায় তাঁদের দুজনকে প্রত্যাহারে আজ রোববার বিকেলে শিক্ষক সমিতির সভাপতি আলী আক্কাস এই আলটিমেটাম দেন। এ সময় তিনি আগামীকালের নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করেন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আবাসন-সংকট নিরসন ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে কাল সোমবার কালো ব্যাজ ধারণ করে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করবে শিক্ষক সমিতি। মানববন্ধন শেষে একটি মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশ করবেন তাঁরা।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও সাধারণ শিক্ষার্থীরাও কাল একই কর্মসূচি পালন করবেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের সামনে আজকের সমাবেশে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অশোক কুমার সাহা। এ সময় তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিনা অনুমতিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে পুলিশ। বারবার তাদের অনুরোধ করার পরও ক্যাম্পাসে গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া বন্ধ হয়নি। এ হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এদিকে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভা বসেছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত

দখলে থাকা তিব্বত হলসহ ১০টি হল উদ্ধারের দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত অর্ধশত শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ও বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আজ সকাল আটটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন আন্দোলনকারীরা। সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার মোড় ও নয়াবাজার মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা ইসলামপুরে স্বতন্ত্র সাংসদ হাজি সেলিমের দখলে থাকা তিব্বত হল দখলে রওনা হন। পথে বাংলাবাজার মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যান। বেলা ১১টার দিকে ইসলামপুরের পাটুয়াটুলী এলাকায় পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এ নিয়ে এখনো ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে প্রচুর পুলিশ অবস্থান নিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, ছাত্রীদের কমনরুমেও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়া হয়েছে। এতে অন্তত ৮০ জন ছাত্রী আহত হয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অশোক কুমার সাহা দাবি করেন, ‘শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক। তাই তাঁদের বাধা দেওয়া হচ্ছে না।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামানের ভাষ্য, শিক্ষার্থীরা যদি হল দখলে যান, তবে সেখানে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধবে। জানমাল রক্ষার্থে কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়তে হচ্ছে।


আরোও সংবাদ