চোরাই নোহা মাইক্রোবাসসহ গ্রেপ্তার হয়েছে চোরাই চক্রের এক সদস্য

প্রকাশ:| শুক্রবার, ২২ নভেম্বর , ২০১৩ সময় ০৮:১৬ অপরাহ্ণ

পুলিশ পরিচয় দিয়ে কুষ্টিয়া থেকে ভাড়া করা একটি নোহা মাইক্রোবাস চুরি করে চট্টগ্রামে নিয়ে আসার ৭ দিনের মাথায় ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে চোরাই চক্রের এক সদস্য। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হয়ে যাওয়া গাড়িটিও।চোরাই

বৃহস্পতিবার রাতে নগরীর মেহেদীবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চোরাই চক্রের মূলহোতা ভূয়া পুলিশ আবুল হোসেন ওরপে ইকবালকে (৩৫)। তার দেয়া তথ্য মতে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার বাবুল আক্তার বলেন, ‘কুষ্টিয়া সদর এলাকা থেকে বেড়ানোর কথা বলে ভাড়ায় করা একটি নোহা মাইক্রো চোরাই চক্রের চার সদস্য চালককে অজ্ঞান করে গাজীপুরে ফেলে দিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। গ্রেপ্তার ইকবাল গাড়ি ভাড়া নেয়ার সময় নিজেকে পুলিশের এসআই পরিচয় দেয়। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া থানায় মামলা হলে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অনুরোধে নগর গোয়েন্দা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে চোরাই চক্রের মূল হোতা ইকলাল ও গাড়িটি উদ্ধার করে। অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

পুলিশ জানায়, গত ১৫ নভেম্বর সকালে কুষ্টিয়া সদরের কমলাপুর এলাকার জনৈক মো. দোলোয়ার হোসেনের নোহা মাইক্রোবাস (ঢকা মেট্রো-চ-৫৪-০৩৩৪) চার ব্যক্তি পুলিশ অফিসারের ভুয়া পরিচয় দিয়ে বগুড়া জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে ভাড়া নেয়। সন্ধ্যার দিকে গাড়ির ড্রাইভারকে অজ্ঞান অবস্থায় গাজীপুর জেলার চৌরাস্তায় ফেলে দিয়ে গাড়ি চুরি করে নিয়ে যায় এবং যোগাযোগের জন্য দেয়া মোবাইল নম্বর বন্ধ করে দেয়।

এ ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলার ডিবি পুলিশ তদন্তে নামে এবং সিএমপি ডিবির সহায়তা চায়। পরে নগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনার মূল হোতা কুষ্টিয়া সদর থানার পুলিশের এসআই পরিচয়দানকারী চোরচক্রের দলনেতা আবুল হোসেন ওরপে ইকবালকে (৩৫) নগরের মেহেদীবাগ ন্যাশনাল হাসপাতালের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল নিজেকে ড্রাইভার বলে পরিচয় দেয় এবং ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে।

জিজ্ঞাসাবাদে ইকবাল জানায়, তার বন্ধু ড্রাইভার আকরাম (৩৫) ও তাদের অপর সহযোগী বাবুর্চি রুবেল, আমিরসহ চার জন মিলে কুষ্টিয়া যায়। পরিকল্পনা মোতাবেক চোরাই যাওয়া মাইক্রোবাসটি কুষ্টিয়া থেকে বগুড়া যাওয়ার কথা বলে ৮ হাজার টাকায় ভাড়া করে। গাড়ির মালিক তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করলে সে নিজেকে কুষ্টিয়া সদর মডেল থানার সদ্য যোগদানকৃত এসআই পরিচয় দেয় এবং যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর প্রদান করে। পরবর্তীতে নাটোরের সিংড়া এলাকায় এসে ড্রাইভারকে খাবারের সঙ্গে নেশা জাতীয় ঔষধ খাইয়ে অজ্ঞান করে গাজীপুর জেলার চৌরাস্তা এলাকায় নামিয়ে দেয়। আমির ও রুবেল ঢাকায় কাঁচপুরে নেমে যায়। ইকবাল ও আকরাম চট্টগ্রাম শহরে চলে আসে এবং হিলভিউ এলাকায় পরিচিত এক গ্যারেজে গাড়িটি রাখে।

পুলিশ আরো জানায়, গ্রেপ্তারের পর ইকবালের দেয়া তথ্য মোতাবেক তার সহযোগী আকরামকে গ্রেপ্তরের লক্ষ্যে কক্সবাজার জেলার সদর মডেল থানার নতুন বাহার ছড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হলেও সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে শুক্রবার সকালে পাঁচলাইশ থানাধীন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকা থেকে প্রতারণাপূর্বক চুরি করে নিয়ে আসা মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়।

ইকবাল ও উদ্ধার করা মাইক্রোবাস কুষ্টিয়া ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।


আরোও সংবাদ