চীনা প্রকৌশলীরা বার্ন-প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের জায়গা দেখলেন

প্রকাশ:| সোমবার, ১৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৬ সময় ১০:৫৭ অপরাহ্ণ

[two_fifth]বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যেকার সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসেবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী চট্টগ্রামে একটি আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট করে দেওয়ার লক্ষ্যে জায়গা পরিদর্শন করেছেন চীনের প্রকৌশলীরা। সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত নয় সদস্যের প্রতিনিধি দলটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় তিনটি জায়গা পরিদর্শন করেন।

চীনা প্রকৌশলীরা বার্ন-প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের জায়গা দেখলেনমি. লি চ্যানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন জু ইংজিং, মাও কুনইয়াং প্রমুখ। প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট প্রকল্পের কর্ণধার অধ্যাপক ডা. সামন্ত লাল সেন।

পরিদর্শন সম্পর্কে জানতে চাইলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যেকার সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসেবে চীন চট্টগ্রামে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আধুনিক বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট করে দেবে। এ লক্ষ্যে নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিদ্যমান বার্ন ইউনিট, হাসপাতালের ইলেকট্রিক সাব স্টেশন, জেনারেটর, ফায়ার ফাইটিং ইকুইপমেন্ট, পানির উৎস, ইমার্জেন্সি গেট, হোস্টেল, খেলার মাঠ, নার্সিং ইনস্টিটিউট ইত্যাদি পরিদর্শন করেছে। তারা প্রস্তাবিত ইউনিটের জন্যে হাসপাতাল সংলগ্ন তিনটি স্থান পরিদর্শন করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা চীনা প্রকৌশল দলকে বুঝিয়েছি চট্টগ্রাম হচ্ছে বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র। এখানে অনেক ভারী শিল্প যেমন আছে তেমনি বিশেষায়িত জাহাজনির্মাণ ও জাহাজভাঙা শিল্প, তৈরি পোশাকশিল্প প্রচুর রয়েছে। এছাড়া প্রচুর গ্যাসচালিত যানবাহন রয়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রামে। ফলে অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা বাড়ছেই। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ১০০ শয্যার বার্ন ইউনিট যথেষ্ট মনে হলেও আগামী ২০-৫০ বছরের কথা চিন্তা করে এখানে ৫০০ শয্যার সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামো রেখেই ইউনিটটি স্থাপন করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রতিনিধিদলটি দ্বিমতও করেননি, আবার একমতও হননি। শয্যা সংখ্যা ও জায়গার ব্যাপারটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তারা তাদের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন।

সিআরবির রেলওয়ে হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটটি করার প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে চমেক হাসপাতালের পরিচালক বলেন, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং ইনস্টিটিউট, হাসপাতাল, মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ ৮৬ একর জায়গাজুড়ে একটি মেডিকেল ভিলেজ গড়ে তোলার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত ইউনিটটি চমেক ক্যাম্পাসেই থাকাটা যুক্তিযুক্ত। তাই হয়তো প্রতিনিধি দলটি সিআরবি হাসপাতাল পরিদর্শন করেনি। সব সেবা যদি একই এলাকায় থাকে তবে রোগী, স্বজন, ডাক্তার, নার্স, টেকনোলজিস্ট, মেডিকেল স্টুডেন্ট সবার জন্যে সুবিধা হবে। সবচেয়ে বড় কথা ৬০ বছর আগে তৈরি এ হাসপাতালটি এখনো বৃহত্তর চট্টগ্রামের এক কোটির বেশি মানুষের নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে সেবা দিতে পারছে। এখানে এখনো উপরের দিকে সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।