ছাত্রলীগ নেতা তৌকির কুলখানি আজ

প্রকাশ:| বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:২৫ অপরাহ্ণ

চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে ছাত্রলীগ নেতা তৌকির হত্যা, আহতদের ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর: মামলার প্রস্তুতি চলছে
এ.কে. আজাদ, লোহাগাড়া:
ছাত্রলীগ নেতা তৌকির কুলখানি আজঢাকার সোহরাওয়ার্দ্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে সহকর্মীদের হাতে নিহত লোহাগাড়ার বার আউলিয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রলীগ নেতা তৌকির ইসলাম (১৯) এর কুলখানি আজ। আজ ৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার আছর নামাজের পর উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের মল্লিক ছোয়াং এলাকার হাজী পাড়াস্থ নিজ বাড়িতে এ কুলখানি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন নিহত তৌকিরের বড় ভাই মো: আলমগীর।
এদিকে, এ ঘটনায় আহত অন্য তিন ছাত্রলীগ নেতা শাহেদ হোসেন, মাইসা হোসেন রিচন ও মোর্শেদুল আলম নিবিলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর উত্তরা রিজেন্ট হাসপাতাল থেকে গতকাল বুধবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। নিবিল ও রিচন মোটামুটি শঙ্কামুক্ত হলেও শাহেদ হোসেনকে শরীরের বেশ কয়েকটি স্থানে জটিল অপারেশন করতে হবে বলে জানিয়েছেন তাদের দেখভালের দায়িত্বে নিয়োজিত ঢাকায় অবস্থানরত লোহাগাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রিদওয়ানুল হক সুজন। রিদওয়ানুল হক সুজন গতকাল বুধবার রাত ৮ টায় বলেন, এ ঘটনায় আহতদেরকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম দ: জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি মোছলেম উদ্দীন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহজাদা মহিউদ্দীন, লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দীন হিরু আহতদের চিকিৎসার ব্যাপারে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর নিচ্ছেন। এ ছাড়াও গত ৩১ আগষ্ট ঢাকার গাজীপুরের টঙ্গী শিমুল নিমতলী এলাকায় চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে ছাত্রলীগ নেতা তৌকিরকে হত্যা ও অপর তিন ছাত্রলীগ নেতা আহত হওয়ার ঘটনাটি কেন ঘটিয়েছে, কিভাবে ঘটানো হলো এবং এতে কারা জড়িত এসব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম দ: জেলা আওয়ামীলীগ ও লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। সবকিছু খোঁজখবর নেয়ার পর নিহত তৌকিরের পরিবারের সাথে আলোচনা করে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছেন লোহাগাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী। তবে, তিনি এ ঘটনায় জড়িত কাউকে কোনভাবেই ছাড় দেয়া হবে না বলে জানান।
অন্যদিকে, গতকাল বুধবার সকালে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি খোরশেদ আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক সালাহ উদ্দীন হিরুর নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিহত তৌকিরের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তার গ্রামের বাড়িতে যান। এ সময় নেতৃবৃন্দ নিহত তৌকিরের বাবা আবদুর রশিদ ও মা আয়েশা বেগমকে শান্তনা দেন এবং পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এ ছাড়াও নেতৃবৃন্দরা গতকাল দুপুরে নিহত তৌকিরের কবর জেয়ারত করেন এবং কবরে উপজেলা আ.লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলী অপর্ণ করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আ.লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আবদুল হামিদ বেঙ্গল, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক আবু ইউসুফ ও আমিরাবাদ ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নিহত তৌকিরের খালাতো ভাই কামাল উদ্দীনসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।
অপরদিকে, নিহত তৌকিরের পরিবারে এখনো চলছে শোকের মাতম। তার বাবা আবদুর রশিদ, মা আয়েশা বেগম ও বড় ভাই আলমগীর কোনভাবেই এ হত্যাকান্ডকে মেনে নিতে পারছেন না। তার মা-বাবা বুকে তৌকিরের ছবি নিয়ে এখনো বড় বড় বিলাপ ছুড়ছেন। বারবার বাঁধ ভাঙ্গা কান্নায় মূর্ছা যাচ্ছিলেন। গত তিন দিনের অনবরত কান্না ও ছেলে হারা শোকে প্রচন্ড জ্বরে ভুগছেন নিহত তৌকিরের মা আয়েশা বেগম। বিছানায় শুয়া থেকে কোনভাবেই ওঠতে পারছিলেন না। কেউ বাড়িতে গেলে অবাক চোখে ফ্যাল ফ্যাল করে শুধুই থাকিয়ে রয়েছেন। নিকট কোন আত্মীয় বাড়িতে গেলেই বুকে জড়িয়ে ধরে অঝর কান্নায় মূর্ছা যান তৌকিরের বাবা ও মা। ওই সময়েও তারা সরকারের কাছে তৌকির হত্যার বিচার দাবী করেছেন।