চুল পড়ার রহস্যভেদ!

প্রকাশ:| বুধবার, ২৮ জানুয়ারি , ২০১৫ সময় ১০:৪৬ অপরাহ্ণ

প্রকৃতিতে এখন শীতের বার্তা। উত্তরের হাওয়া বইতে শুরু করলে প্রাকৃতিক শুষ্কতার সঙ্গে চুলও ম্রিয়মাণ দেখায়। এ সময় অনেকেরই চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। চুল পড়া কিংবা টাক এক অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা। সুস্থ, সুন্দর ও ঝলমলে চুল প্রত্যেকেরই স্বপ্ন, কিন্তু এই চুল ঝরতে শুরু করলে এই স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে রূপ নেয়।

চুল পড়ার কারণঃ

প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০টা পর্যন্ত চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু এর চেয়ে বেশি পড়লে তা অবশ্যই উদ্বেগের কারণ। চুল পড়ার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। নারী এবং পুরুষ উভয়েরই একইভাবে চুল পড়ার সমস্যা হতে পারে। সাধারণত খুশকি, অ্যান্ড্রোজেনিক হরমোন, দুশ্চিন্তা ও চুলে বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করার জন্য চুল পড়ে থাকে। এছাড়াও আরও বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে। যেমন:

* ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
* কেমোথেরাপি নেয়া
* জেনেটিক কারণ
* অতিরিক্ত মানসিক চাপ
* অপুষ্টিজনিত কারণ
* হরমোনজনিত কারণ।
* অতিরিক্ত ধুলা-ময়লায় কাজ করা
* চুল সঠিকভাবে পরিষ্কার না রাখা
* সুষম খাদ্য গ্রহণ না করা
* নানা কেমিক্যালের ব্যবহার; যেমন- জেল, স্প্রে ও
* বংশগত

প্রতিকারের উপায়ঃ

* মাথার চুল এবং তালুতে নিয়মিত তেল ম্যাসাজ করুন। নারকেল তেল দিয়ে ম্যাসাজ করলেও চলবে, এছাড়াও তিলের তেলও বেশ কার্যকরী। তেল ম্যাসাজ করার আগে তেল একটু গরম করে নিলে খুব ভালো হয়। আপনার তেল দেয়ার সময় না থাকলে এমনিতে হাত দিয়েও ম্যাসাজ করতে পারেন।

* মাথায় পেঁয়াজের রস ম্যাসাজ করলেও চুল পড়া কমে। রাতে শোয়ার আগে পেঁয়াজের রস মাথায় ম্যাসাজ করে নিন, সকালে ঘুম থেকে উঠে শ্যাম্পু করে ফেলুন।

* দুই ব্যাগ গ্রিন টি এক কাপ গরম পানিতে ফেলে দিন। তারপর অপেক্ষা করুন। পানি ঠাণ্ডা হলে মাথায় এবং চুলে ম্যাসাজ করুন। তারপর এক ঘণ্টা রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন।

* মেহেদি, মেথি, টক দই, লেবুর রস এবং ডিমের সাদা অংশ, চুলের ঘনত্ব এবং দৈর্ঘ্য বুঝে একসঙ্গে মিশিয়ে পুরো চুলে ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে হবে। এতে চুল পড়ার সমস্যা কমার পাশাপাশি চুল ঝলমলেও হবে।

* চুলের ধরন বুঝে যেকোনো একটি হেয়ার ট্রিটমেন্ট করান। যেমন- হটঅয়েল ম্যাসাজ, হেনা ট্রিটমেন্ট, ভিটামিন-ই ম্যাসাজ ইত্যাদি।

* চুলের জন্য বায়োটিন ব্যবহার করা।

* বাজারে চুল ঝরা রোধে বিভিন্ন ওষুধ পাওয়া যায়। ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ নিয়ে যেখান থেকে চুল পড়ছে সেখানে লাগাতে পারেন।

চুলের উজ্জ্বলতায় যা করবেন:

* ফ্রুট অ্যাসিড চুলের তেল এবং ময়লা পরিষ্কার করে। ফলে চুল হয়ে উঠে ঝরঝরে। তাই লেবু বা ফলের রস আছে এরকম শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
* শ্যাম্পুর সঙ্গে একটি ডিম মিশিয়ে নিন। ডিমের প্রোটিন চুলের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।
* শ্যাম্পু করার পর ভিনেগার মিশ্রিত পানিতে চুল ধুয়ে নিতে হবে। তাহলে চুল চকচকে হবে।
* শ্যাম্পু করার পর লেবুর রস দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। তাহলে চুল চকচকে হওয়ার পাশাপাশি চিটচিটেভাব দূর হবে।
* চাল ধোয়া পানিতে বেসন মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে কয়েক মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

সর্তকতা:

* ভেজা চুল আঁচড়াবেন না। আর ভেজা চুল শুকানোর জন্য টাওয়েল দিয়ে শক্ত করে পেঁচিয়ে রাখবেন না। বরং চুলকে স্বাভাবিক বাতাসে শুকাতে দিন।
* চুলে কেমিক্যাল যুক্ত প্রসাধনী কম ব্যবহার করুন।
* নিয়মিত চুল পরিষ্কার করুন।
* প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি খাবার চেষ্টা করুন।
* বারবার শ্যাম্পু পরিবর্তন করবেন না।