ছয় মাসের মধ্যে কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর দাবি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১২ জুন , ২০১৪ সময় ০৬:৫০ অপরাহ্ণ

ছয় মাসের মধ্যে কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর দাবিচীন হোক কিংবা অন্য দেশ হোক, অন্য কোন দাতা সংস্থা হোক, জরুরি ভিত্তিতে অর্থের সংস্থান করে চলতি বছরের বাকি ছয় মাসের মধ্যে কালুরঘাট সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছে বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদ। এ সেতু বাস্তবায়ন হলে বোয়ালখালী-পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষের মুখে হাসি ফোটবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান বক্তারা। সেতু নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে তারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের আহবায়ক মো. আব্দুল মোমিন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, কর্ণফুলী নদীর উপর কালুরঘাট সেতু নির্মিত হয়েছে ১৯৩০ সালে। প্রায় ৮৫ বছরের পুরনো এ রেল সেতুটিকে এখন আর সেতু বলা সমীচীন হবেনা। কার্যত এটি এখন সাঁকোতে পরিণত হয়েছে। এ সেতুর উপর দিয়ে চলাচলরত মানুষও এটিকে সাঁকো হিসেবে অভিহিত করে।

নড়বড়ে হয়ে গেলেও বর্তমানে কালুরঘাট সেতুর উপর দিয়ে যানবাহন চলাচলে কমতি নেই। একমুখী সেতুটির একপাশ দিয়ে গাড়ি উঠলে আরেকপাশে শত শত যানবাহনের জট লেগে যায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সেতুর দু’পাশে যানজটে আটকে পড়ে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আবদুল মোমিন বলেন, কর্ণফুলী নদীপাড়ের জনপদ বোয়ালখালী ও পটিয়ার পূর্বাঞ্চল। শহরের এত কাছের জনপদ, অথচ এখনও যেন অজপাড়া গাঁ। সেতুর একপাশে শহর-নিয়ন বাতির আলো, আরেক পাশে গ্রাম-কুপির আলোয় অন্ধকার দূর করছে মানুষ। অথচ এ জনপদ হতে পারত একটি পরিকল্পিত উপশহর, হতে পারত একটি মডেল টাউন। এ জনপদ হতে পারত একটি পরিকল্পিত শিল্পনগরী। নদী আর পাহাড়ের মিলনস্থলকে ঘিরে হতে পারত দৃষ্টিনন্দন পর্যটন স্পট। অথচ স্বাধীনতার ৪৪ বছরেও এ জনপদ কতটা অবহেলিত, এখানকার মানুষ কতটা বৈষম্যের শিকার তা চিন্তা করলে যে কোন বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেয়।

তিনি বলেন, বোয়ালখালী-কালুরঘাট অংশে একটি দ্বিমুখী সেতুর অভাবে বোয়ালখালী, পটিয়াসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তির্ণ জনপদ উন্নয়নবঞ্চিত হয়ে আছে। এখানে একটি নতুন দ্বিমুখী সেতু হলে বোয়ালখালী-পটিয়া কিংবা বোয়ালখালী-রাঙ্গুনিয়া-বান্দরবানকে ঘিরে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির পাশাপাশি শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন হবে, শহরের উপর মানুষের চাপ কমবে।

সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের এ নেতা বলেন, বোয়ালখালী-পটিয়ার পূর্বাঞ্চলসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের লক্ষ লক্ষ জনসাধারণ স্বাধীনতার পর থেকেই একটি সেতুর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে আসছে। ৯০’পরবর্তী বিভিন্ন সরকার কালুরঘাটে সেতু নির্মাণের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ নিয়ে আলোচনা, কিছু ফাইল ওয়ার্ক হলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। বর্তমান সরকারের গত মেয়াদের শেষদিকে বোয়ালখালী-কালুরঘাটে নতুন সেতু নির্মাণের বিষয়ে বেশকিছু অগ্রগতি হয়েছে।

তিনি বলেন, নাগরিক সংগঠন বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের ব্যানারে বেশ কিছুদিন ধরে মানববন্ধন, গণসংযোগ, মতবিনিময়সহ বিভিন্ন কর্মসূচি আমরা পালন করছি। সেতুর জন্য আন্দোলন শুরুর পর জানতে পেরেছি, প্রায় ৯’শ কোটি টাকা ব্যয়ে রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের একটি প্রস্তাবনা রেল মন্ত্রণালয়ে আছে। কিন্তু প্রস্তাবনাটি অনেক আগে তৈরি করা হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

আবদুল মোমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীন সফরে গিয়ে কালুরঘাটে দ্বিতীয় রেল সেতু কাম সড়ক সেতু নির্মাণের জন্য অর্থ সহায়তা চেয়েছেন। এতে প্রমাণ হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী সেতুটি নির্মাণের ব্যাপারে আগ্রহী। এতে আমরা আশান্বিত হয়েছি। আমরা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা।

পাশাপাশি সাধারণ মানুষের চলাচল ঝুঁকিমুক্ত করতে, মানবিক বিপর্যয় এড়াতে, চট্টগ্রাম শহরের উপর মানুষের চাপ কমাতে, শিল্প সম্প্রসারণে, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির নতুন দিগন্ত উন্মোচনে কালুরঘাটে রেল কাম সড়ক সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই। চীন হোক কিংবা অন্য দেশ হোক, অন্য কোন দাতা সংস্থা হোক, যে কোনভাবে অর্থ সংগ্রহ করে খুব শিগগির সেতুটি বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হওয়া জরুরি বলে মনে করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মুস্তফা নঈম, সদস্য সচিব রমেন দাশগুপ্ত, যুগ্ম সদস্য সচিব আলমগীর মোর্শেদ বাবু, সিনিয়র সদস্য সিরাজুল হক বাদশা, সমন্বয়কারী উত্তম সেনগুপ্ত, আবু তাহের টুটুল, সদস্য অ্যাডভোকেট কাজী মো. ইকবাল, ডা. তপন কান্তি দাশগুপ্ত, আবুল ফজল বাবুল ও সাদেকুর রহমান সবুজ।