চুয়েটকে বিশ্বমানের শিক্ষা-গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ার প্রত্যয়

প্রকাশ:| সোমবার, ১ সেপ্টেম্বর , ২০১৪ সময় ১০:১৪ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম, রাউজানঃ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-কে প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিশ্বমানের শিক্ষা এবং গবেষণা কেন্দ্র হিসেবে গড়ার প্রত্যয়ে ১২তম বিশ্ববিদ্যালয় গতকাল ১ সেপ্টেম্বর, সোমবার পালিত হয়েছে। দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্যে ছিল স্বেচ্ছায় রক্তদান, বৃক্ষরোপন আনন্দ র‌্যালি, আলোচনা সভা, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ প্রভৃতি।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়েটের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ রফিকুল আলম এবং পুরকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. স্বপন কুমার পালিত।

‘এঁবংঃ ড়ভ ঐড়হড়ৎ’ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কনফিডেন্স সিমেন্ট লি:-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব রূপম কিশোর বড়–য়া, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: ওয়াহিদুর রহমান, গণপূর্ত অধিপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: কবির আহমদ ভূূঞা এবং বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানী লিমিটেড-এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান সান্টু। সভাপতিত্ব করেন চুয়েটের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. মো: জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমানে চুয়েট অস্থিরতামুক্ত ও সেশনজট মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত। এখানে শিক্ষা-গবেষণার গুণগত মান নিশ্চিতকরণে নানামুখী প্রচেষ্টা আছে। অতি শীঘ্রই এখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের তত্ত্বাবধায়নে ছঁধষরঃু অংংঁৎধহপব ঈবষষ প্রতিষ্ঠান হতে যাচ্ছে। বিশ্বমানের ল্যাব ইক্যুইপমেন্ট সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। একাডেমিক ক্যালেন্ডারের সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। চার বছরের কোর্স প্রায় সাড়ে তিন বছরে সম্পন্ন হওয়ার মত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, যে কোন ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায়ও এখানে সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুন্দরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। নিয়মিত সময়োপযোগী আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সেমিনার/ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে আরো গতিশীলতা আনয়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীগণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এখানে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার। শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলে চুয়েট একটি শান্তি ও সম্প্রীতির সুন্দর পরিবার হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, চুয়েট পরিবারের জন্য আজকের দিনটি বিশেষভাবে আনন্দের। আমরা সকলে মিলে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। সকলের সার্বিক সহযোগিতায় চলমান অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে পারলে চুয়েটকে আমরা আগামী দিনের আরো উচ্চতর ও মযার্দাপূর্ণ স্থানে দেখতে পাব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুরকৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. স্বপন কুমার পালিত বলেন, চুয়েট বর্তমান সময়ে নানা ক্ষেত্রে সাফল্য পাচ্ছে। এই সাফল্যের অংশীদার চুয়েট পরিবারের সবাই। আমাদের এখন আরো সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়ার সময়।

‘এঁবংঃ ড়ভ ঐড়হড়ৎ’ এর বক্তব্যে কনফিডেন্স সিমেন্ট লি:-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব রূপম কিশোর বড়–য়া বলেন,

দেশকে কিছু দেওয়ার চেষ্টা সকলের মাঝে থাকতে হবে। দেশপ্রেমের চেতানায় সকলকে উন্নয়ন-অগ্রগতির পথে এগিয়ে যেতে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: ওয়াহিদুর রহমান বলেন, আগামী দিনের প্রকেশৗলীদের মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে সমাজের গ্রহনযোগ্যতা অর্জন করতে হবে। চুয়েট থেকে পাস করা প্রকৌশলীরা এ বিষয়টি খেয়াল রেখে অতীতের মত দেশে-বিদেশে গৌরবময় ভূমিকা পালন করে যাবে বলে আমি আশাবাদী।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গণপূর্ত অধিপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো: কবির আহমদ ভূূঞা বলেন, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চুয়েটের প্রকৌশলীরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। চুয়েটের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবে যা আমাদের বেশ গর্বিত করে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানী লিমিটেড-এর জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী খান আতাউর রহমান সান্টু বলেন, চুয়েটের সঙ্গে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের সুনিবিড় বন্ধন রয়েছে। আমরা সব সময় পাশে ছিলাম, আছি, থাকবো।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক ড. সুদীপ কুমার পাল, কর্মকর্তা সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব মো: সফিকুল ইসলাম, কর্মচারী সমিতির সভাপতি জনাব সুকোমল বিকাশ শীল।