চান্দগাঁও থানার ওসি’র বিরুদ্ধে সাংবাদ সম্মেলন

প্রকাশ:| রবিবার, ২৪ জানুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৯:৩৭ অপরাহ্ণ

ওয়াক্ফ এস্টেটের সম্পত্তি দখলে সহায়তার অভিযোগ

চান্দগাঁও থানার ওসি’র বিরুদ্ধে সাংবাদ সম্মেলননগরের চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহজাহান কবির ও অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. শহিদের সহায়তায় ভূমি অফিসের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মচারি কর্তৃক হাজী আমীর হোসেন মিস্ত্রি ওয়াক্ফ এস্টেটের সম্পত্তি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ প্রসঙ্গে ২৪ জানুয়ারি ভুক্তভূগিরা চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতোয়াল্লী মোহাম্মদ দানু মিয়ার পক্ষে নাসির উদ্দিন আহমদ। সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করা হয় আমরা প্রশাসনের কাছে আইনগত সহায়তার জন্য গিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। পক্ষান্তরে আমাদের ওয়াক্ফ এস্টেটের সম্পত্তি দখল চেষ্টায় লিপ্ত ভূমি অফিসের দুর্নীতিবাজ কিছু কর্মচারিকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করছে চান্দাগাঁও থানা পুলিশ। চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহজাহান কবির ও অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. শহিদের সহায়তায় ভূমি অফিসের কর্মচারিরা বিরোধীয় ওই জায়গায় জোরপূর্বক ভবন নির্মানের কাজ করছেন। আমরা এসব অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করলেও পুলিশ প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। দখলদারদের আমাদের পক্ষ থেকে বাঁধা দেওয়া হলে উল্টো আমাদের লোকজনকে থানায় নিয়ে আটকিয়ে রাখা হয়। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো সময় সংঘাতের সৃষ্টি হয়ে এলাকায় আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হতে পারে। এমনকি প্রাণহানীর মতো জঘন্য ঘটনাও ঘটে যেতে পারে। যদি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তার দায়ভার কিন্তু প্রশাসনকেই নিতে হবে।
এছাড়াও এদিকে বিভিন্ন ভূমি অফিসের কর্মচারিরা চান্দগাঁও থানা পুলিশের সহায়তায় ওই জায়গায় ইতিমধ্যে নির্মান কাজ শুরু করেছে। বিরোধীয় জায়গা তাদের দখলে রয়েছে এমনটি প্রমাণের জন্য কিছু চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের সহায়তায় দিনেরাতে কাজ করা হচ্ছেন সমানে। তথ্য গোপন করে দখলদার ভূমি অফিসের কর্মচারিরা ইতিমধ্যে সিডিএর কাছ থেকে বহুতল ভবনের নকশার অনুমোদন নিয়েছেন বলেও জানা গেছে। আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ওই নকশা বাতিলের দাবি জানাই সিডিএর কাছে। বিষয়টি থানা পুলিশকে বারবার অবিহিত করা হলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। পক্ষান্তরে আমাদের লোকজনকে ধরে নিয়ে থানায় আটকিয়ে রাখা হচ্ছে। ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হবে বলে। গত ১৯ জানুয়ারি আমাকে (মো. দানু মিয়া) আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শাহজাহান কবির ও অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. শহিদ আমাকে ওই জায়গা দাবী না করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। এমনকি মামলা ও রিমান্ডের ভয়ও দেখানো হয় তখন। একইভাবে আমাদের কেয়ারটেকার তপন দেকে গত ১৮ জানুয়ারি আটক করে থানায় নিয়ে যান এএসআই আমীর। পরে তার আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে ইয়াবা মামলায় আদালতে চালানের ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা আদায় করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাই এ ব্যাপারে আমরা ঊধর্ক্ষতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলা হয়, আমরা এসব অবৈধ দখল চেষ্টাকারী ভূমি অফিসের কর্মচারিদের বিভিন্নভাবে আলোচনার প্রস্তাব দিলেও তারা তা গ্রাহ্য করছেন না। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট স্বত্ত্বের মূল ভিত্তি হচ্ছে দলিল। দলিল যদি আমাদের পক্ষে না থাকে ওই সম্পক্তির প্রতি আমাদের কোনো দাবি থাকবে না। একাধিক বিজ্ঞ আইনজীবীর মতামত নিয়ে বিষয়ের সুরাহা সম্ভব। বিষয়টি আমরা থানা পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না এ ব্যাপারে। উল্টো নানাভাবে আমাদের ওয়াক্ফ এস্টেটের লোকজনকে হয়রানী করছেন। প্রতিপক্ষ ভূমি অফিসের কর্মচারি বলেই প্রশাসনকে টাকা দিয়ে বশে নিয়ে ধরাকে সরা জ্ঞান মনে করছেন বলে আমাদের বিশ্বাস।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন হাজী আমির হোসেন মিস্ত্রি ওয়াক্ফ এস্টেটের মোতোয়াল্লী মোহাম্মদ দানু মিয়া। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, আবদুল রশিদ, সেকান্দর বাদশা, গোলতাজ বেগম, মমতাজ বেগম মিতু, আম্বিয়া খাতুন, আলী আজগর, সেকান্দর মির্জা, সেবিকা বেগম, ফারুক আহমদ, জিন্নাত আরা, বাদশা, মনজুর প্রমুখ।

[one_fourth_last]