চীন উন্নয়নের ‘মডেল’ অনুসরণ করবে বাংলাদেশ

প্রকাশ:| রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর , ২০১৪ সময় ১১:১২ অপরাহ্ণ

123চীনের ‘রোল মডেল’ অনুসরণ করবে বাংলাদেশ। চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সাক্ষাতকালে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। ছবি: ফোকাস বাংলাচীনকে উন্নয়নের ‘রোল মডেল’ আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন বাংলাদেশ তাদের অনুসরণ করবে।

আজ রোববার সফররত চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। খবর বাসস।
বৈঠককালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের জন্য চীনা উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চীনের উচিত বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগ করা। উভয় দেশ দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্য অর্জনে পরস্পরকে সহযোগিতা করবে এবং সার্বিক আর্থসামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাসহ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।
বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশগুলোর বৃহত্তর স্বার্থে সম্পর্ক দৃঢ় করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ চায় আগামী বছর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রী যেন উপস্থিত থাকেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা আশা করি, ওই সময় বাংলাদেশ সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট চট্টগ্রামে কর্নফুলী নদীর তলদেশে নির্মিতব্য টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।’ তিনি বলেন, চীন উন্নয়নের একটি ‘রোল মডেল’ এবং বাংলাদেশ তাদের অনুসরণ করবে। তিনি বলেন, ‘চীনের উন্নয়ন মানে এশিয়ার উন্নয়ন।’
সফররত চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের চাহিদায় তার দেশ সব সময় পাশে থাকবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে ২০২১ সালে একটি মধ্যম আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উন্নত দেশে পরিণত করতে চীন সব ধরনের সহযোগিতা করবে।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ছয় বছর ধরে দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে বাংলাদেশের যে ব্যাপক উন্নয়ন এবং অগ্রগতি হয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘সব ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নয়নের কারণে এ অঞ্চলে বাংলাদেশ একটি অগ্রসরমাণ জাতিতে পরিণত হয়েছে।’
উন্নয়নের যে স্বপ্ন, তা বাংলাদেশ ও চীনের একই। বাংলাদেশ যদি কার্যকরভাবে উন্নয়ন-প্রক্রিয়ায় তার সব সামর্থ্য এবং শক্তি ব্যবহার করে, তাহলে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে বলে ওয়াং ই আশা প্রকাশ করেন। আঞ্চলিক সহযোগিতার ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ, চীন ও ভারতের মতো দেশের সমস্যা প্রায় একই ধরনের। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করতে একটি সেতু হিসেবে কাজ করতে পারে।’
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী, এ অঞ্চলের শান্তি বজায় রাখার পাশাপাশি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন অর্জনে বাংলাদেশ আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন।
ওয়াং ই বাংলাদেশ থেকে পাট ও পাটজাত সামগ্রী আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, চীন কৃষি খাতে প্রযুক্তি-সহায়তাসহ বাংলাদেশকে উচ্চফলনশীল জাতের ধানের বীজ সরবরাহে প্রস্তুত।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আবুল কালাম আজাদ, চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন।


আরোও সংবাদ