ছাত্রলীগের সমাবেশ রোববার : নেত্রীই ভরসা

প্রকাশ:| শনিবার, ৩০ আগস্ট , ২০১৪ সময় ০৫:১৮ অপরাহ্ণ

শেখ হাসিনাএই প্রথমবারের মতো এককভাবে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্র সমাবেশ করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের সহযোগী ছাত্র সংগঠন ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের স্মরণে এ সমাবেশের আয়োজন বলে জানা গেছে। এখন পর্যন্ত প্রধান অতিথি হিসেবে সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকারে বিষয়টি চূড়ান্ত রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে সব ধরনের সমাবেশে ছাত্রলীগের উপস্থিতি থাকলেও এবারই প্রথমবার এককভাবে সমাবেশ করতে যাচ্ছে ছাত্রলীগ। সেদিক থেকে সমাবেশটি ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতারা।

এদিকে খোদ ছাত্রলীগের নেতারাই মেয়াদ উত্তীর্ণ অবৈধ কমিটির হাত থেকে ঐতিহ্যবাহী এ সংগঠনটিকে বাঁচাতে দ্রুত সম্মেলনের নির্দেশ আশা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দু বছরের কমিটি চার বছরে পা দিয়েছে। গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করেই চলছে এর কার্যক্রম। তারা আশা করেন, এ অচল অবস্থা থেকে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবেন। নেত্রীই এখন তাদের কাছে ভরসা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। যে কোনো মূল্যে সমাবেশ সফল করতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। সমাবেশে সর্বাধিক সমাগম ঘটানোর লক্ষে জেলায় জেলায় ছুটতে দেখা গেছে কেন্দ্রী নেতাদের। তৃণ‍মূলের সঙ্গে আলোচনা করে উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।

প্রথম দিকে শুধুমাত্র ঢাকা ও এর আশ পাশের জেলা থেকে ছাত্রদের এনে সমাবেশ করার কথা থাকলেও পরবর্তীতে এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে সারাদেশ থেকে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের জড়ো করে সমাবেশ সফল করার আয়োজন চলছে। সমাবেশকে ঘিরে সব ধরনের কেন্দ্রীয় নেতাদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।

এ সম্পর্কে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘আমরা একেবারে তৃণমূল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এনে সমবেত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ ‘সমাবেশে প্রতিটি উপজেলা কমিটি থেকে দুটি বাসে করে নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করবেন’ বলেও তিনি জানিয়েছেন।

উপস্থিতির বিষয়ে অনেক আশাবাদী থাকলেও প্রাথমিকভাবে ধরে নেয়া হচ্ছে লক্ষাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে ছাত্রলীগের এককভাবে আয়োজিত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। ছাত্রলীগের ত্রাণকর্তা হিসেবে কী দিক নির্দেশনা দেন সেটা দেখার অপেক্ষায় আছেন ছাত্রলীগ নেতারা।

নেত্রীর দেয়া ভাষণে কী রকম বক্তব্য আশা করেন এমন প্রশ্নের জবাবে নেতাদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করতে দেখা গেছে। তবে একটা বিষয় স্পষ্ট-তিনি যে কথাই বলুক না কেন তা মেনে নিতে প্রস্তুত সবাই।

আসন্ন সমাবেশ নিয়ে কথা হলো ছাত্রলীগের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক উপ সম্পাদক রকি খানের সঙ্গে। সমাবেশকে ঘিরে কতটুকু আশা প্রত্যাশা তার জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ছাত্র সংগঠন। সেই দিক থেকে সমাবেশকে ঘিরে প্রত্যাশা অনেক। আশা করি সমাবেশে সারাদেশ থেকে লক্ষাধিক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত হবেন এবং একই সঙ্গে ছাত্রলীগের ইতিহাসে সফল ছাত্র সমাবেশ হিসেবে নাম লেখাবেন।’

প্রধান অতিথি শেখ হাসিনার কাছে কী বক্তব্য আশা করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আগমী দিন গুলোতে সংগঠনের জন্য যা ভালো তাই তার কাছ থেকে আশা করি।’ তবে ছাত্রলীগের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে সঠিক দিক নির্দেশনা দিবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, সাম্প্রতিককালে ছাত্রলীগের নানা বিষয় নিয়ে শুধু নেতাকর্মীরাই না মন্ত্রীদের মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সময় মতো সম্মেলন না হওয়া।

তিনি জানান, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে বছর পার হয়ে গেছে অথচ সম্মেলনের নাম নেই। কোনো অবস্থায় যদি সময়মতো সম্মেলন দিতে ব্যর্থ হয় তবে তা সংগঠনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি আরও জানান, সম্মেলনের জন্য অনেকের মধ্যে হতাশা দেখা দিচ্ছে। বয়স ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে অনেক অভিজ্ঞ নেতা সংগঠন ছেড়ে চাকরি নিয়ে চলে যাচ্ছে। এতে করে অনেক অভিজ্ঞ নেতাদের হারানোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে ছাত্রলীগ।

অন্যদিকে দীর্ঘ দিন একই নেতাদের হাতে ক্ষমতা জিম্মি থাকার দরুন সাংগঠনিক দুর্বলতা তৈরি হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সংগঠনকে চাঙ্গা করতে অচিরেই সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়ার নিদের্শ প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আশা করেন এ ছাত্র নেতা।

সমাবেশ থেকে কী নির্দেশনা আসতে পারে তা আগে থেকেই বলা যাচ্ছে না। তবে অনেকেই মনে করেন সমাবেশ থেকে ছাত্রলীগের বিষয়ে বহুমুখি নির্দেশনা দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী। আবার অনেকেই ধারণা করছেন, সমাবেশে উপস্থিতির উপর নির্ভর করছে বর্তমান কমিটির ভবিষ্যৎ।

২০১১ সালে ১০ ও ১১ জুলাই কাউন্সিলের মাধ্যমে দায়িত্ব পায় বর্তমান কমিটি। সে সময় বদিউজ্জামান সোহাগ সভাপতি এবং সিদ্দিকী নাজমুল আলম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
১১ জুলাই বর্তমান ‘সোহাগ-নাজমুল’ কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। তবুও তাদের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে সাংগঠনিক তৎপরতা।


আরোও সংবাদ