ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:| বুধবার, ৩ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ০৬:২৫ অপরাহ্ণ

ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে। বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের যে কোনো আন্দোলনে ছাত্রলীগের অবদান ছিল।

আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব’ স্মরণে ছাত্রলীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে নিজের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমারও ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে কাজ করেছি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রাপ্তির পেছনে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের ভূমিকা রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যেকটি কাজের পেছনে অনুপ্রেরণাদাত্রী হিসেবে কাজ করতেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব।

তিনি বলেন, বঙ্গমাতার সাথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যোগাযোগ রাখতেন। প্রত্যেক আন্দোলন সংগ্রামে তার অবদান রয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবনে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। বঙ্গবন্ধু সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেন। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনেও অনুপ্রেরণা দেন বঙ্গমাতা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তানিরা আগরতলা যড়যন্ত্র মামলা দিয়েছিলো বঙ্গবন্ধুর নামে। তাকে ফাঁসি দিতে চেয়েছিলো।

৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে নানা জনে নানা কথা বলেছিল। যে কোনো সিদ্ধান্তের আগে আমার মা বাবাকে আলাদা করে দিতো। বলতেন ‘তুমি ১০ মিনিট বিশ্রাম নাও।’ সেদিন তার জ্বর ছিল। আমি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছিলাম। তখন আমার মা এসে বললো, সামনে লাখো মানুষ লাঠি হাতে, পেছনে পাকিস্তানি বাহিনী বন্দুক হাতে। তোমার মনে যা আছে তা বলে লাখো মানুষকে নেতৃত্ব দিবে। ওইদিনই তিনি সেই ঐতিহাসিক ভাষণ দেন।

ওই দিনের ভাষণ মানুষের মাঝে প্রেরণা দিয়েছে। এটা ঐতিহাসিক ভাষণ। সেই ভাষণ আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। যা মানবজাতির আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ট ভাষণ হিসেবে বিবেচিত। এই ভাষণ একটি জাতিকে প্রেরণা জুগিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধ অর্জনের দিতে ধাবিত করেছিল। তিনি যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন তার লক্ষ্য ছিল বিজয় অর্জন। তাকে বন্দী করে বাংলার মাটিতে রাখেনি। পাকিস্তানে নিয়ে রেখেছিলেন। তিনি ভয় পাননি। তিনি মৃত্যুর জন্য সবসময় প্রস্তুত ছিলেন। তিনি এ দেশের সাধারণ মানুষের স্বাধীনতার জন্য সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। তার ডাকে বাঙালিরা অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরে।

স্বাধীনতার পর তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ফিরে এ জাতির দায়িত্ব নেন। তিনি দেশকে গড়ে তুলতে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তখন শত্রুরা যখন দেখলো কোনোমতেই বাঙালিদের অগ্রগতি থামানো যাবে না, তখনই বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়।

বিকেল সাড়ে চারটায় সমাবেশের মঞ্চে আরোহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল পৌনে চারটায় শোক প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ছাত্রসমাবেশ।

প্রধানমন্ত্রীর আগে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী, যোগাযোগ মন্ত্রী ও ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করছেন ছাত্রলীগ সভাপতি এইচ. এম. বদিউজ্জামান সোহাগ।