ছন্নছাড়া বোলিংয়ে শেষ

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২ জুন , ২০১৭ সময় ১২:২৩ পূর্বাহ্ণ

দশ বছর পর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মঞ্চে বাংলাদেশ। বড় মঞ্চে বাংলাদেশ কেমন পারফরম্যান্স করে, সেটাই ছিল দেখার! ব্যাট হাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ ছিল চেনা ছন্দে। কিন্তু বোলিংয়ে ছন্নছাড়া।

বল হাতে প্রতিরোধ গড়তে না পারায় বড় হারের স্বাদ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির যাত্রা শুরু হলো বাংলাদেশের। ওভালে উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৮ উইকেটে হারল মাশরাফির দল।

ফেবারিট ইংল্যান্ড হেসে খেলে বাংলাদেশকে হারিয়েছে। জিততে রেকর্ড গড়তে হয়েছে তাদেরকে। আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে ৩০৫ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ১৬ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখে জয় পায় এউইন মর‌গানের দল। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে এর আগে তিনশ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ছিল না। ২০১৩ সালে সর্বোচ্চ ২৯৭ করেছিল শ্রীলঙ্কা, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এ ওভালেই। চার বছরের ব্যবধানে রান তাড়ার রেকর্ডটি নিজেদের করে নিল ইংল্যান্ড।

ব্যাটসম্যানদের ম্যাচে সেঞ্চুরি হয়েছে দুটি। বাংলাদেশের তামিম ইকবাল ও ইংল্যান্ডের জো রুট সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন। অন্যদিকে হাফ-সেঞ্চুরি হয়েছে তিনটি। মুশফিকুর রহিম, অ্যালেক্স হেলস ও এউইন মর‌গান হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন। তবে সব আলো কেড়ে নেন দুই সেঞ্চুরিয়ান রুট ও তামিম।

শুরুটা ছিল তামিম ইকবালের। প্রিয় প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডকে পেয়ে তামিম আবারও দূর্বার। ২০১০ সালে লর্ডস ও ওল্ড ট্র্যাফোর্ড টেস্টে সেঞ্চুরি করে জাত চেনানো তামিম আজ সেঞ্চুরি করেন ঐতিহাসিক ওভালে। প্রতিটি ইংলিশ বোলারদের তুলোধুনো করেন তামিম। কথার যুদ্ধে লাগা স্টোকসকে বাদ দিয়ে প্রায় প্রতিটি বোলারকে কড়া শাসন করেছেন। সবচেয়ে বেশি রান করেন লিয়াম প্লাঙ্কেটের বলে। ২৫ বলে করেন ৩৭। সেই প্লাঙ্কেটের বলে আউট হন ১২৮ রানে, যা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ। ১৪২ বলে ১২ চার ও ৩ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান দেশসেরা ওপেনার।

বাদ যাননি মুশফিকুর রহিম। বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্যাটিং করা মুশফিক ৭২ বলে করেন ৭৯ রান। তাদের দুজনের ব্যাটে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ১৬৬ রান, যা এশিয়ার বাইরে সর্বোচ্চ। ২০১৫ বিশ্বকাপে মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে মুশফিক করেছিলেন ১৪১ রান। আজ তামিমকে নিয়ে নতুন রেকর্ড মুশফিকের।

এর আগে ইংল্যান্ডের আমন্ত্রণে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের শুরুটা ছিল সাবধানী। নবম বলে স্কোরবোর্ডে যোগ হয় প্রথম রান। প্রথম বাউন্ডারির জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৪.৩ ওভার পর্যন্ত। জেক বলের পরপর দুই বলে দুটি বাউন্ডারি তুলে নেন সৌম্য। তামিমও পিছিয়ে থাকেননি। উইকেটরক্ষকের ওপর দিয়ে প্রথম বাউন্ডারির স্বাদ পাওয়া তামিম পরের তিনটি বাউন্ডারি পান চোখ ধাঁধানো শটে। প্রথমটি লং অনে ড্রাইভ করে, পরেরটি লেগ সাইডে ফ্লিক এবং তৃতীয়টি কভার ড্রাইভে। ১১তম ওভারের প্রথম বলে এগিয়ে এসে বিশাল ছক্কা হাঁকান সৌম্য। ওই ওভারে তার ব্যাট থেকে আসে ১৫ রান। তবে পরের ওভারেই সাজঘরে ফিরতে হয় । বেন স্টোকসের অফ স্টাম্পের বাইরের বল আপারকাট করতে গিয়ে ডিপ কভারে ক্যাচ দেন ৩৪ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৮ রান করা সৌম্য। ব্যক্তিগত ১১ রানে জীবন পেলেও ইনিংসটিকে বড় করতে পারেননি।

তিনে নেমে তামিমকে সঙ্গ দিতে পারেননি ইমরুল। প্লাঙ্কেটের বলে এগিয়ে এসে মারতে গিয়ে মিড অফে ক্যাচ দেন ১৯ রানে। তৃতীয় উইকেটে পাল্টে যায় বাংলাদেশের চিত্র। তামিম-মুশফিকের ১৬৬ রানের জুটিতে বাংলাদেশ পায় পাহাড় সমান রান। শেষ দিকে পরপর দুই বলে দুই হাই স্কোরার আউট হলে রানের চাকায় কিছুটা লাগাম পড়ে। সাব্বিরের ১৫ বলে ২৪ ও সাকিবের ৮ বলে ১০ রানের সুবাদে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিনশ রান পেরোয় বাংলাদেশ। এর আগে ২৮৮ রান ছিল সর্বোচ্চ। সেবার ঢাকায় হেরেছিল বাংলাদেশ। এবার ওভালে। বল হাতে লিয়াম প্লাঙ্কেট নেন ৪ উইকেট।

বড় সংগ্রহের বিপরীতে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। জেসন রয়কে আউট করেন মাশরাফি। ফাইন লেগে অসাধারণ ক্যাচ দেন মুস্তাফিজুর রহমান। দ্বিতীয় উইকেটে ১৫৯ রান যোগ করেন হেলস ও রুট। সেখানেই ম্যাচ হেরে বসে বাংলাদেশ। হেলস ও রুট ওভারপ্রতি ছয়-সাত গড়ে রান তুলেন। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থেকে হেলস আউট হলেও রুট সেঞ্চুরি তুলে নিতে ভুল করেননি। শুধু সেঞ্চুরি না জয় তুলে নিতেও ভুল করেননি ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান। ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলেই মাঠ ছাড়েন। ১৩৩ রানের ইনিংসটি খেলেন ১২৯ বলে। ১১ চার ও ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান । তাকে তৃতীয় উইকেটে সঙ্গ দেন মরগান। ১৪৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজন। মরগানের ব্যাট থেকে আসে ৭৩ রান।

নিরুত্তাপ দ্বিতীয় ইনিংসে উত্তাপ ছড়ান তামিম! মাশরাফি করা ইনিংসের ৩৬তম ওভারে লং অনে ফিল্ডিং করছিলেন তামিম। ২২ রানে থাকা ইংলিশ অধিনায়ক এউইন মর‌গান মাশরাফির স্লোয়ারে বল হাওয়ায় ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। দৌড়ে সামনের দিকে ঝাঁপিয়ে বল তালুবন্দি করেন তামিম। অন ফিল্ড আম্পায়ার সুন্দরাম রবি তৃতীয় আম্পায়ারের সাহায্য নেন। কিন্তু সফট সিগন্যাল নট আউট দেন ভারতীয় ওই আম্পায়ার। তৃতীয় আম্পায়ার ব্রুস ওক্সেনফোর্ড দুই অ্যাঙ্গেল থেকে বল দেখে রবির সিদ্ধান্তে মত দেন। তাতেই ক্ষেপে যান তামিম! সে সময়ে ইংল্যান্ড জয়ের থেকে ১০২ রান পিছিয়ে ছিল। ব্রেক থ্রুয়ের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের পক্ষে মরগানের উইকেট আসলে ফল পরিবর্তন হতেও পারত!


আরোও সংবাদ