চিংড়ি ও ডিমের খোসার দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ট !

প্রকাশ:| বুধবার, ১১ মে , ২০১৬ সময় ০৮:১২ অপরাহ্ণ

ডিমের খোসা

চট্টগ্রাম মহানগরীর ঘনবসতিপূর্ণ হালিশহর জেলেপাড়া এলাকায় গড়ে ওঠা হাড় ও চিংড়ি,ডিমের খোসা গুঁড়া করা কারখানা থেকে প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ ঘটছে। কারখানাগুলোর দুর্গন্ধে এলাকায় বসবাসকারী, স্কুল কলেজ পড়–য়া ছাত্র,ছাত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীসহ কয়েক হাজার মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পরিবেশবাদী সংগঠন, স্থানীয় জনগণ জনবসতি থেকে কারখানাটি অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে। জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতরসহ সংশ্লিষ্ট সকলেরই বিষয়টি জানা। অথচ কোন প্রতিকার হচ্ছে না। কারখানাটি পরিবেশ দূষণ ঘটিয়েই চলেছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ১১ নং ওয়ার্ড এলাকায় হালিশহর জেলেপাড়া এলাকাটি অবস্থিত। এর কাছাকাছি স্থানে হালিশহর বেড়িবাধ অবস্থিত। হালিশহর টোল রোড হওয়ার কারণে এলাকাটির গুরুত্ব¡ দিন দিন বেড়ে চলেছে। হালিশহর জেলেপাড়া এলাকায় দৃষ্টিনন্দিত বঙ্গোপসাগর বীচ হওয়াতে প্রতিদিন প্রচুর লোকের সমাগম ঘটে। দু’ধারে বহু ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,নিঝুম পার্ক,নাগর দৌলা, হোটেল ও খাবারের দোকান রয়েছে। এলাকাটি ক্রমান্বয়ে ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর এই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় চিংড়ি,ডিমের খোসা গুঁড়া করার দু একটি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানার দুর্গন্ধে এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৩০ হাজার মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বাসে, ভ্যানে, রিক্সা বা অন্য কোন গাড়িতে করে এমনকি হেঁটে যারা ওই পথে যাতায়াত করছে তাদের অনেকেই দুর্গন্ধে বমি করছে। জানা যায়, হালিশহর বেড়িবাধ এলাকা থেকে নয়াবাজার বিশ্বরোড পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় পরিবেশ দূষণকারী কারখানাটি রয়েছে। হাড় গুঁড়া করা কারখানায় চিংড়ি,ডিমের খোসা ও মুরগির বিষ্ঠা গুঁড়া করার কারখানা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গবাদি পশুর হাড়, মুরগির বিষ্ঠা, মাছ কোম্পানির উচ্ছিষ্ট চিংড়ির খোসা, ডিমের খোসা সংগ্রহ করে এনে এসব মিলের চাতালে রোদে শুকানো হয়। পরে তা ক্রাশিং মেশিনে গুঁড়া করে ওষুধ কোম্পানি, মৎস্য ও পোল্ট্রি খামারে বিক্রি করা হয়। কারখানাগুলোর অভ্যন্তরে স্তুপ করে রাখা হাড়, মুরগির বিষ্ঠা ও চিংড়ির খোসা, ডিমের খোসা থেকে অনবরত দুর্গন্ধ ছড়ায়। কারখানাগুলোর চতুর্দিকে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এলাকার জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে। হালিশহর জেলেপাড়া এলাকার হোটেল ব্যবসায়ী ছাবের আহম্মদ হোসেন জানান, দুর্গন্ধের জন্য তার হোটেলে খদ্দের একেবারেই কমে গেছে। ভাল কোন কাস্টমার তার হোটেলে খেতে আসে না। শুধু তার হোটেল নয়, অন্যান্য খাবারের দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। যাওয়ার কোন জায়গা না থাকায় এখানে দুর্বিষহ অবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। নাকে মুখে কাপড় গুঁজে চলতে হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুর্গন্ধের কারণে এই এলাকার বসবাসকারী পরিবারগুলোর মধ্যে নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ লেগেই আছে। চা দোকানী রফিকুল আমীন জানান, এখানকার বাতাস দূষিত হয়ে গেছে। শিশু-কিশোরদের রোগবালাই লেগেই আছে। বিশেষ করে ঘা পাঁচড়া ও চুলকানি পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হচ্ছে। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বহুবার তারা এর প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন নিবেদন করেছে। পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠন এ ব্যাপারে সোচ্চার রয়েছে। কিন্তু কোন ফল হয়নি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী, নাগরিক নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, হাড় কারখানাগুলো থেকে ভয়ানক পরিবেশ দূষণ ঘটানো হচ্ছে। এব্যাপারে জেলা প্রশাসকের সাথে তাদের বৈঠক হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবেশ দূষণের কথা স্বীকার করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হলেও অদ্যাবধি জনবসতি থেকে হাড় কারখানগুলো অপসারিত হয়নি। তিনি বলেন, বর্তমান আইন অনুযায়ী ভুক্তভোগীরা পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে মামলাও করতে পারে না। এ ব্যাপারে মামলাসহ আইনী ব্যবস্থা নেবে পরিবেশ অধিদফতর। কিন্তু এ দফতর থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ঐ এলাকায় বসবাসকারী লোকজন জানান,অবিলম্বে পরিবেশ দূষণকারী কারখানাগুলো অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য জোড় দাবী জানান।
পরিবেশ অধিদফতর থেকে দূষণকারী কারখানা কর্তৃপক্ষকে আদালতের নির্দেশ মানার জন্য একাধিকবার নোটিস দেয়া হয়েছে। হাড় কারখানার মালিক সাঈফুল বলেন,হালিশহর জেলেপাড়া এলাকায় যখন হাড় কারখানা গড়ে ওঠে তখন ঘনবসতি ছিল না। হাড় কারখানার জন্য স্থানীয় লোকদের অসুবিধার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা হলে আমি সেখানে চলে যাব।