চুয়েট ফাঁড়ির পুলিশ নায়েক ও সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ১০:১৮ অপরাহ্ণ

রাউজানের পাহাড়তলী থেকে জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর অভিযানে উদ্ধার হওয়া মদ অন্যত্র বিক্রি কর দেওয়ার অভিযোগ

শফিউল আলম, রাউজানঃ
রাউজানে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও এলাকাবাসীর অভিযানে ধরা পড়া মদ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যায়ে অবস্থিত চুয়েট পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ বিক্রি করে দিয়েছে। এই ঘটনা ফাঁস হয়ে যাওয়ায় চুয়েট পুলিশ ফাঁড়ির অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা (নায়েক) আবদুল কুদ্দস ও নজরুল ইসলাম নামের এক সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই দুই অভিযুক্ত মঙ্গলবার রাতেই চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে চলে যান।
উপজেলার পাহাড়তলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রোকন উদ্দিন বলেন ‘পাহাড়তলীর শেখপাড়ার নুরুল আলমের পুত্র আবুল কালাম গত ৯ নভেম্বর সোমবার বিকেলে ঊনসত্তর পাড়ার শীতল্যা পুকুর পাড়ে চোলাই বাংলা মদ বিক্রি করছে বলে খবর পেয়ে আমি, স্থানীয় মেম্বার সুজন মল্লিক ও স্থানীয় লোকজন মিলে মাদক বিরোধী অভিযান করি। এসময় মাদক বিক্রেতা আবুল কালাম পালালেও পুকুর পাড় থেকে সাড়ে তিন বস্তা (৯০ লিটার) মদ উদ্ধার করি। পরে মদগুলো নিয়ে যাওয়ার জন্যে স্থানীয় চুয়েট পুলিশ ক্যাম্পে খবর দিলে ক্যাম্পের নায়েক আবদুল কুদ্দুস ও সিপাহী নজরুল ইসলাম এসে চোলাই মদগুলো ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরে রাউজান থানার এসআই আমজাদ হোসেন চুয়েট ফাঁড়িতে আটকৃত মদগুলো নিতে আসলে তাকে ৯০ লিটারের পরিবর্তে ১৬ লিটার মদ উদ্ধার হয়েছে বলে দেখানো হয়। পরে আমজাদ ১৬ লিটার মদ থানায় নিয়ে যান। ফাঁড়ি পুলিশের এই লোকোচুরির সংবাদ প্রকাশ পেয়ে বিষয়টি আমি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশকে জানাই। ওসি বিষয়টি শুনে (আজ) গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তদন্ত করতে চুয়েট পুলিশ ফাঁড়িতে যান। এসময় আমি, মেম্বার এবং ফাঁড়ির নায়েক আবদুল কুদ্দুস, সিপাহী নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে ফাঁড়ির নায়েক আবদুল কুদ্দুস, সিপাহী নজরুল ইসলাম অস্বীকার করলেও ওসির তদন্তের কাছে স্বীকার করে যে, ৯০ লিটারের মধ্যে বাকী ৭২ লিটার মদ তারা বাইরে বিক্রি করে ১৬ লিটার মদ থানা পুলিশকে উদ্ধার দেখিয়েছেন। তাদের এই ঘটনা স্বীকারের পর তাদের দুজনকে পুলিশ ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দেন এবং বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।’
এব্যাপারে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার দাশ বলেন ‘চুয়েট পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক ও সিপাহী মিলে মদ অন্যত্র বিক্রি করে দেয়ার ঘটনা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। দুজনকে মঙ্গলবার রাতেই ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যে জেলা এসপির কাছে সুপারিশ করা হলে তিনি দুজনকেই সাময়িক বরখাস্ত করেছেন বলে রাতে জানতে পেরেছি।’
এব্যাপারে চুয়েট ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল ইসলাম বলেন ‘সাড়ে তিন বস্তা নয়, আমার কাছে মাত্র এক বস্তা মদ হস্তান্তর করা হয়। সেগুলো থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে ওসি তদন্ত আসেন। ওসির তদন্তের পর নায়েক আবদুল কুদ্দস ও সিপাহী নজরুল ইসলামকে পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দিতে নির্দেশ দেয়ায় আমি তাদের দুজনকে রাতেই পুলিশ লাইনে পাঠিয়ে দিয়েছি।’ থানা সূত্রে জানা যায়, মদের মওজুতকারী আবুল কালামের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা রুজু করা হচ্ছে।