ছয়মাস পর চবিতে প্রবেশ করেছে ছাত্রলীগের একাংশ

প্রকাশ:| রবিবার, ২৪ মে , ২০১৫ সময় ০৮:১৩ অপরাহ্ণ

ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা প্রায় ছয়মাস পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছে। যারা ছাত্রলীগ কর্মী তাপস সরকার খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত।
ছয়মাস পর চবিতে প্রবেশ করেছে ছাত্রলীগের একাংশ
পক্ষটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ভার্সিটি এক্সপ্রেস(ভিএক্স) হিসেবে পরিচিত।

রোববার বেলা ১১টার দিকে নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছিরের নির্দেশে তার অনুসারীদের সহায়তায় ভিএক্সের কর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৪ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের সকালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ হারান সংষ্কৃত বিভাগ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তাপস সরকার। পরে তাকে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন অনুসারী আরেকটি পক্ষ ‘সিএফসি’র কর্মী দাবি করা হয়।

‘ভিএক্স’ নিয়ন্ত্রণাধীন শাহজালাল হল থেকে গুলি চালানো হলে ‘সিএফসি’ নিয়ন্ত্রিত শাহ আমানত হলের তৃতীয় তলার বারান্দায় দাঁড়ানো তাপস সরকারের পিঠে গুলি লাগে।

ওইদিন বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলে অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিস্তল, গুলি, লোহার রড, পাথর, বড় আকারের ছোরা এবং জিহাদি বই উদ্ধার করে। সে সময় আটক করা হয় ৫০ জনকে।

এরপর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত হয় ভিএক্সের নেতাকর্মীরা। ঘটনার দুইদিন পর ভিএক্সের ৩০ নেতাকর্মীকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন তাপস সরকারের বন্ধু হাফিজুল ইসলাম। ঘটনার পরদিন পাঁচজনের নাম উল্লেখ ও ৫০-৬০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে পৃথক মামলা দায়ের করে পুলিশ।

চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোরে গোপনে ভিএক্সের কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে চাইলে প্রশাসন ও সিএফসি নেতাদের বাধার মুখে তারা ফিরে যায়।

দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত থাকা ভিএক্সের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নবনির্বাচিত মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের সহায়তা কামনা করেন। আ জ ম নাছির বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিবদমান অন্তর্কোন্দল নিরসনের উদ্যোগ নেন। তার নির্দেশে রোববার সকাল ১১টায় প্রায় ৬০জন কর্মী নিয়ে মিজানুর রহমান বিপুলের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ভিএক্স।

এ সময় আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীরা ভিএক্সকে বরণ করে মিছিল সহকারে শাহজালাল হলে নিয়ে যায়। ভিএক্স ক্যাম্পাসে প্রবেশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিএফসির নেতাকর্মীরা।

এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সহ সভাপতি শাহাদাত হোসেন জুয়েল বলেন,‘ছাত্রলীগের সবাই ক্যাম্পাসে অবস্থান করুক এটা আমরাও চাই। কিন্তু যারা তাপস সরকার হত্যা মামলার আসামী তারা কিভাবে ক্যাম্পাসে ঢুকবে। আমি অবিলম্বে হত্যাকারীদের ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ খালেদ চৌধুরী বলেন,‘আমাদের নেতা আ জ ম নাছির উদ্দিনের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও বৈধ ছাত্রদের হলে অবস্থান নিশ্চিত করেছি। তারা সুশৃংখলভাবে হলে অবস্থান করছে।’

এদিকে যেকোন ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলে উঠার সুযোগ করে দিয়েছি। তাদের মধ্যে যদি কেউ হত্যা মামলার আসামী থেকে থাকে তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’