চেঙ্গী পাড়ের মানুষের দিন কাটছে আতংকে

mirza imtiaz প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৮ সময় ১২:০৩ অপরাহ্ণ

খাগড়াছড়ির চেঙ্গী পাড়ের মানুষের দিন কাটছে ভাঙন আতংকে। নদীর অব্যাহত ভাঙন ইতিমধ্যে গ্রাস করেছে প্রায় শতাধিক ঘর–বাড়ি। ভিটে বাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে নদী পাড়ের বাসিন্দারা। অনেকে অন্যত্র জমি কিনে বসতি গড়েছে। প্রায় ৪–৫ বছর ধরে ভাঙন চললেও তা ঠেকাতে কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

চেঙ্গীর তীব্র ভাঙনে কেবল বসত বাড়ি কিংবা জমি হারায়নি এখানকার প্রান্তিক মানুষেরা হারিয়েছে দু’চোখের স্বপ্নও। অনেকের চোখের সামনেই আজীবন সঞ্চয়ে গড়ে তোলা ঘর বাড়ি বিলীন হয়েছে।

প্রতিদিন একটু একটু করে একরের পর একর ভূমি গিলছে চেঙ্গীর নদীর হিংস্র স্রোত। চেঙ্গী নদীর তীরবর্তী গঞ্জপাড়া,রাজ্যমণি পাড়া,বটতলী এলাকার বাসিন্দারা এখনো ভাঙন আতংকে। চেঙ্গী পাড়ের বাসিন্দা মংসানা মার্মা ,বীরজয় মার্মা ,সাইথোয়াই মার্মা,ঝরাবিজয় মার্মাসহ আরো অনেকে তাদের ভিটে মাটি হারিয়ে অন্যত্র বসতি গড়েছে। পাড়ের বাসিন্দা হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান,‘ দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চলতে থাকলেও প্রশাসনের কোন নজর নেই। এই নিয়ে চারবার। এবার ভাঙলে এলাকা ছাড়তে হবে। স্থানান্তর হওয়া ছাড়া অন্য কোন পথ খোলা থাকবে না। নদী কেড়ে নিয়েছে আমার ৪ (চার) শতক ভূমি। এই নিয়ে কোন ত্রাণ কিংবা আর্থিক সহযোগিতা পায়নি।’

গঞ্জপাড়ার লাগায়ো বটতলী এলাকা গ্রামের কালা মার্মা জানান,‘ আমার দোকান থেকে নদীর দুরত্ব মাত্র ৫ ফুট। যেকোন সময় বিলীন হতে পারে দোকানটি। ’

খাগড়াছড়ির উপজেলা সদর এলাকায় নদীর ভাঙন গ্রাস করে এই দুই গ্রাম। বর্ষার সময় নদীর দুকূল ছাপিয়ে বন্যা হয় নদীর তীরবর্তী এলাকায় । গ্রামের বাসিন্দা জানান ,‘ নদীর ভাঙন ফসলের মাঠ পেরিয়ে এবার চলাচলের সড়কটিও ভাঙছে। এভাবে চলতে থাকলে পুরো গ্রামটি বিলীন হয়ে যাবে। গ্রামের বাসিন্দা সুমন বড়ুয়া বলেন,দীর্ঘকাল ধরে নদী এভাবে ভেঙে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক জমি নদীতে হারিয়েছে।’

খাগড়াছড়ির সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ই্‌উএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ জানান,‘ চেঙ্গীর ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায়। নদী শাসন প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় তা বাস্তবায়নে সার্বিক উদ্যোগ নেয়া হবে।’

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার তারেক বলেন,‘খাগড়াছড়ির মাইনী ও চেঙ্গীর নদীর দু’পাড়ে ভাঙন রোধে সাড়ে তিন শ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন থেকে রবাদ্দ পাওয়া গেলে ভাঙন কবলিত এলাকায় দ্রুত কাজ শুরু হবে।’