চেক প্রতারণার অভিযোগে ৪ শিল্পপতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি , ২০১৪ সময় ১১:৪৪ অপরাহ্ণ

চেক প্রতারণার অভিযোগে বাণিজ্যিক ব্যাংকের দায়ের করা পৃথক মামলায় চট্টগ্রামের ৪ শিল্পপতির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মুজিবুর রহমান এসব গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

পরোয়ানাভূক্ত শিল্পপতিরা হলেন, এসএ গ্রুপের ‘সামান্নাজ সুপার অয়েল লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহাবউদ্দিন আলম ও তার স্ত্রী একই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ইয়াসমিন আলম। নূরজাহান গ্রুপের ‘মেরিন ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড’র চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির আহম্মদ এবং তার ভাই একই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও একই গ্রুপের ‘মেসার্স জাসমিয়া ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেড’র চেয়ারম্যান টিপু সুলতান।

এদের মধ্যে জহির আহম্মদ ও টিপু সুলতান যৌথভাবে একটি মামলায়, টিপু সুলতানের বিরুদ্ধে এককভাবে তিনটি মামলায় এবং শাহাবউদ্দিন দম্পতির বিরুদ্ধে তিনটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট কামাল উদ্দিন আহমেদ জানান, শাহাবউদ্দিন দম্পতির বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় নির্ধারিত ছিল সোমবার। আর নূরজাহান গ্রুপের ‍দু’জনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলোর শুনানির সময় নির্ধারিত ছিল মঙ্গলবার। কিন্তু অভিযোগ গঠনের শুনানিতে অভিযুক্তরা হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালত সূত্র জানায়, নগরীর পাহাড়তলী থানার সাগরিকা শিল্প এলাকায় নুরজাহান গ্রুপের মেরিন ভেজিটেবল অয়েল লিমিটেডের নামে কমার্স ব্যাংক থেকে ৫৫ কোটি টাকা ঋণ নেয়া হয়। এ ঋণ পরিশোধের অংশ হিসেবে ২০১২ সালের ২৩ এপ্রিল মার্কেন্টাইল ব্যাংকের খাতুনগঞ্জ শাখার বিপরীতে পাঁচ কোটি টাকার একটি চেক দেন। একই দিন চেকের বিপরীতে কমার্স ব্যাংকের পক্ষ থেকে টাকা উত্তোলন করতে গেলে ‘অপর্যাপ্ত তহবিলের’ জন্য চেক ডিজঅনার হয়।

এরপর কয়েক দফা লিগ্যাল নোটিশ দিয়েও ঋণগ্রহীতার সাড়া না পেয়ে কমার্স ব্যাংকের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখার ফার্স্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার মোশাররফ হোসেন বাদি হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জহির আহমেদ ও তার ভাই টিপু সুলতানকে আসামি করা হয়। এ মামলায় আদালত আগামী ৪ মার্চ অভিযোগ গঠনের পরবর্তী সময় নির্ধারণ করেছেন।

এদিকে সোনালী ব্যাংক থেকে বিভিন্ন সময়ে নেয়া ঋণের বিপরীতে ২০১২ সালের ২৮ জুন পাঁচ কোটি টাকার দু’টি এবং চার কোটি টাকার একটিসহ মোট তিনটি চেক প্রদান করেন নূরজাহান গ্রুপের মেসার্স জাসমিয়া ভেজিটেবল অয়েলের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেক তিনটি ৫ আগস্ট জমা দেয়ার পর ‘অপর্যাপ্ত তহবিলের’ কারণে ডিজঅনার হয়।

২০১২ সালের ২৮ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের আগ্রাবাদ কর্পোরেট শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোয়াজ্জেম হোসেন বাদি হয়ে আদালতে পৃথকভাবে তিনটি মামলা দায়ের করেন।

মঙ্গলবার এসব মামলায় অভিযোগ গঠনের নির্ধারিত দিনে আসামি আদালতে হাজিরা না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত আগামী ৫ মার্চ অভিযোগ গঠনের পরবর্তী সময় নির্ধারণ করেছেন।

নগরীর আগ্রাবাদ ফিনলে হাউসের ঠিকানায় এস এ গ্রুপের সামান্নাজ সুপার অয়েল লিমিটেডের নামে অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয়। এসব ঋণ পরিশোধের জন্য সামান্নাজের পক্ষ থেকে ২০১৩ সালের ২১ মে অগ্রণী ব্যাংককে তিনটি চেক প্রদান করা হয়। এর মধ্যে কমার্স ব্যাংকের অনুকূলে চার কোটি ৫০ লক্ষ ৫ হাজার টাকা ও ২০ কোটি ৪৯ লক্ষ ৯০ হাজার টাকার দু’টি এবং ঢাকা ব্যাংকের অনুকূলে ৪৯ কোটি ১০ লক্ষ টাকার একটি চেক প্রদান করা হয়।

যেদিন চেক দেয়া হয় ওইদিনই সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষ থেকে সেগুলোর বিপরীতে টাকা গ্রহণ করতে গেলে ‘অপর্যাপ্ত তহবিলের’ জন্য চেকগুলো ডিজঅনার হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিল্প প্রতিষ্ঠানকে জানানো হলেও এবং দু’দফায় লিগ্যাল নোটিশ দেয়ার পরও তারা এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

এরপর ২০১৩ সালের ৪ জুলাই অগ্রণী ব্যাংকের আগ্রাবাদ করপোরেট শাখার সিনিয়র অফিসার সুলতান আহমেদ বাদি হয়ে নিগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট এর ১৩৮ ও ১৪০ ধারায় মহানগর হাকিম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় শাহাবউদ্দিন আলম ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন আলমকে অভিযুক্ত করা হয়।