চিকিৎসকের অবহেলায় প্রসূতি মা-শিশুর মৃত্যু

প্রকাশ:| বুধবার, ১৬ অক্টোবর , ২০১৩ সময় ১১:৪২ অপরাহ্ণ

প্রসূতি মাচিকিৎসকের অবহেলায় চট্টগ্রাম নগরীর আন্দরকিল্লায় জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালে এক প্রসূতি মা ও শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে। মৃত গৃহবধুর নাম উর্মি দে (২৬)। তিনি নগরীর কোতোয়ালী থানার খলিফাপট্টি এলাকার লিটন দে’র স্ত্রী।

এ ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা হাসপাতালে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

নিহত উর্মি’র স্বজনরা অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার লিটন দের গর্ভবতী স্ত্রী উর্মী দে’কে (২৬) গর্ভবতী মায়েদের জন্য চট্টগ্রামের বিশোষায়িত হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত জেমিসন রেড ক্রিসেন্ট মাতৃসদন হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এরপর তার প্রসব বেদনা শুরু হলে তাকে বুধবার সকালে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতেই হাসপাতালের নার্সরা অপারেশন থিযেটারে নিয়ে যান। কিন্তু সেখানে নেয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই উর্মীর মৃত্যু হয়। সেই সাথে তার গর্ভের সন্তানও মারা যায়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উর্মিও স্বজনসহ এলাকাবাসী হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ করে স্লোগান দিতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতালে পুলিশমোতায়ন করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. আলী আজগর বলেন, ‘হাসপালে এ ধরণের ঘটনা হয়েছে কিনা আমরা জানা নেই। আমি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি।’

এর কিছুক্ষণ পর তিনি প্রধান চিকিৎসক ডা. রোজীরর বরাত দিয়ে জানান, মঙ্গলবার যে প্রসূতি মাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল আজ তার সিজার হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেলে স্যালাইন পুশ করার সাথে সাথেই রোগী হার্ট অ্যাটাকে মারা যান। সঙ্গে গর্ভে থাকা শিশুটিও মারা গেছে।’

নগর পুলিশের সহকারি কমিশনার (কোতোয়ালী) মীর্জা সায়েম মাহমুদ বলেন, ‘জেমিসন মাতৃসদন হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় এক প্রসূতি মা ও তার সন্তান মারা যাওয়ার অভিযোগ আমরা শুনেছি। সেখানে মৃত রোগীর স্বজনরা বিক্ষোভ করলে পুলিশ গিয়ে তাদের বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

স্বজনদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।