চুরিকাহত ইমামের অবস্থার উন্নতি, বিক্ষোভ

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২১ মার্চ , ২০১৭ সময় ১০:২৩ অপরাহ্ণ

ফটিকছড়ি সংবাদদাতা:

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার পাইন্দংয়ে মসজিদের ঈমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ শাহা আলম নঈমী আশরাফী (ম.জি.আ) (৬৫)কে গত ২০ মার্চ মাগরিবের নামাজরত অবস্থায় পিছন দিক হতে স্থানীয় এক ঘাতক যুবক সালা উদ্দিন চুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাবার সময় মুসল্লীরা ঘাতককে আটক করে। আটকের পর হাজারো মানুষের উপস্থিতে রাতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।এ ঘটনার পর হতে গতকাল পর্যন্ত ইসলামী ফ্রন্ট ও সহযোগি সংগঠন এবং বিক্ষুব্দ হাজারো মানুষ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এঘটনায় গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি বলে থানা সূত্রে জানাগেছে। হামলায় আহত মাওলানা শাহ্ আলম চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাছাড়া গন পিঠুনিতে আহত হামলাকারী সালা উদ্দিনকে গতকাল সকালে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ মশিউদ্দৌলা রেজা সহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তারা ঘটনা স্থল পরিদর্শন শেষে ঘাতক সালা উদ্দিনের বাড়ীতে গিয়ে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসীর সাথে কথা বলেন।
সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, জেলার রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের কচুখাইন গ্রাম হতে ২০০৯ সালে হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ শাহা আলম আশরাফী নঈমী আশরাফী (ম.জি.আ.) (৬৫) উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কারবাল্লা টিলাস্থ রহমতুল্লিল আলামীন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিম খানা প্রতিষ্ঠা করেন।একই সাথে তিনি সমজিদের ঈমামতি করেন। সেখানে আসার আগে তিনি প্রায় ৫ বছর ফটিকছড়ি জামেউলউলুম সিনিয়র মাদ্রাসার হেফজ খানার প্রধান পরিচালক ছিলেন। তিনি এখনো অবিবাহিত। গত ২০ মার্চ সন্ধ্যায় উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের পূর্ব হাইদ চকিয়ার বাকর আলী মিয়াজী বাড়ির নুর মুহাম্মদের ছেলে মুহাম্মদ সালা উদ্দিন সাইকেল নিয়ে সন্ধ্যার আগে সেখানে যায়। কিছু ক্ষন ঘুরাফেরার পর মাগরিবের সময় সে মসজিদে প্রবেশ করে। তখন মাগরিবের নামাজ পড়ানোর সময় মাওলানা শাহ্ আলম দ্বিতীয় রাকাতে রুকুতে গেলে ঈমামকে পিছন দিক হতে কয়েকবার চুরি দিয়ে রক্তাক্ত করে পালিয়ে যাবার সময় ঘাতক সালা উদ্দিনকে সমজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা আটক করে গৃহ বন্দি করে রাখেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মূহুর্তের মধ্যে হাজারো মানুষ সে খানে জড়ো হয়ে তাকে গন পিঠুনি দেয়। স্থানীয়রা আহতাবস্থায় ঈমামকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেক হাসপাতালে প্রেরন করেন। বর্তমানে তিনি চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীনরয়েছে। তাঁর শারিরীক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। ঘটনার সংবাদ পেয়ে ফটিকছড়ি থানার ওসি আবু ইউসুফ মিয়া সহ থানার অন্যান্য অফিসার ও ফোর্স ঘটনাস্থলে গেলে উৎসুক জনতা পুলিশকে মাদ্রাসায় প্রবেশ করতে দেয়নি। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ জনতাকে নিভৃত করে মাদ্রাসার ভিতরে প্রবেশ করে ঘাতক সালা উদ্দিনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসলে ; থানার সামনে ও শ’শ’ মানুষ ভীড় করে। থানা হতে সালাউদ্দিনকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের নিয়ে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পূন:রায় থানায় নিয়ে আসে।
এদিকে আহত হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ শাহ্ আলম নঈমী আশরাফী (ম.জি.আ.)কে হাসপাতালে ভর্তি করার পর থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ,হুজুরের ভক্ত, শিক্ষক- ছাত্র ও সর্বস্তরের শ’শ’ মানুষ দেখতে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
অপরদিকে সালা উদ্দিনের বাড়ীতে গেলে স্থানীয়রা বলেন, সে এস এস সি পরীক্ষায় ২০১৩ সালে ৪. ৮১ গ্রেড নম্বর পেয়ে পাশ করে। তার পর হতে সে মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিল। এ সময় তার কয়েক বছরের চিকিৎসার ব্যবস্থা পত্র দেখান। ৩ ভাই ২ বোনের মধ্যে সে ২য়।
এব্যাপারে গতকাল মঙ্গলবার থানার ওসি আবু ইউসুফ মিয়ার নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,হামলাকারী নবম শ্রেণীতেপড়া অবস্থায় মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হয়। তবে তার অবস্থা ও আশঙ্খা জনক হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুলিশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে সে হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন।সে একটু সুস্ত হলে মানসিক রোগী কিনা ডাক্তার দেখানো হবে। থানায় জিজ্ঞাসাবাদে সালা উদ্দিন একাই করেছে বলে স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদে সে আরো বলে হুজুর থেকে তাবিজ নিয়ে কোন উপকার পাইনি; বরং ক্ষতি হয়েছে।তাই সে ক্ষুব্দ হয়ে হুজুরকে চুরিকাঘাত করে বলে স্বীকার করে। গতকাল সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি; তবে অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে মামলা হবে বলে জানান ওসি।