ছাগলনাইয়ায় সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মশালা

প্রকাশ:| সোমবার, ১ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ১০:৩৭ অপরাহ্ণ

সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার মাধ্যমে বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতা করুন, তাহলে জাতি উপকৃত হবে-শিরীণ

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছাগলনাইয়া প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে সোমবার অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন জাসদ নেত্রী শিরীন আখতার এমপি। ক্লাবের আহবায়ক কামরুল হাসান লিটনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের পরিচালনায় এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রশিক্ষণ কর্মশালার মিডিয়া পার্টনার বাংলাদেশ নিউজ এজেন্সি (বিএনএ) ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ বিএনএ ডটকম এর সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মজুমদার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী শহিদুল ইসলাম, পৌর মেয়র মোঃ আলমগীর বিএ, উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান এয়ার আহাম্মদ ভূঁঞা, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান বিবি জোলেখা শিল্পী, সাবেক ভাইস-চেয়ারম্যান হাজী আবু আহাম্মদ ভূঁঞা, ফেনী প্রেস ক্লাবের সভাপতি বখতেয়ার ইসলাম মুন্না, ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দৈনিক ফেনীর সময়’র সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন ও ছাগলনাইয়া থানার অফিসার ইনচার্জ রাশেদ খাঁন চৌধুরী।

বক্তব্য রাখেন, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কবির আহাম্মদ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ শেখ কামাল, নুরুজ্জামান সুমন, আবুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির লিটন ও আহবায়ক কমিটির সদস্য আবদুল আউয়াল চৌধুরী।

প্রশিক্ষণ প্রদান করেন, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাধব চন্দ্র দাস ও চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবি নাজিমুদ্দীন শ্যামল।

কর্মশালায় মোট ৩০ জন সাংবাদিক অংশ গ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাসদ নেত্রী শিরীন আখতার এমপি বলেন, সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার মাধ্যমে বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতা করুন, তাহলে জাতি উপকৃত হবে। সমাজের সঙ্গে যোগসূত্রের মাধ্যম হচ্ছে সাংবাদিক। তাই সাংবাদিকদেরকে বলা হয় সমাজের দর্পন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালা
অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ বিএনএ ডটকম এর সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মজুমদার বলেন, জাতির নানান ক্রান্তিকালে সাংবাদিকরাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেন এবং দিক নির্দেশনা দিতে চেষ্টা করেন। যে কোনো সংবাদ তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে পরিবেশন করেন। তবে জাতীয় সংবাদের চেয়ে স্থানীয় সংবাদের গুরুত্বও স্থানীয়ভাবে অনেক বেশী তাৎপর্য বহন করে। তাই স্থানীয় সাংবাদিকতারও গুরুত্ব অপরিসিম। গ্রামীণ সাংবাদিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র হলেন মরহুম সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিন। তিনি সংবাদ ও জনকন্ঠে থাকাকালীন সময়ে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।

সব সময়ই অজ্ঞানতা, বঞ্চনা ও নিগ্রহের শিকার হয় গ্রামের মানুষ। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক যাঁতাকলে নিষ্পেষিত এসব মানুষকে চিরকাল সমস্যা ঘিরে রাখবে। কোনদিনই মুক্তির পথে আসবে না, যদি তারা তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হন।

আর এ দায়বোধ থেকেই মোনাজাতউদ্দিন সেইসব মানুষের গাথা শোনাতে হাতে কলম তুলে নেন। প্রচলিত সাংবাদিকতার ধারা থেকে বাইরে এসে জনমানুষের উপযোগী করে এক বিকল্প ধারার সাংবাদিকতার যাত্রা শুরু করেছিলেন। গ্রামের মানুষদের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনাকে তার শিল্পিত হাতের ছোঁয়ায় প্রাণ পেয়েছিল খবরের কাগজে। সংবাদ যে শুধু শহরকেন্দ্রিক নয়, গ্রামের মানুষেরাও যে কাগজের মানুষে পরিণত হতে পারে, তার গুরু দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মোনাজাত উদ্দিন।

সংবাদপত্রগুলো মূলত সমাজের উচু শ্রেণীর মানুষের কথা এবং রাজনীতি অথবা পুঁজি-স্বার্থে বিজ্ঞাপন প্রচারে সবসময়ই সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। মোনাজাত উদ্দিন এই ধারার বাইরে এসে সাংবাদিকতার নতুন ধারা নির্মাণে সচেষ্ট হলেন এবং গড়ে তুললেন সাংবাদিকতার এক নতুন অধ্যায়। তার পেশা, নেশা দুইই ছিলো গ্রামের পথ-ঘাট ঘুরে ঘুরে সংবাদ সংগ্রহ করা। তিনি মানুষের পাঁজরের হাড়ের খবর তুলে আনতেন। নির্যাতিত মানুষের জীবনের দুঃখগাথা ছিলো তার সংবাদের বড় অংশ। তিনি সবসময়ই সুবিধা বঞ্চিত নিরন্ন মানুষের সংবাদকে বেশি প্রাধান্য দিতেন।

শেষে অতিথিগণ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের মধ্যে সনদপত্র বিতরন করেন।