ছাত্রলীগ কর্মীর গাড়ি আটক করায় ট্রাফিক সার্জেন্টকে মারধর

প্রকাশ:| শনিবার, ২৩ আগস্ট , ২০১৪ সময় ১০:৫১ অপরাহ্ণ

নগরীর নিউমার্কেট মোড়ে জুলকারনাইন নামে ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টকে মারধর করেছে স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্মীরা। শনিবার চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ট্রাফিক সার্জেন্টকে বাঁচাতে এসে এক আনসার সদস্যও আহত হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল চারটার দিকে একজনের মোটর সাইকেল আটক করে সার্জেন্ট জুলকারনাইন। এসময় গাড়ির কাগজ দেখাতে বললে মোটরসাইকেল আরোহী নিজেকে ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয় দিয়ে কাগজ দেখাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সিটি কলেজ ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে মুঠোফোনে ট্রাফিক সার্জেন্টকে গাড়ি ছেড়ে দিতে বলে। ট্রাফিক সার্জেন্ট কাগজপত্র না থাকায় গাড়ি ছাড়তে অস্বীকৃতি জানায়। এর কিছুক্ষণ পর ওই ছাত্রলীগ নেতা দলবল নিয়ে এসে সার্জেন্ট জুলকারনাইনকে মারধর করে এবং গাড়ির হেলমেট ভেঙে ফেলে। তার কাগজপত্র রাস্তায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে দিয়ে গালাগালি করতে করতে চলে যায়। এসময় এক আনসার সদস্য তাকে বাঁচাতে এলে তাকেও মারধর করে কথিত ছাত্রলীগ কর্মীরা।

আবদুল হাই নামে ওই আনসার সদস্য বাংলানিউজকে জানান, ‘আমি রাঙামাটিতে কর্মরত। নিউমার্কেটে বাজার করতে এসেছিলাম। দেখি কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক ট্রাফিক সার্জেন্টকে মারধর করছে। আমি ছেলেগুলোর কাছে কি হয়েছে জানতে চাইলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে আমার উপরও চড়াও হয়। আমাকেও পুলিশের দালাল বলে মারধর করে।’

আহত জুলকারনাইন বাংলানিউজকে বলেন,‘বিকালে একটি মোটরসাইকেল আটক করে কাগজপত্র দেখতে চাই। তারা কাগজপত্র না দেখিয়ে মুঠোফোনে একজনকে ধরিয়ে দেয়। মুঠোফোনে সিটি কলেজের রনি পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেল ছেড়ে দিতে বলে। কাগজপত্র ছাড়া ছেড়ে দেওয়া যাবে না বললে আমি কোথায় আছি জানতে চায় এবং আমার টিআই কে জানতে চায়। আমি নিউমার্কেট মোড়ে আছি বলে জানাই। কিছুক্ষণ পর দলবল নিয়ে এসে আমার সঙ্গে টানাহেঁচড়া করে।’

নগর পুলিশের ট্রাফিক পরিদর্শক দেবব্রত বাংলানিউজকে জানান,‘শহীদ মিনার এলাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশ ছিল। সমাবেশের যাওয়ার সময় এক ছাত্রলীগ কর্মীর মোটরসাইকেল আটক করে জুলকারনাইন। কাগজপত্র দেখতে চাইলে মুঠোফোনে ছাত্রলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেল ছেড়ে দিতে বলে। সে ছাড়তে না চাওয়ায় কয়েকজন ছেলে এসে তার সঙ্গে টানাহেঁচড়া করেছে। কারা করেছে তাদের পরিচয় খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আরোও সংবাদ