চুক্তি বাস্তবায়নে শুভঙ্করের ফাঁকি আছে সরকারের

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৩ মার্চ , ২০১৫ সময় ০৯:৫৮ অপরাহ্ণ

বান্দরবানে জেএসএস ছাত্র সংগঠনের সম্মেলনে সন্তু লারমা

বান্দরবান প্রতিনিধি॥
সন্তু লারমাপার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেএসএস সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সন্তু লারমা বলেছেন, সরকার বলছে চুক্তির বেশির ভাগ শর্ত বাস্তবায়ন করেছে। কিছু অংশ বাকী আছে। আসলে চুক্তি বাস্তবায়নে সরকারের শুভঙ্করের ফাঁকি আছে। প্রকৃতপক্ষে চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক বিষয়গুলো সরকার বাস্তবায়ন করেনি। বাস্তবায়নের কথা বলে সরকার সময় ক্ষেপন করছে। যাতে করে কৌশলে আন্দোলন দমিয়ে রাখা যায়। আজ শুক্রবার দুপুরে জেলা সদরের ফারুক পাড়ায় জনসংহতি সমিতির ছাত্র সংগঠন পিসিপি সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সন্তু লারমা আরো বলেন, চলতি বছরের ৩০ এপ্রিলের মধ্যে শান্তি চুক্তি কার্যত দৃশ্যমান বাস্তবায়ন না হলে পহেলা মে থেকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হবে। গত বছরের নভেম্বর মাসে মুক্তিকামী জুম্ম জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জেএসএস আন্দোলনে নামবে ঘোষণা দিয়েছিলাম। পাহাড়ি ছাত্র সমাজ এই আন্দোলনের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জেএসএস প্রধান সন্তু লারমা বলেন, সরকার চুক্তি বাস্তবায়নে আন্তরিক হলে আন্দোলনের কথা আসেনা। যেই সরকারের আমলে চুক্তি হয়েছে, সেই সরকারের আমলে কেন চুক্তি বাস্তবায়ন হবে না। চুক্তি বাস্তবায়নের নামে সরকার তালবাহানা শুরু করেছে। তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও আঞ্চলিক পরিষদ আইন বাস্তবায়ন না করে বিতর্কিত আইন সরকার তৈরি করছে বলে অভিযোগ করেন। পাকিস্তান আমল থেকে পার্বত্য অঞ্চলে সেনা শাসন চলছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর এখনো সেনা কর্তৃত্ব রয়ে গেছে। এখনো অপারেশন উত্তোরণ চলছে। সামরিক শাসনের মধ্যে উপনিবেশ হিসেবে বসবাস করছি। তিন দিনের সফরে আসা প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়েছে। সফর সঙ্গীদের গাড়ী বহরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত হয়ে তাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। এসময় সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে জেএসএস কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কেএসমং মারমা, রয়েল ডেভিট বম, জেলা জেএসএস সভাপতি সাধুরাত্র ত্রিপুরা মিল্টন, সাধারণ সম্পাদক ক্যবামং মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক উছোপ্রু মারমা, মহিলা জেএসএস সভানেত্রী ওয়াই চিং মারমা’সহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
প্রসঙ্গত: গত বুধবার দুপুরে জেলা শহরের বালাঘাটায় জেএসএস-জাগো পার্বত্যবাসী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের প্রায় ২০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। গত ১০ই মার্চ সন্তু লারমার আগমন প্রতিহত এবং পাহাড়ে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস বন্ধের দাবীতে বান্দরবানে বুধবার থেকে টানা ৭২ ঘন্টার হরতাল কর্মসূচীর ডাক দেয় জাগো পার্বত্যবাসী নামের একটি সংগঠন। প্রতিহতের ঘোষণা থাকার পরও সেনাবাহিনী-পুলিশের প্রহড়ায় সন্তু লারমা তিনদিনের সফরে সেদিন বান্দরবানে আসেন।