সাইফের চুক্তি বাতিলে ১৫ দিনের আলটিমেটাম

প্রকাশ:| বুধবার, ২৭ আগস্ট , ২০১৪ সময় ০৭:৪৪ অপরাহ্ণ

সাইফের চুক্তি বাতিলে ১৫ দিনের আলটিমেটাম মহিউদ্দিনবার্থ অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেককে কালো তালিকাভুক্ত করে চুক্তি বাতিলের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন বন্দর রক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী।

১ সেপ্টেম্বর থেকে এ আলটিমেটাম শুরু হবে বলে ঘোষণা দেন মহিউদ্দিন। এছাড়া ১ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর কালো ব্যাচ ধারণ ও সাত সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বুধবার বিকেলে বন্দর গেইটের সামনে অনুষ্ঠিত শ্রমিক-জনতার সমাবেশ থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

বেধে দেওয়া সময়ের মধ্যে বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এ প্রতিষ্ঠানের চুক্তি বাতিল না করলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার হুমকি দিয়ে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন,‘১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ সমস্যার সমাধান না করলে আমরা ঘরে বসে থাকবো না।‘

বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হওয়াতে চট্টগ্রামবাসীর মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে উল্লেখ করে মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রামের জনগণ মনে ক্ষোভ নিয়ে এখানে এসেছে। কারণ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের বন্দর নিয়ে চক্রান্ত শুরু হয়েছে। তাই বন্দর বাঁচাতে সবাই ঐক্যবদ্ধ।

‍বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা বন্দর ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে তারা জাতির শত্রু। চট্টগ্রামের স্বার্থে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোল করছি।

জঙ্গিবাদে প্রশ্রয় দিচ্ছে সাইফপাওয়ারটেক:
বিতর্কিত সাইফ পাওয়ারটেক জঙ্গিবাদে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

সমাবেশে তিনি বলেন, অনিয়মের মাধ্যমে কাজ বাগিয়ে নিয়ে বন্দরকে জিম্মি করে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে যাচ্ছে সাইফ পাওয়ারটেক। বন্দর দিয়ে অবৈধ কন্টেইনার পাচারের পাশাপাশি জঙ্গিবাদে প্রশ্রয় দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

সমাবেশে তিনি বলেন, টাকা বিলি করে পক্ষে মানুষ ভেড়ানোর চেষ্টা করছেন।

বন্দর চেয়ারম্যানকে সতর্ক করলেন মহিউদ্দিন:
এদিকে সাইফ পাওয়ারটেক‘র পক্ষ নিয়ে বন্দর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলির অভিযোগ এনে বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদকে সতর্ক করেছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী।

চেয়ারম্যান বন্দর নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, বন্দরের কর্মকর্তারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বদলি করে দিচ্ছেন চেয়ারম্যান। বেছে বেছে ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান চট্টগ্রামের লোকদের বদলি করা হচ্ছে।

‘যাদেরকে বদলি করে দিয়েছেন তাদেরকে আসার সুযোগ করে দিতে হবে। প্রতিবাদ করলে ট্রান্সফার করবেন, হুমকি দিবেন। এটা আর চলবে না। চট্টগ্রামবাসী ভয় পায় না। বদলির নামে চক্রান্ত করলে দাতভাঙা জবাব দেওয়ার যোগ্যতা আমার আছে।’

বন্দরের তহবিলের টাকা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা, ক্রয়ে দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বন্দর চেয়ারম্যানের প্রতি অনুরোধ জানান মহিউদ্দিন।

সাইফ পাওয়ারটেকের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সাত ব্যক্তি জড়িত উল্লেখ করে মহিউদ্দিন তাদেরও সতর্ক করেন।

এদিকে সাইফ পাওয়ারটেকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও বুধবার সমাবেশে বার্থ অটারেটর মালিকদের কাছে না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি বলেন, বার্থ অপাটের, যারা ডুবে ডুবে জল খাচ্ছেন তাদের তালিকা আমার কাছে আছে।

ডক শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরী সভাপতি ইস্কান্দর মিয়ার সভাপতিত্বে এবং বন্দর রক্ষা পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আহাদের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সিবিএ সভাপতি মমতাজ উদ্দিন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার, বন্দর শ্রমিক নেতা ওয়াহিদুল্লাহ সরকারসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন।