চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রা সার্বজনীন শোভাযাত্রায় পরিনত

প্রকাশ:| সোমবার, ১৪ এপ্রিল , ২০১৪ সময় ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

চারুকলা ইনস্টিটিউটের মঙ্গল শোভাযাত্রা সার্বজনীন শোভাযাত্রায় পরিনত। বাঙালির চিরায়ত উৎসব পহেলা বৈশাখকে স্বাগত জানাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের নিয়মিত আয়োজন মঙ্গল শোভাযাত্রায় শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। যোগ দেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

লাল-সাদা শাড়ি। কপালে টিপ। মাথায় ফুলের বেনী। সাদা পাজামা-পাঞ্জাবী। হাতে বিভিন্ন ধরণের মুখোশ। এমনি চিরায়ত বাঙালী সাজে মঙ্গল শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছে তরুণ-তরুণীরা।

মঙ্গল শোভাযাত্রার এবারের স্লোগান ছিল- ‘জাগ্রত কর, উদ্ধত কর, নির্ভয় কর হে’

চট্টবিশালাকৃতির ষাড়, কাকতাড়ুয়া ও শান্তির প্রতীক পায়রা যোগ হয়েছে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায়, যার মাধ্যমে উঠে এসেছে সকল অশুভ শক্তিকে তাড়িয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি।রঙ-বেরঙের মুখোশ নিয়ে, শোলার পাখি, পেঁচা, প্রজাপতি, খরগোশ ও টেপা পুতুলের সঙ্গে ঢাল-ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে, লাঠি-বর্শা, তীর-ধনুক হাতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ শোভাযাত্রাকে আরো বর্ণিল ও প্রাণবন্ত করে তুলো।

সকাল ১০ টায় শুরু হওয়া শোভাযাত্রার শুরুর দিকে ছিল বিশালাকৃতির ষাড়। যা সকল কিছু ভেঙ্গে চুড়ে চুরমার করে দিবে।

শুভ নববর্ষ বরণবিশালাকৃতির ষাড়, কাকতাড়ুয়া ও শান্তির প্রতীক পায়রা যোগ হয়েছে এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রায়, যার মাধ্যমে উঠে এসেছে সকল অশুভ শক্তিকে তাড়িয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি। কাকতাড়ুয়াটিকে সকল অশুভ শক্তিকে তাড়ানোর প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পায়রা শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে সকল অশুভ শক্তিকে তাড়িয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহবান জানানো হয়েছে।শোভাযাত্রার অন্যান্য আর্কষণের মধ্যে যথারীতি ছিল দেশীয় ঐতিহ্যে লালিত বিভিন্ন প্রাণীর প্রতিকৃতি। যত্নের সঙ্গে রাতদিন খেটে এগুলো তৈরি করেছেন চারুকলা অনুষদের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। বরাবরের মতোই ছিল হাতি, ঘোড়া, বাঘ ও পাখির প্রতিকৃতি। রঙ-বেরঙের মুখোশ-ফানুস ও বর্ণিল পোশাকে সেজে শত শত মানুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।

মঙ্গল শোভাযাত্রাটি নগরীর বাদশা মিয়া রোড়ের চারুকলার ইনস্টিটিউটের সামনে থেকে শুরু হয়ে কাজীর দেউড়ি, জামালখান, প্রেসক্লাব চেরাগী পাহাড়, ডিসি হিলের সামনে দিয়ে ঘুরে পুনরায় চট্টগ্রাম চারুকলা ইনস্টিটিউটে গিয়ে শেষ হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক নাসিমা আখতার।

চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মুজিবুল হক বলেন,‘আমরা চাই বাংলা বাঙালির শিল্প-সাহিত্য-ঐতিহ্য নিয়েই চলবে। কিন্তু অশুভ শক্তি চায় এগুলো মরে যাক। আমরা বাঙালির ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই যুগ-যুগান্তর। মূলত এ বিষয়টিকে মঙ্গল শোভাযাত্রায় তুলে ধরা হয়েছে।’

চারুকলা ইনস্টিটিউটের বৈশাখী আয়োজনের ছিল লোকজ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবৃত্তি, ফানুস ও আতশবাজি পোড়ানো, সন্ধ্যায় নৃত্য অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড সংগীত।


আরোও সংবাদ