ছাত্রলীগ নেতা বাবরের শোডাউন

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১০:০১ অপরাহ্ণ

নগরীর শহীদ মিনার এলাকায় কয়েক হাজার কিশোর, তরুণ এবং যুবক জড়ো করে আলোচিত যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের সমর্থনে শোডাউন করেছে ছাত্রলীগ। এসময় তারা বাবরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ এবং মামলা প্রত্যাহার না হলে কঠোর আন্দোলন শুরুর ঘোষণা দেন।

হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর কেন্দ্রীয় যুবলীগের উপ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক। নগরীর ওমরগণি এমইএস কলেজের ছাত্রসংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবরের নাম একসময় পুলিশের সন্ত্রাসী তালিকায়ও ছিল। বাবর নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

রেলওয়েতে টেন্ডারবাজি নিয়ে সিআরবিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ১২ অক্টোবর যুবলীগ-ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে জড়িতদের মধ্যে যুবলীগের নেতৃত্বে আছেন বাবর আর প্রতিপক্ষ ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী সাইফুল আলম লিমন।

সিআরবিতে সংঘর্ষের পর ১৭ অক্টোবর লিমনের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা নগরীর আন্দরকিল্লায় সমাবেশ এবং পরবর্তীতে মিছিল করে শোডাউন দেয়। পাল্টা শোডাউন হিসেবে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাবরের অনুসারীরা শহীদ মিনারে সমাবেশ করেছে বলে নগর ‍ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

এদিকে হেলাল আকবর চৌধুরীর বাবরের অনুসারীদের শোডাউন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল পুলিশও। নিউমার্কেট, সিনেমা প্যালেস, শহীদ মিনার, রাইফেল ক্লাব, বোস ব্রাদার্সের মোড়, নন্দনকানন, তিন পুলের মাথাসহ বিভিন্ন এলাকায় চার প্লাটুন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সূত্রমতে, বাবরের অনুসারীরা শহীদ মিনারে সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে আন্দরকিল্লায় যাবার কথা ছিল। এ বিষয়ে তারা পুলিশের মৌখিক অনুমতিও নেয়। কিন্তু বাবরপন্থীরা সংঘর্ষে জড়ানোর পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে শহীদ মিনারে এসেছে জানতে পেরে পুলিশ বিকেল ৩টার দিকে মিছিলের অনুমতি বাতিল করে। দুর্গাপূজা এবং এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে ফুটবল খেলাকে বিবেচনায় নিয়ে মিছিল বের করলে বাধা দেয়ার বিষয়েও পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত আসে। তবে শেষ পর্যন্ত বাবর অনুসারীরা মিছিল করেনি।

কোতয়ালি থানার ওসি মো.জসিম উদ্দিন বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ শেষ করে নেতাকর্মীরা ফিরে গেছেন। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

ব্যানারে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছবি ব্যবহার করে এবং এমইএস কলেজ, থানা, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও মহানগর ছাত্রলীগের নামে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে সন্ত্রাস-নৈারজ্য রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুবলীগ নেতা নূরুল আনোয়ার, সুরঞ্জিত বড়ুয়া লাভু ও শিবপসাদ দাশ, নগর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি একরামুল হক রাসেল।

তবে সমাবেশে হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ছিলেন না।

এর আগে ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি বিবদমান একই গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘাতে শিশুসহ দু’জন নিহত হয়। ওই ঘটনার পর বাবরকে যুবলীগের সদস্য থেকে এবং সাইফুল আলম লিমনকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। তাদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল।