চাঁদা নিতে গিয়ে এস আই আটক

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন , ২০১৫ সময় ০৯:৩১ অপরাহ্ণ

পুলিশনিজেকে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক বীমা কর্মকর্তাকে জিম্মি করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে (এস আই) সহযোগিসহ আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে নগরীর কোতোয়ালী থানার তিনপুলের মাথায় ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে তাদের আটক করা হয়।

পরে অভিযুক্ত শিল্প পুলিশের এস আই মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়েই শিল্প পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। তবে মাহবুবুরে সহযোগি ফরিদুল আলমকে কোতোয়ালী থানা পুলিশের হাজতে রাখা হয়েছে।

কোতোয়ালী থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বীমা কর্মকর্তা জিয়াউল করিমের কাছ থেকে ফোন পেয়ে জিম্মি করে চাঁদা দাবির অভিযোগে মাহবুবুর রহমান ও ফরিদুল আলমকে তিনপুলের মাথায় অবস্থিত ডাচ বাংলা ব্যাংক থেকে আটক করা হয়। তাকে থানায় আনার পর জানতে পারি মাহবুব চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের এস আই পদে কর্মরত। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর এস আই মাহবুবুর রহমানকে শিল্প পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আর একই অভিযোগে আটক ফরিদুল আলমকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘মাহবুবুর রহমানকে পুলিশ যে সময় আটক করেছে, তখন তিনি দায়িত্বরত অবস্থায় ছিলেন না। তার বোনের বাসা থেকে টাইগারপাস এলাকায় গিয়েছিলেন। এরপরও তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় অব্যশই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাকে কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছ থেকে আমাদের হেফাজতে নিয়ে এসেছি।’

তবে এখনো সাময়িক বরখাস্ত কিংবা এবিষয়ে কোন তদন্ত কমিটি গঠন হয়নি বলে জানিয়েছেন শিল্প পুলিশের এ পরিচালক।

ঘটনার শিকার জিয়াউল করিমন সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিভাগীয় সম্বন্বয়ক হিসেবে চট্টগ্রামে কর্মরত আছেন।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ভোররাতে সেহেরী শেষ করে নগরীর সুগন্ধা আবাসিক এলাকার বাসা থেকে হালিশহর এল ব্লক এলাকায় বন্ধুর বাসায় যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম। ভোর ৪টার দিকে টাইগার পাস এলাকায় যাওয়ার পর এসআই মাহবুব ও তার এক সহযোগী নিজেদের ডিবি পরিচয় দিয়ে আমাকে আটকে একটি অটো রিকশায় তুলে নেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা আমাকে কদমতলী রেল লাইনের পাশে রেল স্টেশনে বেশ কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করেন। এরপর স্টেশন সংলগ্ন হোটেল মার্টিনের একটি কক্ষে নিয়ে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে দেন। এসময় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন, অন্যথায় গ্রেপ্তার করার হুমকি দেন।’

বীমা কর্মকর্তা জিয়াউল করিম বলেন, ‘এসআই মাহবুবুর রহমান ও তার সহযোগীকে দাবিকৃত টাক দেওয়ার কথা বলে সকালে নগরীর তিনপুল এলাকার ডাচ বাংলা ব্যাংকে নিয়ে যাই। পরে মাহবুবকে জানানো হয় আমার অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই। এসময় আমার পরিবারের কাছ থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকেন এস আই মাহবুবুর রহমান। পরিবারের সাথে কথা বলার নাম করে ব্যাংক থেকে কৌশলে বিষয়টি কোতোয়ালী থানা পুলিশকে জানানো হয়।’

এরপর সকাল ১১টার দিকে পুলিশ গিয়ে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে বিকেলে এস আই মাহবুবুর রহমানকে নিজ বাহিনীতে হস্তান্তর করে তার সহযোগি কক্সবাজারের বাসিন্দা ফরিদুল আলমকে নিজেদের হেফাজতে রাখে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।