ছেলে-মেয়ের লাশ ফেলার হুমকি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৪ মার্চ , ২০১৭ সময় ১১:০৭ অপরাহ্ণ

সামান্য ঘটনায় অভিভাবকের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে তার ছেলে-মেয়ের লাশ ফেলে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন এক শিক্ষিকা।  নগরীর পূর্ব নাসিরাবাদে ইংরেজি মাধ্যমের চাইল্ড হেভেন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌসের বিরুদ্ধে এই অভিযোগে উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৪ মার্চ) ওই ছেলে-মেয়ের বাবা অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন আহমদ নগরীর খুলশি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।  জিডি নম্বর ৬৮২।

জিডিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন এবং শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস মিলে তার সন্তানদের ক্ষতি করতে পারেন বলে আশংকা করেছেন ওই আইনজীবী।

জামাল উদ্দিনের মেয়ে আতিয়া ফাইরুজ (১২) চাইল্ড হেভেন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীতে এবং ছেলে ফাহিম শাহরিয়ার (৫) একই স্কুলের নার্সারি শ্রেণীর ছাত্র।

কর্মসূত্রে জামাল উদ্দিন রাজধানীতে অবস্থান করার কারণে তার স্ত্রী সাদিয়া ওহাব লিজা সন্তানদের স্কুলে আনা-নেয়া করেন।

জামাল উদ্দিন বাংলানিউজকে জানান, গত ৫ মার্চ স্কুলে ক্লাস চলাকালীন সময়ে ফাহিমের শ্রেণী শিক্ষক সাদিয়াকে ডেকে পাঠান।  নার্সারি শ্রেণীতে যেতে স্কুলের দোতলায় শিক্ষকদের কমনরুম পেরিয়ে যেতে হয়।  কমনরুদের সামনে দিয়ে যাবার সময় সাদিয়াকে দেখে জান্নাতুল ক্ষুব্ধ হন।

জান্নাতুল এসময় সাদিয়ার উপর মারমুখী আচরণ করেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।  এতে আরও বলা হয়, জান্নাতুল সাদিয়াকে হুমকি দিয়েছেন, ‘তোকে না পেলেও তোর বাচ্চাগুলিকে মেরে লাশ করে ফেলবো। ’

জামাল উদ্দিন বলেন, আমার ছেলের প্রস্রাবের ইনফেকশন আছে।  সেজন্য তাকে টয়লেটে কাউকে নিয়ে যেতে হয়।  মূলত টয়লেটে নিয়ে যাবার জন্য ক্লাস টিচার আমার স্ত্রীকে ডেকেছিলেন।

জানতে চাইলে খুলশি থানার ওসি শেখ মো. নাসির উদ্দিন বলেন, জিডি পেয়েছি।  তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যোগাযোগ করা হলে চাইল্ড হেভেনের অধ্যক্ষ মো.আমজাদ হোসেন বলেন, শিক্ষিকা জান্নাতুল যে ভাষা (লাশ ফেলে দেব) ব্যবহার করেছেন বলে ‍অভিযোগ করা হচ্ছে, সেই ভাষা আসলে তিনি ব্যবহার করেননি।  বরং ওই অভিভাবকই (সাদিয়া ওহাব) আসলে খারাপ আচরণ করেছেন।  আর পুরো ঘটনা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় সংরক্ষিত আছে।  সেটা দেখলেই সবকিছু পরিস্কার হবে।