চাঁদা: সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ:| বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:৪৬ অপরাহ্ণ

সাংবাদিক ককসবাজারকক্সবাজারের টেকনাফ থানা পুলিশ বুধবার চাঁদাবাজী ও মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কাঞ্জরপাড়া এলাকার মাওলানা ইসহাক খানের ছেলে ফরিদুল মোস্তফা খান নামের এক সাংবাদিক বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

এঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতাউর রহমান খন্দকার জানান, ফরিদুল মোস্তফা খান নামের সাংবাদিক পরিচয়দানকারী উক্ত ব্যক্তি গত কয়েকদিন ধরে থানার পুলিশ কনেষ্টবল মো. মামুন হোসেনকে মুঠোফোনে (০১৭২৭৭৯৬০৭৯ নাম্বার থেকে) চাঁদা দাবী করে আসছে। অন্যতায় তার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা তাই লিখে বদলী করারও হুমকি দেয়। মামুন হোসেন থানার পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের খাবারের দায়িত্ব পালনকারী একজন মেস ম্যানেজার। অথচ সে মামুনের কাছ থেকে প্রতিমাসে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেন।

কনেষ্টবল মামুন জানান, গত মঙ্গলবার ফরিদুল মোস্তফা খান তার মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে, চাঁদা না দিলে পেপারে তোমার বিরুদ্ধে যাই ইচ্ছা তাই লিখব। তোমাকে অন্যত্র বদলী করে ছাড়ব। দেখিয়ে দেব আমার ক্ষমতা। আমি কক্সবাজারবাণী পত্রিকার সম্পাদক। পরে খবর নিয়ে দেখি, ফরিদুল মোস্তফা ওই পত্রিকার সম্পাদক নয়। এরপর তিনি ফরিদুল মোস্তফা খানের বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী ( নং-৩৩৪) লিপিবদ্ধ করেন।

পুলিশ আরও জানায়, গতকাল বুধবার ফরিদুল মোস্তফা খান আবারও কয়েকবার ফোন করে চাঁদা দাবী করে। অন্যতায় দেখে নেবার হুমকি দেয়। সন্ধ্যার মধ্যে দাবীকৃত চাঁদার টাকা পাঠাতে একটি বিকাশ নম্বর (নং-০১৮৩১৪২১১৮৭) দেয়। এসময় ফরিদুল মোস্তফা খান ও কনেষ্টবল মো. মামুন হোসেনের মুঠোফোনে কথোপকথন রেকর্ড করে পুলিশ। এরপর পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে টেকনাফ থানায় ফরিদুল মোস্তফা খানের বিরুদ্ধে পুলিশ চাঁদাবাজীর মামলা রুজু করে। যার মামলা নং-২২/১৫।

পুুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, ফরিদুল মোস্তফা খান সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে জেলার কক্সবাজার সদর টেকনাফ, উখিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজী করে আসছে। তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার আদালতসহ বিভিন্ন থানায় ৬টি মামলা রয়েছে। দেশের সর্বাদিক প্রচারিত দৈনিক প্রথম আলোর কক্সবাজারের নিজস্বপ্রতিবেদক আব্দুল কুদ্দুসের একটি মানহানী মামলায় কয়েক মাস আগে ফরিদুল মোস্তফা খানকে ৬ মাসের কারাদন্ড দেন বিজ্ঞ আদালতের বিচারক। এরপর কিছুদিন জেলও খাটে ফরিদুল মোস্তফা। কিন্তু তারপরও চাঁদাবাজী বন্ধ করেনি। অবশেষে সে পুলিশের মামলায় আসামি হল।


আরোও সংবাদ