‘চিলড্রেন অব ওয়ার’

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৩ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ১১:১৬ অপরাহ্ণ

ভারতে ‘দ্য বাস্টার্ড চাইল্ড’ ছবিটি কবে মুক্তি পাবে তা এখনও অনিশ্চিত। ছবির নাম নিয়ে আপত্তি রয়েছে ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের। ছবিটি হিন্দিতে তৈরি হলেও বাংলায় ডাব করে বাংলাদেশে ছবিটি মুক্তির তোড়জোড় শুরু হয়েছে। অশান্ত বাংলাদেশেই ছবিটির মুক্তির চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের জন্য ছবিটির নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘চিলড্রেন অব ওয়ার’। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রচুর পরিশ্রম করে ছবিটি তৈরি করেছেন মৃত্যুঞ্জয় দেওরাথ। তার কথায়, এখনকার অস্থির, অশান্ত বাংলাদেশে এই ছবি মুক্তি পাওয়াটা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। লোকের জানা দরকার ১৯৭১-এর ইতিহাস। বাংলাদেশের মানুষকে সমর্থন করা দরকার। ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সদ্য প্রয়াত ফারুখ শেখ, ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়, রাইমা সেন, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, তিলোত্তমা সোম আর ঋদ্ধি সেন। ১৯৭১-এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে তিনটি পৃথক গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে চিত্রনাট্য। তবে ছবিটি যাতে শুধুমাত্র সময়ের দলিল না হয়ে ওঠে তাও খেয়াল রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক। বাংলাদেশে সেন্সর বোর্ড অবশ্য ছবির হিংসার দৃশ্য কমাতে বলেছিল। কিন্তু বোঝানো হয়েছে, দুই একটি ধর্ষণের দৃশ্য ছবির স্বার্থেই নেয়া হয়েছে। একটি ধর্ষণ দৃশ্যে রাইমা সেন অনবদ্য অভিনয় করেছেন। ধর্ষণের কষ্টটা যাতে দর্শক অনুভব করেন সেটাই বোঝানোর চেষ্টা করেছেন পরিচালক। অভিনেত্রী রাইমা জানিয়েছেন, এই ফিল্মটার শ্যুটিং করার অভিজ্ঞতাটা তার কাছে অভিনব। সিনেমায় তার স্বামী ইন্দ্রনীল পেশায় সাংবাদিক। পরে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন। সেই সময় রাইমাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়। রাইমা জানিয়েছেন, দম বন্ধ হয়ে আসতো ওই রেপ ক্যাম্পের দৃশ্য শ্যুট করতে। একটা ‘ট্রাক সিন’ আছে। আমাদের দড়ি দিয়ে বেঁধে উঠিয়ে দেয়া হয় ট্রাকে। যখন ট্রাকটা খুলতো আমরা পড়ে যেতাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জল ঢেলে দেয়া হতো গায়ে। অনেক মেয়েই তো অজ্ঞান হয়ে যেতো। রাইমা আরও জানিয়েছেন, ২১ দিন টানা শ্যুটিং করেছিলাম এই ফিল্মের জন্য। রোজ রাতে শ্যুট। এরকমভাবে শুটিং আগে কখনও করিনি। ২১ দিন বাদে আমি এতো ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম যে, ছুটি নিয়ে কিছু দিন নিউ ইয়র্কে চলে গিয়েছিলাম।


আরোও সংবাদ