চাঞ্চল্যকর বেশকিছু তথ্য জানিয়েছে দুই জঙ্গি

প্রকাশ:| রবিবার, ১২ মার্চ , ২০১৭ সময় ০৮:২৫ অপরাহ্ণ

কুমিল্লার চান্দিনা থেকে আটক মিরসরাইয়ের আস্তানার দুই জঙ্গি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর বেশকিছু তথ্য জানিয়েছেন।

পরে চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌর এলাকায় তাদের আস্তানা থেকে গ্রেনেড ও গোলা-বারুদ উদ্ধার করা হয়।

চান্দিনায় দুই জঙ্গি আটক করার ঘটনায় চান্দিনা থানায় এবং মিরসরাইয়ে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় মিরসরাই থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

চান্দিনা থানার মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ আহমেদ। তিনি জানান, চান্দিনা থানায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ দুই জঙ্গির মধ্যে মাহমুদুল হাসানের ১৫ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রোববার (১২ মার্চ) তার পঞ্চম দিনের রিমান্ড চলছে।

অপরদিকে, জসিম (নকল নাম) অসুস্থ থাকায় তিনি হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাকে এখনো রিমান্ডে নেওয়া হয়নি।

ফিরোজ আহমেদ জানান, আটক করার পর জসিম তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম জহিরুল ইসলাম জসিম উল্লেখ করলেও প্রকৃত পক্ষে তার নাম আহম্মেদ আসওয়াদ ইমতিয়াজ। তার বাবার যে নাম বলেছিলেন তাও মিথ্যা। তার বাবার নাম আব্দুল মজিদ নয়, তার বাবার আসল নাম কবির আহম্মেদ তালুকদার। তিনি সেনা বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর। ইমতিয়াজের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে জানা গেছে, রাজধানীর উত্তরা এলাকার সানবিম স্কুল নামে ইংরেজি মাধ্যমের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ লেভেলে পড়তেন তিনি। প্রায় এক বছর ধরে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তাদের বাড়ি টাঙ্গাইলের কালীহাতি উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভাধীন তিন রাস্তার মোড় এলাকায়। তার জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি পরিবারের লোকজন জানতেন না।

তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ইমতিয়াজের নিখোঁজ হওয়ার সঙ্গে গুলশানের হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ইমতিয়াজ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য বেরিয়ে এসছে। অধিকতর তদন্তে আরো বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, অপর জঙ্গি মাহমুদুল হাসানের বাড়ি বান্দরবানের নাইখ্যংছড়ি উপজেলায়। তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার তেমন কোনো তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে জঙ্গি মাহমুদুল হাসানের বোমাসহ বিভিন্ন গোলাবারুদ তৈরি ও বহনে ভূমিকা রাখার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ।এদিকে, মিরসরাই থানার মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাকির হোসেন বাংলানিউজকে জানান, চান্দিনার মামলায় রিমান্ড শেষ হলে মাহমুদুলকে এবং সুস্থ হওয়ার পর ইমতিয়াজকে মিরসরাই থানার মামলায়ও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।

উল্লেখ্য, চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর এলাকায় ৭ মার্চ সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচলরত গাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল পুলিশ। সকাল সোয়া ১১টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস দ্রুত গতিতে ওই এলাকা পার হতে গেলে পুলিশের সন্দেহ হয়। পুলিশ গাড়িটি ধাওয়া করে আটক করার পর বাস থেকে নেমে দুই যাত্রী পুলিশকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। তবে বোমা বিস্ফোরণ হয়নি। এসময় পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে তারা বোমা ছুড়তে ছুড়তে পাশের গ্রামে চলে যায়। একপর্যায়ে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টার পর মাহমুদুল ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ইমতিয়াজকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে পাঁচটি বোমা ও একটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। পরে তারা জানান যে মিরসরাই পৌর শহরের কলেজ রোডে স্টেডিয়ামের পাশে রিদওয়ান ভিলা নামে একটি বাড়িতে তাদের আস্তানা। এর প্রেক্ষিতে কাউন্টার টেররিজম টিম, মিরসরাই ও ছানিদনা থানা পুলিশ যৌথভাবে তাদের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে গ্রেনেড ও গোলা-বারুদ উদ্ধার করে।