চার্লস স্যান্ডার্স পেয়ার্স

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| সোমবার, ১০ সেপ্টেম্বর , ২০১৮ সময় ০৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ

চার্লস স্যান্ডার্স পেয়ার্স। তাঁর ইংরেজি নাম : Charles Sanders Peirce. তিনি ১৮৩৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। বিবিধ বিদ্যায় পারদর্শী মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ও দার্শনিক। তিনি ক্যামব্রিজ, ম্যাসাচুসেটস-এ জন্ম নেন। যদিও তিনি রসায়নবিদ হিসেবে শিক্ষালাভ করেন ও বিজ্ঞানী হিসেবে প্রায় ৩০ বছর চাকরি করেন, বর্তমানকালে তাঁর মূল পরিচিতি ঘটেছে যুক্তিবিজ্ঞান, গণিত, দর্শন ও সংকেতবিজ্ঞানে অবদান রাখার কারণে। দার্শনিক পল ওয়াইজ ১৯৩৪ সালে পেয়ার্স সম্বন্ধে Dictionary of American Biography-তে লেখেন যে পেয়ার্স ছিলেন “the most original and versatile of American philosophers and America’s greatest logician”, অর্থাৎ “মার্কিন দার্শনিকদের মধ্যে সবচেয়ে মৌলিক ও বহুমুখী এবং আমেরিকার সর্বশ্রেষ্ঠ যুক্তিবিজ্ঞানী”।

প্রয়োগবাদের জনক হিসেবে দর্শনশাস্ত্রে বেশি পরিচিত চার্লস স্যান্ডার্স পেয়ার্স। যুক্তিবিদ্যায় তার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। যা আধুনিক জ্ঞানতত্ত্ব ও বিজ্ঞানের দর্শনের বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের এ পদার্থবিজ্ঞানী, যুক্তিবিজ্ঞানী, গণিতবিদ ও দার্শনিক ১৯১৪ সালের এ দিনে (১৯ এপ্রিল) মৃত্যুবরণ করেন। ১৮৮৬ সালে তিনি আবিষ্কার করেন ইলেকট্রিক্যাল সুইচিং সার্কিটে যুক্তিবিদ্যার পদ্ধতি কাজ করে। যা পরবর্তীতে ডিজিটাল কম্পিউটারের উদ্ভাবনকে এগিয়ে দেয়।

পেয়ার্স ম্যাসেচ্যুয়েটের কেমব্রিজে ১৮৩৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১২ বছর বয়সে বড় ভাইয়ের কাছ থেকে রিচার্ড হোয়াটলে’র এলিমেন্টস অব লজিক পড়েন। যার মাধ্যমে যুক্তিবিদ্যা ও যুক্তিপ্রক্রিয়ার প্রতি তার আকর্ষণ জন্মে। হাভার্ড থেকে বিএ ও এমএ করেন। ১৮৬৩ সালে লরেন্স সায়েন্টেফিক স্কুল থেকে বিএসসি করেন। এটি ছিল হাভার্ড থেকে প্রথম সুম্মা কাম লুডে কেমেস্ট্রি ডিগ্রি।

১৮৫৯ থেকে ১৮৯১ সাল পর্যন্ত ইউনাইটেড স্টেটস কোস্ট সার্ভেতে কাজ করেন পেয়ার্স। এ সময় তিনি অভিকর্ষসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন। ১৮৬৭ সালে আমেরিকান একাডেমি অব আর্টস এ্যান্ড সায়েন্সেসে রেসিডেন্ট ফেলো নির্বাচিত হন। ১৮৭১ সালে সূর্যগ্রহণ পর্যবেক্ষণে ইউরোপ যান। এ সফরে অনেক নামকরা গণিতবিদের সাক্ষাৎ পান। ১৮৬৯ থেকে ১৮৭২ সাল হাভার্ড এ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরিতে সহকারীর কাজ নেন। এখানে তারকার ঔজ্জ্বল্য ও মিল্কিওয়ের আকার নিয়ে গবেষণা করেন। ১৮৭৭ সালে ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেসের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৮৭৯ সালে তিনি জন্স হপকিন্স ইউনিভার্সিটিতে যুক্তিবিদ্যার প্রভাষক নিযুক্ত হন।

পেয়ার্স ১৮৮৩ থেকে ১৯০৯ সালের মধ্যে দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর হাজার পৃষ্ঠার এসাইক্লোপেডিক কাজ সেঞ্চুরি ডিকশনারি সম্পন্ন করেন। তার বেশির ভাগ লেখা বিভিন্ন নামকরা জার্নালে প্রকাশিত হয়। তার লেখা নিয়ে প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য বইয়ের মধ্যে রয়েছে- কয়েক খণ্ডে ‘দ্য এসেনশিয়াল পেয়ার্স: সিলেক্টেড ফিলোসফিক্যাল রাইটিংস’, ‘পেয়ার্স অন সাইনস : রাইটিংস অন সেমিওটিক’, কয়েক খণ্ডে ‘রাইটিংস অব চালর্স এস পেয়ার্স’, ‘প্রাগমাটিজম এ্যাস আ প্রিন্সিপল এ্যান্ড মেথড অব রাইট থিকিং’, ‘রিজনিং এ্যান্ড দ্য লজিক অব টিঙ্কস : দ্য কেমব্রিজ কনফারেন্স লেকচারস অব ১৮৯৮’, ‘চান্স, লাভ, এ্যান্ড লজিক : ফিলোসফিক্যাল এসেস’, ‘ফিলোসফিক অব ম্যাথমেটিকস: সিলেক্টেড রাইটিংস’ এবং কয়েক খণ্ডে ‘দ্য নিউ এলিমেন্টস অব ম্যাথমেটিকস’।